আলোচনা-সমালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আলোচনা-সমালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
‘পরম্পরা’ কবিতার শুর“তে একটা নিয়মের পরম্পরা লক্ষ্য করা যায়। মাত্রার
নিয়ম মেনে প্রতি চরণে অন্তমিল; আমাদের কবিতায় ছন্দের অর্থাৎ মাত্রার
প্রাচুর্য এবং বাধ্যবাদকতা আর তার মান্যকাল কিংবা আজ্ঞাবহকালের কথা
মনে করিয়ে দেয়। যখন অন্তমিলকে-ই অনেক কবিতা-প্রেমি মতান্তরে কবিতা-
শাসকরা মনে করতেন আসল জিনিস অর্থাৎ ‘প্রকৃত কবিতা’।
ফেরার ই”েছ প্রবল রোমান্টিক আবহের প্রতীকি বিন্যাস। বিষয়ে, ভাষার
উপলব্ধিতে, বর্ণনায়- এই সময়ের কবিতা।
ফে.ই- কবিতার প্রথম পংক্তি যদি কবির নিজের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে ভাব ঠিক
আছে শুধু যতি চিহ্নের সমস্যা ছাড়া। কেননা, কবি নিজেকে এড্রেস করলে
কমা ব্যবহার করবেন কেন? আর যদি সার্বজনিন করতে চান অর্থাৎ কথক নিজে
হয়ে পাঠককে এড্রেস করা তাহলে ঝামেলা হয়ে গেল। তৃতীয় স্ট্রোঞ্জায় নিজের
উপ¯ি’তি কবিতাটিতে ভাবকে এলোমেলো করে দিয়ে কবিতা হওয়ার পক্ষেই অš
—রায় হয়ে দাঁড়াল! সুরীন্দ্রনাথ ছন্দ সম্পর্কে সেই যে উক্তি করেছিলেন,
সাধারণত, মাত্রা ঠিক রাখতে এবং ছন্দে থাকতে একটা অভ্যাস গড়ে তুললেই
লাভবান হওয়া যায়। আর সেই অভ্যাসটা হ”েছ শব্দ বিন্যাসের বিজোড়ে
বিজোড় গাঁথ, জোরে গাঁথ জোড়। এর ফলে গদ্যরীতির কবিতায় অক্ষবৃত্তের
ছন্দত মুক্তক ছন্দ সাবলিল হয়ে উঠল।
কবিতা পড়ছি আর লক্ষ্য করছি, “এই রীতি ভর করেছে মামুনের কবিতায়।
কিš‘ তিনি হয়ত ঠিক করেছেন ব্যাকরণ জেনে লিখবেন না। যার ফলে ই”ছায় কি
অনি”ছায় ছন্দ্র পতন হ”েছ। অবশ্য একে মাত্রা পতন-ই বলা ভাল। যদিও ব্যাকরণ
মেনে লিখা কবির একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। আর আমি মনে করি না প্রকৃত
কবিতার জন্য এটা কোন ফ্যাক্টর।
“যেটা শিকার”- শারীরিক আবহের কবিতা। মাত্র দুটি উদ্বৃতিতে
কবিতাটি রচিত হয়েছে। প্রথমটির কথক কবি নিজে। দ্বিতীয়টি নিজেই
চিহ্নিত করে দিয়েছেন। ফ্রয়েডের লিবিডো যখন প্রভাব বিস্তার করছে তখন
