গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
আড়াই-তিন বছরের একটা ফুটফুটে ছেলে একা একা খেলছে। উঠোনের এপাশ থেকে ওপাশে যাচ্ছে আর নিজ মনে কথা বলছে। পাশের বাসার দেওয়ারের ফাঁক দিয়ে হামিদা বেগম শিশুটিকে দেখছিলেন। তিনি শিশুটির চঞ্চলতায় মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। খেলতে খেলতে হঠাৎ শিশুটিরও নজর পড়ল হামিদা বেগমের উপড়। সে একটু লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে হাসল। হামিদা বেগমও মিষ্টি করে হাসলেন। হেসে হেসেই জিজ্ঞেস করলেন,
- কি করছো তুমি?
শিশুটি তার হাতের ভাঙ্গা গাছের ডালটা দুলিয়ে দুলিয়ে হামিদা বেগমের আরো কাছাকাছি এগিয়ে এলো। কিন্তু কিছু বলল না। হামিদা বেগমের দিকে মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে থাকলো। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন,
- তুমি একা একা খেলছো বুঝি?
শিশুটি হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়াল।
- তোমার কি নাম? শিশুটি বেশ ¯^vfvweK হয়ে বলল,
- বাবা। আমার নাম বাবা। আমাকে তবাই বাবা নামে দাকে? হামিদা বেগম হেসে হেসে বললেন,
- তাই! তোমাকে সবাই বাবা ডাকে?
- হু। আমার কাকু বাবা দাকে, আব্বু বাবা দাকে, মামনি বাবা দাকে, আমার কুয়েল বাবা দাকে, আমার তাগলও আমাকে বাবা দাকে! হামিদা বেগম আবারো হাসলেন। হেসে হেসেই বললেন,
- তোমাকে ছাগলও বাবা ডাকে? শিশুটি আরো আগ্রহী হয়ে বলল,
- তবাই আমাকে বাবা দাকে। আমি তবার বাবা। হামিদা বেগম বললেন,
- আচ্ছা সবার বাবা, তুমি একা একা কি খেলছিলে?
- কেলতিলাম না তো। আমি আমার কুয়েলের তাথে কতা বলতিলাম। তুমি আমার কুয়েল দ্যাকবে? আমার দুই-তা কুয়েল আছে। দাঁলাও তোমাকে দেকাই, বলেই দৌঁড়ে কুয়েল আনতে চলে গেল। হামিদা বেগম বাউণ্ডারীর এপাশে দাঁড়িয়ে রইলেন।
উনারা এই বাসা ভাড়া নিয়ে উঠেছেন সপ্তাখানেক হল। ¯^vgx একটি বেসরকারী সংস্থা থেকে অবসর নেয়ার পর নিজেদের এলাকার gd¯^j শহরের এই বাসায় উঠেছেন। হামিদা বেগমের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়েটা বড়। বিয়ে হয়ে গেছে। ¯^vgxi বাড়িতে থাকে। তার বড় ছেলেটা বিয়ে করে চাকুরী সূত্রে বউ নিয়ে অন্য শহরে থাকে। ছোট ছেলে লেখা পড়া করে রাজধাণী শহরে। বাসায় হামিদা বেগম আর উনার ¯^vgxB থাকেন। তার ¯^vgx সারা জীবন চাকুরী করে সন্তানদের লেখাপড়া করানো ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে পারেন নি। উনি আবার বই পাগল মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় উনার পাঠাগারে। বাড়িতে একাই থাকেন হামিদা বেগম। উনার বাসার পাশের বাসা হচ্ছে এই ছেলেটির। ওদের বাসার চারপাশেই দেয়াল দেয়া। শুধু হামিদা বেগমদের বাড়িওয়ালার কিছু অংশ বাঁশের বেড়া দেয়া। আর এই ফাঁক দিয়েই কথা বলছিলেন।
শিশুটি একটা খাঁচা নিয়ে বেড়ার ওপাশে এসে দাঁড়াল। হামিদা বেগমকে দেখিয়ে বলল,
- এই দ্যাকো আমার কুয়েল পাকি। তিনি পাখিগুলো দেখে হেসে ফেললেন। বললেন,
- এটা তো ঘুঘু পাখি, কুয়েল বলছ কেন? সে প্রতিবাদ করে বলল,
- না, না, এতা আমার কুয়েল পাকি। তুমি তেন না। তারপর কুয়েলের দিকে তাকিয়ে বলল,
- এই কুয়েল, বাবা বল। বল না, বল, বাবা বল। পাখিগুলো কোন শব্দ না করায় সে হামিদা বেগমের দিকে একটু লজ্জিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে নিচু ¯^‡i বলল, - তোমাকে দেকে কতা বলছে না।
- আচ্ছা ঠিক আছে, অন্য দিন শুনবো। হামিদা বেগম এই কথা বলে হেসে সুন্দরভাবে জিজ্ঞেস করলেন,
- আচ্ছা কুয়েলের বাবা, তোমাকে তো বাসার সবাই বাবা বলে ডাকে, কিন্তু বাহিরের মানুষ কি বলে ডাকে? সে ঝটপট উত্তর দিল
- আমা-দেল পেপারমামা (পেপারওয়ালা) পাপন তোনা বলে দাকে।
- আচ্ছা পাপন সোনা, তুমি একটু দাঁড়াও। আমি চুলায় তরকারী বসিয়েছি তো, সেটা দেখে আসি।
- আত্তা। পাপন সম্মতি দিল। হামিদা বেগম তার কাছ থেকে চলে এলেন। পাপন সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। বাসার ভেতর থেকে তার মা ডাকলে সে-ও চলে যায়। পাপনদের বিরাট বাড়ি। বাড়ির মেইন গেট সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। সম্ভবত পাপন বেড়িয়ে যেতে পারে এই জন্য। তাই পাপন ওদের ছোট্ট আঙিনায় হেঁটে বেড়ায়। তার বয়েসি আর কোন বাচ্চা এ-বাড়িতে নেই যার সাথে সে খেলা করবে। কিংবা কোন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা মানুষকেও দেখা যায় না পাপনের খবরদারী করতে। তাই সে একা একাই তার কুয়েল, ছাগলের বাচ্চা আর উঠোনের ছোট্ট বাগানের গাছগুলোকে নিয়ে একটা নিজস্ব জগৎ গড়ে
তুলেছে। এখন অবশ্য তার জগতে আরেকজন যুক্ত হলেন। হামিদা বেগম। পাপন এদিকে এলেই বাঁশের বেড়ার কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। হামিদা বেগমও কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসে দাঁড়ান। দুজনের মধ্যে কত কিছু নিয়ে কথা হয়। তিনি তন্ময় হয়ে পাপনের কথা শুনেন। তার কথা মুখে আটকে যাওয়ার ফলে যে নতুন নতুন শব্দ তৈরী হয়, তার অর্থ উদ্ধার করতে পেরে তিনি যেন কিশোরীদের মত হেসে কুটিকুটি হন। পাপনও মনের সুখে কথা বলে যায়। একদিন পাপন হামিদা বেগমকে জিজ্ঞেস করল,
- তোমলা কোন বাতায় তাক? আমাদের চাদে উতলে তোমা-দেল বাতা দ্যাকা যায়? হামিদা বেগম বললেন,
- এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, আমার পিছনের বাসাটাই আমাদের। পাপন বুঝতে পেরেছে এমন ভাব করে বলল,
- ও।
- তুমি আসবে আমাদের বাসায়? এ কথা শুনে পাপন খুবই খুশি হল। খুশিতে তার চোখগুলো জ্বল জ্বল করে উঠল। তার পরই হঠাৎ মুখ করুণ করে বলল,
- কি কলে আতবো?
হামিদা বেগম চুপ হয়ে গেলেন। আসলেই তো! কি করে পাপন আসবে? এত বড় দেওয়াল তার পক্ষে পেরুনো সম্ভব নয়। তাকে আসতে হবে মেইন গেট দিয়ে বেড় হয়ে সদর রাস্তা ঘুরে। কারণ এদের বাসার গেট হামিদা বেগমদের বাসার গেটের বিপরীতে। পাপনও কোন কথা বলছিল না। হামিদা বেগম নীরবতা ভেঙ্গে পাপনকে বললেন,
- পাপনসোনা, তুমি সত্যি সত্যি আমাদের বাসায় আসতে চাও?
পাপন মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বলল।
- তাহলে তোমার আম্মুকে বল ছাদে উঠার জন্য। আমিও আমাদের ছাদের উপড় উঠব। দু-বাসার ছাদ একেবারে কাছাকাছি আছে। আমি তোমাকে কোলে তুলে নিয়ে আসবো।
- তুমি আমাকে কোলে তুলে নেবে! তাহলে আমি আম্মুকে বলি। পাপন দৌঁড়ে বাসার ভেতর চলে গেল। হামিদা বেগম নিজেদের দু’তলা বাসার ছাদে উঠলেন। দু-বাসার ছাদই বিশাল। হামিদা বেগমদের বাড়িওয়ালার বিশাল ছাদে তিনি পাপনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন। কিন্তু সে এলো না। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তিনি ভাবলেন, পাপনের মা হয়তো কোন কাজে ব্যস্ত। তাই আর নিয়ে আসেন নি। তিনি যে কাউকে ডেকে জিজ্ঞেস করবেন তেমন ব্যবস্থাও নেই। তাছাড়া কখনো ও-বাসার কারো সাথে তিনি কথা বলেন নি। পাপন ছাড়া আর কাউকে চেনেনও না। ভেবেছিলেন আজ পরিচিত হবেন, কিন্তু পাপনকে নিয়ে কেউ এলো না।
পরদিন হামিদা বেগম বাঁশের বেড়ার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। কিন্তু পাপনের দেখা পেলেন না। কাউকে পাপনের কথা জিজ্ঞেস করবেন তেমন কাউকে পেলেনও না। হামিদা বেগম দেখলেন পাপনদের বিশাল বাড়িতে লোক সংখ্যা একেবারেই কম। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। তিনি আসেন কিন্তু পাপন আর আসে না। একদিন তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, দেখলেন পাপন তাদের বারান্দায় একটা চেয়ারে বসে আছে। তিনি হাত ঈশারায় পাপনকে ডাকলেন। পাপন হামিদা বেগমকে দেখে অদ্ভুত চোখে তার দিকে তাকাল। তারপর হঠাৎ আম্মু আম্মু বলে কেঁদে দৌঁড়ে বাসার ভেতর চলে গেল। পাপনের ভয় পাওয়া চোখ দেখে হামিদা বেগম প্রথমে অবাক হলেন। কিছুই বুঝতে পারলেন না। ভাবলেন, কি ব্যাপার ছেলেটা তাকে দেখে এত ভয় পেল কেন। তারপর হামিদা বেগমের একটু একটু করে মনে পড়ল, ছোটবেলা মা তাকে প্রায়ই সতর্ক করে দিয়ে বলতেন, অপরিচিত মানুষ ডাকলে কাছে যেয়ো না। এরা ছেলেধরা। তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে। সেই থেকে কোনো অপরিচিত মানুষ দেখলেই হামিদা বেগমের চোখগুলোও পাপনের মত ভয় পেয়ে এমন অদ্ভুত হয়ে যেত।
লেবেলসমূহ:
গল্প
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
ডিপার্টমেন্টে নবীণবরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে।
মেয়েদের প্রেভিলিয়নের দিকে নজর রাখার দায়িত্ব পড়েছে প্রিতম, তৌসিফ আর মৃদুলের উপর। পিছন দিকে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছে আর মঞ্চের অনুষ্ঠান দেখছে। হঠাৎ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি মেয়ের দিকে হাত তুলে প্রিতম বলে উঠল- বন্ধু, দ্যাখ ওই মেয়েটার কী লম্বা চুল! যাকে বলে একেবারে কেশবতী!
মৃদুল ওদিকে তাকিয়ে বলল, মনে হয় পাশের কোনো কলেজের, অনুষ্ঠান দেখতে এসেছে। তথাকথিত গেস্ট হবে আর কী! তৌসিফ একটু ভেবে বলল, না-রে, মনে হয় আমাদের ডিপার্টমেন্টেরই, নতুন এসেছে। ঠিক ভালো ভাবে চিনতে পারতেছিনা। প্রিতম একটু ভেংচি মার্কা চেহারা করে বলে, আমাদের ভার্সিটির! আবার আমাদের ডিপার্টমেন্টের? তাও কী-না আমাদের চোখে পড়ে নি! কথাগুলো শেষ করে প্রিতম হাসলো। তৌসিফ আবার একটু সিরিয়াস হয়ে বলল- আরে, হতে পারে। আমার মনে হচ্ছে এমন লম্বা চুলের একটা মেয়ে দেখেছি। প্রিতম ব্যাপারটা বাদ দেয়ার মত করে বলে, আচ্ছা বাবা দেখেছিস ভালো হয়েছে। এখন দেখা গেল মেয়েটা আমাদের দিকে ফিরে তাকালো এ্যাঁইয়া বড় বড় দু‘খানা দাঁত বের করে। তারপর ধর গিয়ে, চেহারাখানা একেবারে তেলেছমাতি বেগমের মত! কথা শেষ হতেই তিনজন একসাথে হেসে উঠল।
তৌসিফ আবার বলল, না-না, তার উল্টোটা হবে। মৃদুল তৌসিফের থুথ্নিতে ঝাঁকি দিয়ে বলল, তুমি তো মামা, মি. আশাবাদী! তৌসিফ থুথনি থেকে মৃদুলের হাত সরিয়ে বলে, হলে?