কবি অন্য ঠোঁটের গীতিকাব্য আকঁলেন জ্বলজ্যান্ত ভাষায়
“তারার ফসিলে কোনদিন
অমাবস্যা পেলে
ডেকে নিও রাতের গুহায়।
তবে এই কবিতাতেও আবার সেই কথক বিরম্বনা কথকের এলোমেলো বিস্ত
ারে কবি না পাঠক বিভ্রান্ত প্রশ্নসাপেক্ষ।
তার অনেকগুলো কবিতাতেই সঞ্চারী পড়ে মনে হয়েছে এগুলোই সব, আর
কিছর দরকার নেই। অনেক ক্ষেত্রে কবিতার ভেতরে প্রবেশের পূর্বের মনে হয়েছে
বাকীগুলো বোধহয় বিস্তার। তার সঞ্চারীগুলোর দু’বার আবেদন আমাকে
এমনটা ভাবতে বাধ্য করেছে।
স্যাটায়ার ধর্মী কবিতা হ”েছ গিয়ে দুগ্ধবতী সিরিজের শেষ কবিতা। এই ৩
নাম্বার কবিতাটিতে ব্যাঙ্গের স্বার্থকতা প্রকাশ পেয়েছে
“ প্রান্তরে দাহ দাহ আগুন শাসনে
গাঙ্গেয় অববাহিকা ভূগোলের হিসাব খাতায়
বিশ্বের তৃতীয় বধূ, দুগ্ধবতী হয়।”(দ্র“ত)
এখানে পিতার আদলে অভিভাবক দেশগুলোর চরিত্র চিত্রন তাদের দাদাগিরির
ছাপচিত্র। সুন্দরভাবে অংকিত হয়েছে। পোষ্ট কলোনিয়াল চিন্তা।
“আমরা..............কিনে যাই” স্যাটায়ারের মধ্যে নিজেদের অপ্রাপ্তি ও
ব্যর্থতার নিরঙ্কুশ প্রকাশ মনে করিয়ে দেয় পূর্ববর্তী প্রজন্মের একটি
শক্তিশালী বৈশিষ্টের কথা। আর অসঙ্কোচ আত্ম-উন্মোচন-ই ছিল নব্বই দশকের
কবিকূলের উলেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্যের সাথে কাজী নাসির মামুনের
কবিতার স্বার্থকতা কোথায়? খুঁজলে সহজেই চোখে পড়ে, “সাহসী আত্ম
বিশেষন” প্রক্রিয়াটি। নাসির কবিতাকে “আমরা” শব্দটির ব্যবহার করে
তাকে দিয়েছেন সার্বজনীনতার আস্বাদ আর প্রতিনিধত্ব করেছেন শূণ্য
দশকের সকলের। নিজেদের উন্মোচন করেই ক্ষান্ত হননি, বিশেষণ করেছেন ব্যক্তির
সহজাত স্বার্থকতার। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন, দাঁড় করিয়েছেন- মিরর
অফ মাইন্ড (মান্ড মিররের)। সেলফ জাজমেন্ট এর।
“আর এই মান্ড মিররের দেখা পাওয়া যায় কবির পরবর্তী কবিতা,
আত্মকামে আমার........... আমার” এ। কবিাতর প্রথম পংক্তি “আয়না লাবণ্য
ধরে আমার ছায়ার।”
ছন্দ পতন কিংবা মাত্রার হিসেবের গড়মিল রয়েছে এমন অভিযোগ
উপ¯’াপন করতে চাইলে সব কবিতার দিকে হাত না বাড়িয়ে একটা কবিতা
থেকেই দেখানো যাবে, যেমন- “বসন্তে মায়ের কথার ফুলঝুড়ি” কবিতাটি