তখন প্রিতম হেসে হেসে বলে, তাহলে এই তিন বছরে যে অসাধ্য সাধন করতে পারিনি, তার জন্য আদা আর কোল্ডড্রিংক্স খেয়ে লেগে যাবো!
এমন সময় অন্য সারি থেকে একটি মেয়ে এসে কেশবতী মেয়েটির পিঠে হালকা করে থাপ্পর দিল। সে পিছন ফিরে তাকিয়ে হেসে বলল, আরে মৌলি তুই? মৌলি বলল, তোদের না নবীণবরণ? তুই ভিতরে যাস নি? কেশবতী জানায় অনুষ্ঠানে আসতে তার দেরী হয়েছে, তাই সে ভেতরে যায় নি।
তৌসিফ তখন দাঁত কটমট করে বলে, বলেছিলাম না মেয়েটাকে কোথায় দেখেছি। আমি ওকে ভর্তির সময় দেখেছি। তোমরা তো ভাবো আমি শুধু গুল মারি! এমন সময় প্রিতমের দিকে তাকিয়ে মৃদুল বলে, কেউ যদি লাইনে দাঁড়াতে না চাও তাহলে বলে দাও। মেয়েটা দেখছি জটিল সুন্দরী! প্রিতম কেশবতীর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলে, আর কেউ লাইনে আসতে চাইলে খুন-খারাপি হয়ে যাবে! তৌসিফ খুব আগ্রহী হয়ে বলে, চল্ তাহলে মেয়েটাকে ডেকে নিয়ে আসি। জুনিয়র আছে কোনো প্রবলেম নাই। প্রিতম বাঁধা দিয়ে বলে, না-না, এভাবে না। আগাতে হবে অন্য প্রসেসে। ওর পাশে দেখ বড় আপু একজন আছে। উনাকে ধরতে হবে। মৃদুল বড় আপুকে চিনতে পেরে বলে, আরে সোনালি আপু দেখি! দাঁড়া আমি উনাকে ডেকে আনছি।
সোনালি এসেই জিজ্ঞেস করলো- কিরে তোরা! বল কেন ডেকেছিস? তৌসিফ বলে, আপু ঘটনা তো একটা ঘটে গেছে। সোনালি মুছকি হেসে বলে, তা তো বুঝতে পারছি। তবে সেটা কী? মৃদুল জানায়, ওই যে আপনার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল না! ওই যে চুল লম্বা মেয়েটা! সোনালি আবার জিজ্ঞেস করে- হ্যাঁ, কী হয়েছে?
তখন প্রিতম আমতা আমতা করে বলে, না আপু, এখনো কিছু হয় নাই। তবে হওয়ার জন্যই আপনার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন আর কী! সোনালি চোখ বড় করে বলে তাহলে এই অবস্থা! মেয়েটা কী এই বিল্ডিং এর?
সোনালির প্রশ্নের উত্তরে তৌসিফ জানায়, শুধু এই বিল্ডিং এর না, আমাদের ডিপার্টমেন্টেরও!
শুনে সোনালি মাথা দোলিয়ে বলে, তা ভালো। তবে আমাকে কী করতে হবে? প্রিতম জানালো, আপু, আপাতত নাম ও নাম্বারটা নিয়ে দিলেই হবে। সোনালি হেসে হেসে বলে- আপাতত আর ভাইতত যাই বল না কেনো, শুধু নামটা জেনে দিতে পারব কিন্তু নাম্বার না। জুনিয়র একটা মেয়ে, নাম্বার কীভাবে চাই! উত্তরে মৃদুল বলল, কী বলেন আপু! নামতো আমরাও জানতে পারব। আপনি কৌশল করে জাস্ট নাম্বারটা নিয়ে আসেন। প্রিতম একটু অনুণয়ের সুরে বলে, প্লিজ আপু! মৃদুল আবার যুক্ত করে- এই না হলে বড় বোন! ছোট ভাইদের যদি কোন উপকারই না করলেন! সোনালি একটু হেসে বলল, তোরা না! আচ্ছা দেখতেছি। তোরা একটু খাবার-দাবারের ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখিস!
সবাই সমস্বরে, অবশ্যই! অবশ্যই! বলে উঠে।
ভাসির্টির ভেতর একটা পুরনো দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রিতম। তার পাশে দেয়ালের উপর বসে আছে মৃদুল। তৌসিফ বসে আছে সামনের ব্রেঞ্চে। তার সাথে আছে ইনন ও পায়েল। মৃদুল তখন সবার উদ্দেশ্যে বলল, এই ছিল মুটামুটি গতকালের কাহিনী। এখন প্রিতম কীভাবে আগাবে তাই বলবে। মি. প্রিতম আপনি শুরু করেন। তার আগে তৌসিফ হাত তুলে বলে, আমার কিছু বলার আছে আজকের হাউজের সামনে। ইনন বলল, অনুমতি দেয়া হইল। আপনি বলিয়া বলিয়া যাইবেন না, বসিয়া থাকিবেন। তৌসিফ শুরু করে, যার নাম্বার পাওয়া গেল তার নামটার ব্যাপারে এই গরিবের একটু কৌতুহল আছে!
পায়েল টিপ্পনি কেটে জানতে চায়, আর কোনো ব্যাপারে নাই তো? তৌসিফ উত্তরে বলে, ওসব না হয় না-ই বললাম! আমি তার নাম নিয়ে দু‘চারটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম! শরীফা রাহমান টিয়া ; টিয়া কেনো? প্রিতম একটু ক্ষেপে যায়। বলে, ওই বেটা আমি ওর নামের আকিকার সময় ছিলাম নাকি? মৃদুল হেসে হেসে বলে, আবার শামসুর রাহমানের কোনো আত্নীয়-টাত্নীয় নয়-তো! তৌসিফ ভেটো দিয়ে বলে, এটা অবশ্যই না। কেননা, একজন কবি তার কারো নাম টিয়ে রাখবে না। পায়েল বলে, রাখতেও তো পারে। কবিরা তো একটু খেয়ালি হয়। তাছাড়া রবি ঠাকুর নিজের নাম রেখেছিলেন ভানু সিং। ‘সিং’ ব্যাপারটা কী অদ্ভূত! তৌসিফ আবার বলে, ময়না রাখলে তো ভালই হত। গান গাওয়া যেত- 'ও আমার ময়না গো...'
প্রিতম হেসে হেসে সায় দিয়ে বলে, অসুবিধা কী? এখন গাইবি- ও আমার টিয়া গো... সবাই হাসে।
ইনন প্রসঙ্গে নিয়ে আসে। বলে, আচ্ছা এবার বল কী প্ল্যান করলি? পটাবি কীভাবে? প্রিতম একটু নড়েচড়ে আরাম করে দাঁড়িয়ে বলে, আমি তাহলে তোদেরকে ব্যাপারটা বুঝাচ্ছি। ৩ মাসের একটা এসএমএস প্রজেক্ট। তিন গুণ ত্রিশ = ৯০ টা এসএমএস করবো। ফোন করব শুধু বিশেষ দিনগুলোতে। তবে প্রথম ফোন করব এসএমএস পাঠানোর ঠিক এক সপ্তাহ পর। দম নিয়ে আবার বলে, তোদের যার কাছে যা যা এসএমএস আছে দিস। আশা করছি তিন মাস পর তোদেরকে তোদের ভাবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবো! মৃদুল হেসে বলে, এমন পিকিউলিয়ার প্ল্যান কেনো বাপ? প্রিতম জানায়, আসলে আমি চাই আগে কথাবার্তা হউক। দুজন দুজনের সম্পর্কে কিছু জানি। দেখি সে কারো সাথে এঙ্গেজ কী-না? চোখের দেখাটাই তো আর সব না! পায়েল যোগ করে, তাই! চুল তো আর চীরদিন না-ও থাকতে পারে, বাট মন থাকবে। ইনন চোখ ইশারা করে বলে, জটিল প্ল্যান! তবে বন্ধু! আমার মনে হচ্ছে তুমি এইখানে ধরা খাবা! প্রিতম বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে জবাব দেয়, দ্যাখেন মিস ডাবল প্রিপজিশন. আপনি নামের দিক দিয়ে বড়লোক হতে পারেন। কারণ আপনার নামে আছে জোড়া প্রিপজিশন মানে in আর on! কিন্তু আমার বাবাও কম না! অন্ততঃ একটা প্রিপজিশন হলেও নামের সাথে দিছে। ওই প্রিপজিশনের কসম! টিয়া আমারই হবে। প্রিতমের কথা শোনে পায়েল বলে, তুই কিন্তু জিদ করছিস! প্রিতম গায়ে না নিয়ে বলে, করলাম! এই মন্তব্যে ইনন হঠাৎ বলে উঠে, তাহলে ধর বাজি! প্রিতম বলে, এখানে আবার বাজির কী আছে? তৌসিফ জিজ্ঞেস করে, মামা সাহসে বুক কাঁপে বুঝি? প্রিতম জানায়, বুক কাঁপবে কেন! মৃদুল যোগ করে, যদি তুই সাকসেসের ব্যাপারে ওভার সিওর থাকিস- তাহলে হয়ে যাক! প্রিতমও কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে, ওকে, আমার আপত্তি নেই! আগ্রহের সাথে ইনন বলে, ওকে! তাহলে আজ থেকে তিন মাস পর কোন এক চাইনিজে দেখা হচ্ছে সবার। দোয়া করি বিলটা যেন তোকে না দিতে হয়! আফসোসের সুরে পায়েল বলে, বেচারাকে চাপ দিস না ইনন! প্রিতম কিঞ্চিত রাগত স্বরে বলে, হোয়াট! তোদের জেলাস হচ্ছে বুঝি! তোদের পটাই নি বলে? পায়েল উত্তরে বলে, এই ক্ষমতা তোমার নাই মামা! প্রিতম- আচ্ছা দেখিস তাহলে! মৃদুল হিসেব করে বলে, তিন মাস মানে আজ নভেম্বরের ১৪ তারিখ আগামী ফেব্রুয়ারীর ১৪ তারিখ। তৌসিফ চেঁচিয়ে বলে, তার মানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে! প্রিতম খুশি হয়ে ওয়াও উচ্চারণ করে উঠে। তারপর বলে, আশা করছি তোদের বিমুখ করব না।
ইনন বলে- আমরাও আশা করছি বিমুখ হব না!
পরদিন থেকে প্রতি রাতে দশটায় নিয়ম করে নতুন একটা মোবাইল থেকে প্রিতম নিয়মিত ভাবে এসএমএস করতে থাকে। আর ক্যাম্পাসে টিয়ার সহপাঠি কিংবা তার নিজের বন্ধু-বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করে টিয়া সম্পর্কে জানতে থাকে। এই জানার পাশাপাশি সে মুটামুটি রুটিন করে টিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে থাকে। লাইব্রেরী, ক্যান্টিন, ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ যেখানে তাকে পাওয়া যায়; প্রিতম সেই সকল জায়গায় আনাগোনা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কাস আর কাসমেটদের সাথে একটা ছোটোখাটো গ্যাপ তৈরী হয়। বন্ধু-বান্ধবরা অনেকে টিজ করে বলে, এক সপ্তাহেই এই অবস্থা! পরে তো দেখছি আমাদের একেবারে ভুলে যাবি রে প্রিতম। তবে এক সপ্তা টানা কাটায় কাটায় দশটার সময় এসএমএস করেও কোনো সারা পায়নি সে। তার মোবাইল অন থাকা সত্তে¡ও কখনো কোনো এসএমএস করেনি টিয়া অথবা মিসডকল কিংবা কল। প্রিতম ভাবে মেয়েটা বড় কঠিন! একে পটাতে বেগ পেতে হবে নিশ্চিত। তারপরও সে হাল ছাড়ে না। সে ডিটারমাইন্ড হয় তিন মাস এসএমএস এর ব্যাপারে। এভাবে এক সপ্তা পর প্ল্যান মোতাবেক একদিন রাতে এসএমএস না করে দশটার এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ ঠিক এগারোটায় ফোন করে প্রিতম।
_: হ্যালো! স্লামালাইকুম।
-) কেমন আছেন? সালামের উত্তর না দিয়ে প্রিতম জিজ্ঞেস করে।
_: ভালো আছি, কিন্তু আপনি কে? টিয়ার প্রশ্ন।
-) আমি সে, যে প্রতিদিন রাত দশটায় আপনাকে এসএমএস করে।
_: তা-তো নাম্বার দেখেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপনি এসএমএস করেন কেন? আর ফোন-ই বা করলেন কেন? আমি সাধারণত অপরিচিত নাম্বার রিসিভ করি না এবং কথা বলতেও আগ্রহ পাই না।
-) ওকে! আমি আপনাকে বিরক্ত করবো না। আমার এসএমএস গুলোর শেষ অক্ষর দেখে হয়তো নাম জেনে গেছেন; তার পরও বলছি- ‘Pretoom’
_: তো! ও-পাশ থেকে সংক্ষিপ্ত উত্তর।
-) তো-কিছু না। ভাবছি নামটা ÔWorld name championship’ এর জন্য পাঠাবো। আপনার কাছে কেমন লাগল; তা-ই জানতে চাচ্ছিলাম আর কি! প্রিতম হেসে উত্তর দিল। আ...চ্ছা! উত্তরটা পেয়ে গেলাম। যাই হউক, রেখে দিই। চুলায় কিছু চড়িয়েছেন বুঝি?