অক্ষরবিত্ত ছন্দের। আর অক্ষরবিত্ত ছন্দে শব্দের প্রথম যুগ্ম ধ্বনি একমাত্রার মূল্য
পায়। আর সেই হিসেবে- একদিন/সলতে/ভাসতে/ছিঁড়ে যায়। মাত্রা কিংবা
ছন্দ প্রসঙ্গ আসত না যদি না কাজী নাসির মামুনের কবিতায় ঐ
প্রবণতাটা না থাকত। কথা হ”েছ নিয়ম না মানলে নাই, কিš‘ মেনে যদি ভুল
থাকে তা কি একজন কবির জন্য দুঃখজনক নয়? সেখানে শূণ্য দশকের
পতাকাবাহীদের মধ্যে তিনি একজন।
প্রাণি প্রার্থনা
লাটিম তাড়িত বালক
ঃ কিশোর বা কৈশোরিক।
সঞ্চিত সোলক
ঃ বুক বা যুবতী মেয়েরা।
গোপন অহম
ঃ মাস্টারবেশনে আগ্রহী করে তুলে এমন কিছু।
সময়সড়ক
ঃ সেশনজত
গতির বাইজি
ঃ সময়/বয়স
বোতল
ঃ যৌনাঙ্গ।
তরলবন্দিজিন
ঃ প্রজননের উপাদান
সচল স্পপেজ
ঃ শুয়ে থাকা।
ফেরারি গোলাপ ঃ গণিকা
শৃগাল চতুর
ঃ শেয়ালের কুমির শাবল ভক্ষণের কৌশল/এক জিনিস বারবার
দেখিয়ে ঠকানো।
হাইরোগিফিক্স ঃ
কুকুরী- প্রচলিত অর্থ খুঁজলে ভয়াবহ অর্থ দাঁড়ায়। কিছু লুপ্ত অর্থ
বুঝতে পারলে হৃদয়ে চিন করে উঠবে।
“কুকুরীর জন্য সংবেদনা”- এই একটি কবিতার আলোচনা লিখেই মনে হয় দিস্তার পর দিস্তা শেষ করা যাবে। এই প্রসঙ্গে বুঃ বসুর কথা মনে পড়ছে। তিনি ১৯৪০ সালে......................। এখন বদ্ধদেব বসু থাকলে বলা যে, দ্যাখেন
বস, বাউলা সাহিত্যে একজন কবি আবারো রোমান্টিক আবহে প্রেমের
কবিতা অত্যন্ত সাহসের সাথে প্রথম কাব্যগ্রন্তেই সন্নিবেশ করেছেন।
পারলে এই কবিতাটিকে “লখিন্দরের গান” থেকে বাদ দেন তো কিংবা সমগ্র
প্রেমবাহিত কবিার ইতিহাস থেকে বাদ দিয়ে দ্যাখেন তো। কেন জানি আজ
কবিতাটি নিয়ে গর্ব করতে ই”েছ হ্েচছ। (আবেগী উ”চারণ)
পতনে কালিন্দি নিশায় ঃ
১। অতিরিক্ত যাতচিহ্ন দৃশ্যে বেঘাত ঘটায়। অনেকের ফরমেটে স্বরবৃত্ত ছন্দের
অনেকটাই দুর্বল বিস্তার।
২। নারী দেহের বর্ণনায় আগ্রাসনের পুরনো আখ্যান রূপকের আশ্রয়ে
প্রতিপাদ্য হয়ে উঠে।
৩। উপনিবেশিক শাসব ব্যব¯’া ও উত্তর উপনিবেশিক চিন্তার সঞ্চার ঘটেছে
(১) অংশে। কিš‘ ঐ আাচর স্বরবৃত্তের আদলে থাকতে গিয়ে অন্তমিল আর অমিল
অনেকটা অগোছালো করে তুলেছি কবিতাটির অংশ বিশেষকে।
ডাহুক সয়েছি ক্ষয়....