_: আপনি তো বড় অদ্ভূত! চুলায় কি চড়াবো?
-) না। যে ভাবে তাড়াহুড়া করছেন তাই ভাবলাম...
_: হ্যাঁ, চুলায় চাল বসিয়েছি। এখন তরকারি কুটব, মাছ বানাবো, রাঁধবো, খাবো এবং ফোন রাখবো। ok!
-) ok, রাখেন। তবে মাঝে মধ্যে মাংস-টাংস রাঁধেন কী-না খুঁজ নেব।
_: never-ever! আমার নাম্বারে পরিচিত ছাড়া কেউ ফোন দেয় না এবং আমি অপরিচিত নাম্বার রিসিভ করিও না। সুতরাং...
-) কই, আপনার নাম্বার দেখে তো মনে হচ্ছে না এটা শুধু পরিচিতজনদের জন্য! আমার কল তো গেল। তাছাড়া আপনার অভিবাবক দেখছি বেশ কট্টরপন্থি!
_: আমার বাবা কখনো এমন না। এ রকম মন্তব্য কখনো করবেন না।
-) আসলে অন্য অভিবাবকের কথা mean করছিলাম!
_: এর বাহিরে কোনো অভিবাবক থাকুক; এটা আমি পছন্দ করি না।
-) Fine কিন্তু well wisher অথবা Partner এর ক্ষেত্রে ?
_: ভেবে দেখিনি অথবা বলতে পারেন আগ্রহ নাই।
-) কারণটা জানতে পারি?
_: না, পারেন না।
-) ok! কিন্তু চালের কনডিশনটা তো জানতে পারি?
_: (ও-পাশ থেকে হাসির শব্দ আসে।)
-) তাহলে ভালো থাকবেন।
_: ok।
-) বাই। লাইন কেটে গুণগুণ করে গান ধরে প্রিতম।
‘ওরে আমার টিয়া পাখি চিননা আমারে, তুমি চিননা আমারে। যে জন তোমার মন জিতিবে এসএমএস করে, তুমি চিননা তারে।’
এভাবে আরো কিছুদিন কথা বলে, বিভিন্ন জায়গায় স্বতঃস্ফুর্ত টিয়াকে দেখে এক সময় প্রিতমের সিরিয়াসলি ভালো লেগে যায়। আর প্রিতম যেহেতু চায় না টিয়া তার কোনো কারণে বিরক্ত হউক, তাই সে যখন-তখন ফোন কিংবা সরাসরি দেখা করে না। শুধু আড়াল থেকে, কখনো চলতি পথে, লাইব্রেরী, ডিপার্টমেন্ট কিংবা ক্যান্টিনে দেখে নেয়। টিয়ার দৈনন্দিন রুটিনের সাথে মিলিয়ে এগোতে থাকে প্রিতমের ভার্সিটির দিনগুলো। অথচ সামনে তার অনার্স ফাইনাল। কিন্তু কাসের প্রতি অমনোযোগি। তাই কাসমেটদের সাথে বেড়ে যাচ্ছিল দূরত্ব। এই কয়দিনে কেমন পাল্টে গেছে প্রিতম। তার বন্ধুরা এই ব্যাপারটা মার্ক করে, জানতে চায় তার কী হয়েছে। ইনন তো একদিন বলেই ফেলল, এখনই যে অবস্থা! টিয়াকে পেলে তো আমাদের চিনবি নারে প্রিতম। প্রিতম হাসে। সে ভাবে কীভাবে বুঝিয়ে বলা যায় টিয়াকে তার মনের কথা। এর ভেতর একদিন এসএমএস এল টিয়ার। সে যে কী খুশি, পারলে লাফায়। বার বার পড়ল সেটা।
টিয়া লিখেছেÑ ‘ আপনি অনেকদিন যাবৎ প্রতি রাতে দশটায় এসএমএস পাঠান। ব্যাপারটা ইন্টারেসটিং। কিন্তু আমি ইন্টারেস্ট পাই না। আমি চাই, আপনি আর আমাকে কখনো এসএমএস করবেন না। কখনোই না।’
এই অসম্মতিমূলক এসএমএস টা-ই প্রিতম তার মেসের সকলকে দেখায়। তার কেনো যেনো মন খারাপ হয় আবার আনন্দও হয়। সে ওই হিন্দি ডায়লগটার মত ভাবে, ‘নাফরাত্ হি সাহি, লেকিন কুচ তো কিয়া’ তখনই সে টিয়াকে ফোন করে।
_: হ্যালো। কে? ও-পাশ থেকে জবাব আসে অপরিচিতের মত।
-) চেনেন না? প্রিতম ঠাণ্ডা গলায় জানতে চায়।
_: আপনার তো ফোন করার কথা না।
-) আপনারও তো এসএমএস করার কথা ছিল না।
_: কী চান আপনি? হোয়াট ইউ ওয়ান্ট?
-) ‘সীতা কার বাপ’ জানতে চাচ্ছেন?
_: দেখুন, আপনাকে তো বারবার বললাম, আমি এসবে আগ্রহী নই।
-) কিন্তু বন্ধু হতে আপত্তি কোথায়?
_: আছে। কারণ, এখান থেকেই দুর্বলতার শুরু।
-) আমি অনেকগুলো মাল্টিভিটামিন দিয়ে দেব; দুর্বল হবেন না।
_: সমস্যা আছে। আমি দুনিয়ার সবার সাথে বন্ধুত্ব করলেও আপনার সাথে করব না।
-) আমার অপরাধ?
_: বললাম না সম্ভব না।
-) ok, এই কথাটাই সরাসরি শুনতে চাই।
_: না। কী দরকার...
-) একই ডিপার্টমেন্টে আছি। তাছাড়া আমাকে তো চিনেন-ই মনে হয়। এত ফলো করি!
_: দেখা হলে কী বলতে হবে?
-) যা খুশি।
_: তাহলে কাল বিকালে ডিপার্টমেন্টে থাকবেন। আমি পরীক্ষার পর দেখা করব।
চৌদ্দ তারিখ ২টার দিকে প্রিতম পৌঁছে যায় চাইনিজে। সেখানে আগে থেকেই ছিল মৃদুল, তৌসিফ, পায়েল। শুধু ইনন তখনো আসেনি। মৃদুল বলে, খিদায় পেটের ভিতর চুচু তার ফুল ফ্যামেলি নিয়ে দৌঁড়াচ্ছে। তাড়াতাড়ি অর্ডার দে। তৌসিফ ও বলে, আমার পেটেও দাউ দাউ করি আগুন জ্বলতেছে। আস্ত মুরগ দিলেও সেটা সেদ্ধ হয়ে যাবে। হারি আপ ম্যান। প্রিতম জিজ্ঞেস করে, ইনন আসার আগেই অর্ডার করবি? পায়েল বলে, তোরা মেনু দেখ আমি ইনুকে কল দিচ্ছি। অর্ডার শেষে সবাই মিলে গল্প করছে। প্রিতম বলছে, শেষ পর্যন্ত একজনকে মন দিয়ে অনুভব করেছিলাম কিন্তু সে বুঝল না। আমার ইমিডিয়েট বড় বোন মাস্টার্স করছে স্থানিয় একটা কলেজ থেকে তা তো তোরা জানিস। তা না হলে বাসায় বলতাম, টিয়ার বাসায় প্রস্তাব পাঠানোর জন্য। বাই আই হ্যাভ সাম লিমিটেশন! মেয়েটা বুঝল না। ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখন আমার কাছে প্রতি বছর কারো স্মৃতি নিয়ে আসবে। যা দুঃখে থাকবে Full fill। সবাই প্রিতমের কথা শুনে মন খারাপ ভাব নিয়ে মাথা দোলাচ্ছে। খাবার নিয়ে আসছে দেখে প্রিতম মোবাইল থেকে ইননকে কল দিল।
_: হ্যা, প্রিতম!
-) ইনন, কই তুই? খাবার তো ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে!
_: আমি তোর পিছে। একথা শুনে প্রিতম পেছন ফিরে তাকায়। দেখে ইননের সাথে টিয়া। সে তো অবাক! কিছু বলার আগেই মিটিমিটি হেসে টিয়া বলে, বন্ধুদের খাওয়াবেন, আমাকে খাওয়াবেন না? প্রিতম উঠে চেয়ার ছেড়ে জায়গা করে দিতে দিতে ইননের দিকে তাকিয়ে বলে, ই...নু!
ইনন বলে, বন্ধু আসলেই হেরে গেছি আমি। টিয়ারও তোকে ভালো লাগে। বাদ-বাকী ইতিহাস টিয়া তোকে পরে বলবে। এখন খাওয়া শুরু করা যাক।
খাবার আগে এক তোড়া ফুল টিয়ার হাতে দিয়ে প্রিতম বলে, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে! সাথে সবাই রিংয করে। খাওয়া শুরু করতে করতে ইনন বলল, হ্যাঁ প্রিতম, তোকে একটা কথা বলা হয় নি; তা হচ্ছে, টিয়া কিন্তু আমার রুমমেট! প্রিতম যেনো বেকুব বনে যায়। অবাক হয়ে বলে, তার মানে? হলে তোরা এক সাথে থাকিস! তারপর মাথায় হাত দিয়ে বলে উঠল, ও মাই গড! এভাবে ধরালি আমাকে! ‘কেশবতীর গল্প’ তাহলে তোরাই ডিরেক্ট করলি? সঙ্গে সঙ্গে সবাই উচ্চ স্বরে হেসে উঠল।
তার সঙ্গে সঙ্গে যেন এক মায়াবী ঝংকারে কেঁপে উঠল রেস্তুরার চারপাশ।
লেবেলসমূহ:
গল্প
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
কয়েকজন বন্ধু ক্যাম্পাসের এক কোণায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। ভার্সিটির এই জায়গা থেকে সবকিছু দেখা যায় আবার আড্ডাও দেয়া যায়। তখন নাসিম কনককে বলে, ঐ দেখ শীলা। নাসিমের কথা শুনে সবাই সেদিকে তাকায়। মাসুদ বলে, শীলা মনে হয় কনককেই খুঁজছে। তবে এদিকেই আসবে; এটা নিশ্চিত। সে এমন ভাবে কথাগুলো বলে যে কথা শেষ হওয়ার পর সবাই মুখ টিপে হাসতে থাকে। কনক কিছুটা লজ্জা পায়। বলে, আমাকে কেন? শীলা তো তোদেরও খুঁজতে পারে। সে তো সবারই ক্লাসমেট। আফসার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে- তা ঠিক। তবে ভাইয়া কিঞ্চিৎ ব্যবধান আছে যে! শীতল আগ্রহী হয়ে জানতে চায়- ব্যবধান মানে! বুঝলাম না তো? ততোক্ষণে শীলা এসে গেছে। বসতে বসতে শীতলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, কি বুঝলি না? শীতল কিছু বলতে যাচ্ছিল কনক তাকে থামিয়ে বলে, আরে শীলা তুইও বুঝিস না। শীতলের দিকে ইশারা করে বলে, ওতো একটা টিউব। সব সময়ই একটু পরে জ্বলে। সবাই কনকের কথা শোনে হেসে উঠে। কনক শীলাকে বলে, তুই কি হেডের সাথে দেখা করেছিস? হেড তো বাত্তি জ্বালাইয়া তোরে খুঁজতেছে। শীলা ঠোঁটে কামড় দিয়ে বলে, ইসরে আমার একদম মনে নেই। আচ্ছা, স্যার কেন খুঁজছে জানিস কিছু। লতাও শীলার মত সিরিয়াস হওয়ার ভান করে কনককে জিজ্ঞেস করে, হ্যাঁ! তুই কিছু জানিস? লতার কথায় শীলা ও কনক ছাড়া বাকীরা সবাই হিঃ হিঃ করে হেসে উঠে। এতে শীলা একটু লজ্জা পায়। তারপর ¯^vfvweK