(৮+৬) স্তবকের ১৮ মাত্রার প্রচলিত সনেটগু”ছ। কাজী নাসির মানুষের কবিতা
পড়ে মনে হয় পেটার্ন গত কোন বৈচিত্র্যের প্রতি তেমন একটা নিরীক্ষাপ্রবণ
নন তিনি। আর প্রচলিত ব্যাকরণীয় অনুসঙ্গ বিনিমার্নের প্রতি খুব একটা
ঝোঁক নেই। তবে নিয়মে থাকার একটা সাধারণ প্রবণতা ঠিকই আছে। তবে
এ-ও সত্য নিকটবর্তী দশকের দার্শনিক বি”িছন্নতা, প্রতিষ্ঠান মুখি
হওয়া না হওয়ার দোদুল্যমানতা, কবিতার সামাজিকরণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে
তৈরী হওয়া কনট্রাডিকশন (১) বাংলাদেশেও ক্ষীণ ও ধীর পদ্ধতিতে এই রণকৌশল
গ্রহণ করেছেন প্রতিষ্ঠান বিরোধী নব্বইয়ের কবিগণ। এটা শুভ লক্ষণ ও সঠিক
কৌশল। কেননা, কবিতার আস্বাদ গ্রহণের অধিকার সকল পাঠকের। “যেহেতু
কবিতার আস্বাদ গ্রহণের অধিকার সকলের আছে বলে নব্বইয়ের অনেক কবিদের
বিশ্বাস তাই কবিতার ভাষাও বোধ সকলের গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা ছিল। কিš‘
তারা তা করেন নি। শিল্প অসম্মত মৌলিক কবিতাকে আপতঃদৃষ্টিতে দুর্বোধ্য
ও দুরূহ বলে মনে হত। কোনো মৌলিক কবিতা অন্তদৃষ্টি সম্পন্নতার কারণে
সাধারণের কাছে অদ্ভূত ও দুর্বোধ্য বলে মনে হতেই পারে।” আর তার পক্ষে
যুক্তি হিসেবে উপ¯’াপন করা হয়েছে র্যাঁেধা সুচীন্দ্রনাথদের কথা। কিš‘
তথাগত প্রাতিষ্ঠানিক কাগজের গতানুগতিক ধারার পাঠকরা র্যাঁধো
সুধীন্দ্র পড়েন না। আর কন্ট্রাডিকশনটা এখানেই। এক দিকে সকলের কাছে
পৌঁছার জন্য রণ কৌশলে পরিবর্তনে অজুহাত অন্যদিকে দুর্বোধতা। যার
ফলে বিভক্তি ও কাব্যিক বি”িছন্নতা ছিল নব্বইয়ের সাধারণ ব্যাপার।
বি”িছন্ন নিরীক্ষার ফলে ¯’ায়িত্ব পায়নি কোন আলাদা বৈশিষ্ট্যের কবিতা
ধারা। আর যে লোকজধারার ব্যবহার নব্বইয়ের কবিতায় নতুন এসেছে বলে মনে
করা হয়, তার জবাব পাওয়া যায় আল মাহমুদ, ওমর আলী, রফিক আজাদের কবিতার
দিকে তাকালে। সবচেয়ে বড় কথা রাজনৈতিক উদাসীনতার ফলে মৌলবাদের
প্রশ্রয় ও বেরে উঠার অন্তরায় হিসেবে কোন শক্তিশালী আদর্শিক বৈশিষ্ট
দাঁড় করতে না পারা। এটা মূলত ঘটেছে প্রতিষ্ঠানের দ্বার¯’ হয়ে একাই থানায়
সবাই মিলে খাবার গ্রহণের ফলে।
আর পূর্ববর্তী দশকের কিংবা সহযাত্রী অগ্রজনের প্রভাব ও ভাবের নিজস্ব স্বাতন্ত্রে জন্য। শূণ্য দশকের অনেককে অত্রিম করতে হয়েছে সংশয়ী সময়কাল। যারা একটু সময় নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন আমার মনে হয় তারাই
ভালোবাসি দানবের মতো/অভ্রভেদী পাখি
প্রিমিটিভিজম এর উদাহরণ।
“নদী” কবিতাটি আশির দশকের প্রকরণ সবর্স কবিতার গন্ধমাখা।
কৈশোরিক ও যৌবনের স্মৃতি আক্রান্ত ভাবাবেগ ভরা। যা কবিতার চেয়ে
বিবৃতির সংমিশ্রণ, অন্যান্য কবিতার বৈশিষ্ট্যের সাথে ঠিক যায় না।
তেমনি যায় না স্বববৃত্ত ছন্দের অন্তমিলের প্রতি মনোযোগী কবিতাগুলো
(কুমুরের ফুল হয়ে আয় ইত্যাদি)।
কবিতার প্রতি একজন কবির প্রেম নিজের উরসের মত। অনেক ক্ষেত্রেই
স্মৃতিতাড়িত, মানবিক দুর্বলতা অতিক্রম করে কবিতা নির্বাচন সম্ভব হয়
না। ফলে শূণ্যের একজন উলেখযোগ্য থেকে গুর“ত্বর্পূ হয়ে উঠা কবিকেও
সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।
অন্তমিল ও সনেটের প্রতি ঝোক বেশী কাজী নাসির মামুনের। অথচ তা যদি মাত্রাগত কিংবা পংক্তিগত কিংবা স্তবকে বৈচিত্র থাকতো তাহলে মেনে নেয়া যেত। একমাত্র শব্দের গুপ্তাব¯’া ও বিষয়ের কেন্দ্রিকীকরণ উপর ভর দিয়ে ভাব-কবিতার তরীখানা কতদূরই বা নেয়া সম্ভব?