হবার জন্য বলে, মানে তোরা কেউ কিছু জানিস নাকি? নাসিম বলে, আমরা শুধু জানি হেডে তোমারে বুলাইছে। ক্যান বুলাইছে হেউডা হেডেই ভাল বলতে পারবে। তাই না? বলে মাসুমের দিকে তাকায়। মাসুমও মাথা দুলিয়ে সমর্থন জানায়। শীলা একটু চিন্তা করে বলে, স্যার আমাকে নিশ্চিত বকবে। এ কথা শুনে আফজাল বিজ্ঞের মত মন্তব্য করে, স্যার কাউকে ডেকেছেন আর বকেন নি- এমন তো কখনো হয় নি! মাসুমও আফজালকে সমর্থন করে বলে, তুই ঠিকই বলেছিস। কেউ যদি একশতে একশ পায় আর স্যার তাকে ডেকে নেন, তবে নিশ্চিত যে তাকে ধমকিয়ে স্যার বলবেন, তুমি কেমন স্টুডেন্ট বলতো, আরেকটু সিরিয়াস হতে পারলে না? নিজের কথা শেষ করে মাসুম নিজেই হাসে। শীলা দুঃখি দুঃখি হয়ে বলে, আমি বুঝতে পারছি না। কনক, তুই চল না আমার সাথে। প্লিজ! শীলার কথা শোনে কনক অপ্রস্তুতের মত চেয়ে থাকে। তখন লতা বলে, যা না কনক, বেচারী একা একা যেতে ভয় পাচ্ছে। তোর যাওয়া উচিৎ। আফসার সুর মিলিয়ে বলে, শুধু উচিৎ নয় কর্তব্যও বটে! শীলা আবারো উঠতে উঠতে তাড়া দিল কনককে। নাসিম কনকের পিঠ চাপড়ে বলে- যাও মামা, যাও! সবার দিক থেকে চোখ সরিয়ে শীলার দিকে তাকিয়ে কনক বলে, চল। ওরা যখন চলে যাচ্ছিল তখন শীতল চেচিয়ে বলে, ভোল্টেজ ঠিক থাকলে টিউব একদিন ঠিক সময় জ্বলবে। কনক পিছন ফিরে শীতলের দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে চলে যায়।
হেডের রুমে দুজন চুপচাপ বসে আছে। স্যার হাতের কাজ শেষ করে জিজ্ঞেস করেন, তা কনক তুমিও ওর সাথে এসেছো। ভাল। কনক বলে, স্যার আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। স্যার হু বলে তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা এখন মাস্টার্স এ উঠে গেছ। এখনও যদি নিয়ম কানুন ভাল ভাবে না জানো, তা হলে কিন্তু বিরাট অন্যায়। শীলা বলে, স্যার, কি করেছি স্যার বুঝতে পারছি না। স্যার চেয়ারে হেলান দিয়ে বলেন, তুমি তোমার প্রপোজাল সীটের এক কপি অফিস থেকে নিয়ে গিয়েছিলে, কিন্তু এখনো তা ফেরত দাও নি। আমাকে অফিস থেকে ঘটনাটা জানালো। কারণ ওই বিষয়টা আমার ছিল। শীলা তৎক্ষণাৎ সরি স্যার বলে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে চাইলো। স্যার তাকে থামিয়ে একটু হেসে বললেন, দেখ ইংরেজরা আমাদের এই শব্দটা দিয়েছে বলে সব সময়ই তার ব্যবহার করতে হবে- তা কিন্তু ঠিক না। শীলা বলে, আমি আসলে স্যার জুনিয়র একটা মেয়েকে দিয়েছিলাম আর বলেছিলাম জমা দিয়ে দেয়ার জন্য। স্যার একটু আশ্চর্য হয়ে বললেন, তাই বলে খবর নিবে না! তারপর কোমল ¯^‡i দু’য়েক দিনের ভেতর দিয়ে দেবার জন্য বলেন। কনক শীলার পক্ষে সাফাই করে বলে, দু'য়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দিবে স্যার। আমরা তাহলে যাই স্যার। ওকে আবার এসো বলে স্যার তাদের বিদায় জানান।
কনক ও শীলা একই ডিপার্টমেন্টে মাস্টার্স করছে। অর্নাসও করেছে এক সাথে একই বিষয়ে। অনার্সের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এরা খুবই ভাল বন্ধু। দুজনের আন্ডারস্ট্যান্ডিংও চমৎকার। বন্ধু-বান্ধবরা এদের সম্পর্ক নিয়ে শীলার আড়ালে কনককে আর কনকের আড়ালে শীলাকে ক্ষ্যাপায়। এদের আচরণে ভাল ভাবেই বুঝা যায় যে একে অন্যকে পচন্দ করে। কিন্তু দুজনই এমন চাপা ¯^fv‡ei যে কেউই এই ভাল লাগা প্রকাশ করতে চায় না। বন্ধুরা ব্যাপারটা অনেক দিন থেকেই দেখছে। তাই সবাই মিলে ঠিক করে, কিছু একটা করা দরকার। আর তাই সিদ্ধান্ত হয় সামনের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এই একবিংশ শতাব্দির ‘বুক ফাঁটে তো মুখ ফুঁটে না’ জুটির জন্য কিছু একটা করা হবে।
এক বিকেলে লতা আর নাসিম কনকের বাসায় যায়। তারা কনককে জানায় যে, আগামীকাল ভালবাসা দিবস উপলক্ষে সবাই এক হয়ে একটা রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেবে। সে যেন সকাল দশটার মধ্যে সেখানে পৌঁছে যায়। আর শর্ত হচ্ছে সাথে মোবাইল নেয়া যাবে না। শর্ত শোনে কনক কারণ জানতে চাইলে লতা বলে, আমরা চাই একটা দিন অন্ততঃ এই চৌকিদার বিহীন কাটুক আমাদের। অর্থাৎ কিপ সাইলেন্ট আর কি!
ওদিকে শীতল আর আফসার যায় শীলার বাসায়। তারাও শীলাকে একই কথা বলে চলে আসে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে দশটা বাজার আগে নাসিম চলে যায় কনকের বাসায় আর লতা যায় শীলার বাসায়। নাসিম পৌঁছে দেখে কনক মোটামুটি রেডি হয়ে আছে। সে কনককে বলে, দোস্ত ঘটনা তো ঘটে গেছে। যাইহুক, তুই যেহেতু শীলাকে কিছু বলিস নি তাই আর কিছু বলতেও যাস না। কারণ আজ নাকি শীলা তার প্রেমিকের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিবে। শোন, তুই একদম ¯^vfvweK থাকবি। কোন ইমোশনাল কাজ-কারবার করতে যাবি না। কনক অবাক হয়ে বলে, তুই কি বলছিস! নাসিম বলে, আমি যা বলছি তা তুই একটু পরেই দেখতে পাবি। নিজেকে শক্ত রাখিস। আবার কনক বলে, আরে ধূর! আমি আবার ইমোশনাল হতে যাবো কেন? কিন্তু শীলা হঠাৎ... মানে কার সাথে... কনক বিড় বিড় করে। তখন নাসিম বলে, তুমি শালা চুপ করে থাকবা আর সে তোমার অপেক্ষায় বুড়ি হইবো; এইটাই চাইছিলা না? যাই হোক সবাই হয়তো পৌঁছে গেছে। তুইও সেখানে যা, আর শোন, যেহেতু ফুলগুলো কিনেছিস সাথে করে নিয়ে যা। আমি একটু পরে আসছি বলে নাসিম চলে যায়। এদিকে কনক যেন কিছুই বুঝতে পারে না। তবুও ঘোরলাগা মানুষের মত ফুলগুলো নিয়ে বের হয়।
ঠিক একই কাণ্ড ঘটে শীলার সাথেও।
রেস্টুরেন্টে কনক পৌঁছার সাথে সাথেই শীলাও চলে আসে। দুজন এসেই শুকনো হাসি হেসে ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। দুজনের হাতেই ফুল। কিন্তু কেউ কাউকে দেয় না। শীলা ভাবে কনক ফুলের তোড়া নিশ্চয় তার প্রেমিকার জন্য এনেছে। তাই তাকে দেয় নি। অসুবিধা কি সেও শক্ত মেয়ে। এই ফুলগুলো দিয়েই কনকের প্রেমিকাকে শুভেচ্ছা জানাবে। যতই কষ্ঠ হউক কনককে বুঝতে দিবে না। অপর দিকে কনক ভাবে, দেখ অবস্থা, কি সুন্দর করে সেজে এসেছে! হাতে আবার ফুলও! ভাল। আমিও শক্ত ছেলে ফুল নিয়ে এসেছি তো কি হয়েছে? এই ফুল দিয়ে তোর প্রেমিককে শুভেচ্ছা জানাবো। ভেবেছিস আমি ভেঙ্গে যাব, না ? এসময় দুজনের চোখাচোখি হলে আবারো শুকনো হাসি বিনিময় করে দুজন চুপচাপ বসে কোল্ডড্রিংসের অর্ডার দেয়।
ড্রিংস খেতে খেতে ভার্সিটিতে অতিবাহিত বিগত দিনের স্মৃতি মনে পড়ে দুজনেরই। একবার কনক কি কারণে যেন ক্যাম্পাসে আসছিলনা। মোবাইলও বন্ধ। শীলা তখন অনেক কষ্ঠে ঠিকানা জোগার করে কনকের বাসায় হাজির। সেই সময়ই কনক গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছে। এসে দেখে তার মার পাশে বসে আছে শীলা। কনক অপ্রস্তুত হয়ে মাকে বলে, তোমাদের পরিচয় হয়েছে মা। মা মিটিমিটি হেসে বলেন, হ্যাঁ, ভাল করেই হয়েছে। এখনও শীলার কথা মাঝে মধ্যেই তিনি কনকে জিজ্ঞেস করেন আর বলেন, মেয়েটাকে তো আর নিয়ে এলি না। কনক ভেবেছিল বিয়ে করে নিয়ে যাবে, মা ও খুশিই হবেন। কিন্তু এখন! কোল্ডড্রিংস খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে একে অপরকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে আর দাঁত কটমট করছে। আবার চোখাচোখি হলেই মুখ রক্ষার হাসি দিচ্ছে। শীলার মনে পড়ে, একদিন সে লাইব্রেরী ওয়ার্ক করছিল। তাই মোবাইলও বন্ধ। কিন্তু কি একটা খবর দেয়ার জন্য শীলাকে খুঁজছে কনক। ইউনিভার্সিটির সব জায়গায় খুঁজে অবশেষে লাইব্রেরীতে এসে পেল। সামনে এমন ভাবে বসল যেন শীলা এখানে এসে মস্তবড় অপরাধ করেছে। রাগে কনকের সে কি অবস্থা! তার চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। বারবার জিজ্ঞেস করার পরও তাকে খুঁজার কারণ বলছিল না। পরে যখন অনেক অনুরোধ করার পর বলল তা শোনে মুখ বন্ধ করে শীলা হো হো করে হেসে উঠে।
শীলা কনকের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এই গাধাটা আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারলো! তার চোখ টলমল করে উঠে। তাই সে বুঝতে পারে, এখানে বেশীক্ষণ থাকা ঠিক হবে না। সে হয়তো নিজেকে সামলাতে পারবে না। তার চেয়ে কনককে নতুন জীবনের শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে যাওয়াই ভাল। ওদিকে কনক ভাবে কাউকে যদি তার ভাল লেগে থাকে তবে সে হচ্ছে শীলা। আর এই শীলাকে অন্যের সাথে দেখে কখনোই সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না। তাই যা হবার হউক শীলাকে যে ভালবাসতো একথা বলে চলে যাবে। এমন সময় শীলা উঠে দাঁড়ায়, কনকও উঠে দাঁড়ায়। শীলা কনকের দিকে চেয়ে বলে, তোকে আমি কিছু বলতে চাই। কনক থামিয়ে বলে, তুই কিছু বলার আগে আমার কথা শোন। টলটল চোখে বলতে থাকে, এই জীবনে আমি এক জনের সাথেই মিশেছি, খুব আপন বলে জেনেছি। তাই ঠিক করেছি যা আছে কপালে হবে, তাকে আমি আমার ভাল লাগার কথা বলেই ফেলবো। হয়তো দেরী হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও । এতদিন না বলে যে ঠকা ঠকেছি আজ না বললে আর কখনোই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। একথা বলে ফুলের তোড়াটা হাতে নিয়ে শীলার ফুলসহ দুহাত চেপে ধরে মাথা নিচু করে আবারো বলতে থাকে, শীলা তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোকেই ভালবাসতাম, ভালবাসি, ভালবাসবো। তারপর জলমগ্ন চোখ তুলে শীলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, তোর মনের মানুষকে এই ফুলগুলো দিয়ে শুভেচ্ছা দিস। তখন অবাক হয়ে শীলা কনকের হাতে ঝাঁকি দিয়ে বলে, এসব তুই কি বলছিস? আমার মনের মানে? আমার মনের মানুষ তো তুই? তুই এসব কি বলছিস পাগলের মত?
এরকম একটা আবেগময় মুহূর্তে হাততালি দিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে তাদের বন্ধুরা। নাসিম চেচিয়ে বলে, সব কিছুর মানে আমাদের কাছ থেকে শোনো। তারপর বসতে বসতে আফসার জানায়, সবই ছিল আমাদের প্ল্যান! শীতল কনককে উদ্দেশ্য করে বলে, খুব তো আমাকে টিউব বলতি, আমার নাকি ভোল্টেজের ঘাটতি তাই দেরীতে জ্বলি। তোর তো পুরা ভোল্টেজ ছিল। তাহলে এত দেরী হল কেন জ্বলতে? শীতলের কথা শোনে সবাই হেসে উঠে। মাসুদ বলে, আর এই প্ল্যানটা না করলে তোমরা কোন দিনও প্রকাশ করতে না। আফসার তার সাথে যোগ করে, যে চাপা ¯^fv‡ei দুজন! কনক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে- তোরা না! কনকের একেবারে ঘনিষ্ট হয়ে চোখ মুছে হাসি হাসি মুখে শীলা বলে, থ্যাংকস, থ্যাংকস ফর অল। বন্ধুরা কনক ও শীলার উদ্দেশ্যে উচ্চ স্বরে বলে, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে।
লেবেলসমূহ:
গল্প



.jpg)