হুমায়ূন আজাদ কবিদের তিনটি ভাগে ভাগ করে ছিলেন আর তা হল...........
মামুন যতিচিহ্নের ব্যাপারে আগ্রহী। আর তার এই আগ্রহ বহুত নিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে প্রচলিত সনেটরীতির ক্ষেত্রে।
তার সিরিজ কতিবাগুলোতে একটি ্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তা হল সিরিজের
বিন্যাসে ডিসকনটিনিটি অর্থাৎ অধারাবাহিকতা। কনটিনিটি ভাঙ্গা
যদিও পোস্ট-মডার্ন মন মানসিকতার বৈশিষ্ট্য, তবে তা যদি হয় একই
কবিতার ক্ষেত্রে। কিš‘ এখানে কবি সিরিজে বিন্যাসে এমনটা করলেন কেন,
ভাববার বিষয়। এখানে কবিতার ডিসকনটিনিটি গ্রš’টা ধরা দি”েছ
বিপরীতার্থে। কবির ভিন্ন সময়ে লিখিত (সম্ভবত) এলামেলো চিন্তার
ধারাবাহিক প্রতি¯’াপন হিসেবে সিরিজের নির্মাণ অনেকটা আরোপিত
প্রস্তাবের নমুনা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কাজী নাসির সম্পর্কে একটি অ¯’ায়ী এবং ভাব বিস্তারী মন্তব্য করা যায় এমন যে, “এই কবি নিয়ম ভাঙ্গার কোন নিয়ম নিয়ে কাব্য জগতে আসেন নি পক্ষান্তরে নিয়মের বাহিরে যাবারও যেতন একটা প্রয়াস চালান নি। শুধু মেধার পূরণ ঘটাতে চেয়েছে প্রথম বইটিতে।
শব্দ নির্মাণে আগ্রহী কবি আরো একটি দিকে এগিয়েছে ডিসকভার এর
নেশায় আর তা হল ইরোটিসিজম। যৌনতার ক্রিফটগ্রাফিক নির্মাণ, শূণ্য
দশকের উত্থানশীল কবিতার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের উলেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে
নিঃসন্দেহে আলোচিত হবে।
“লখিন্দরের গান” সিরিজের সনেটের প্যাটার্ন কবিতাটির বিষয়ব¯‘র আবহের
সাথে মিলানোর প্রয়াস মনে হয়েছে পোস্ট-কলনিয়াল কনসেপ্টে বিষয়কে ঐ
বিষয়ের প্রেক্ষিতে দেখা এবং সাবরটার্নকে গুর“ত্ব দেয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।
কিš‘ পরবর্তীতে ডিসকনটিনিটি বিশেষত সিরিজহ বিস্তারে অন্য
ভাবনায় ফেলে দেয়। তাহলে কি প্যাটার্ন নির্মাণে আদো কবির তেন আবহ
তৈরীর ই”েছ কাজ করে নি শুধু আমার নিজস্ব ভাবনা।
লখিন্দরের গান পড়ে ভাবছিলাম বেহুলার কথা। যেন এমন আর কি, আজও বাড়ি ফেরা
হল া। এজন্য দুঃখ নেই। শুধু কথা থাকে বেড়ালটা আজো দরজার কাছে বসে
থাকবে। অর্থাৎ যন্ত্রিকতার বাহিরের অনূভব। যেন তারপরও তার কথা মনেপড়ে
টাইপ কিছু। অনেকটা মহিলাদের মেটার্নটি বু-কালীন সময়ের মত। মাতৃ
ত্বের নীল সময়ে অযাচিত দুঃখবোধে কেঁদে উঠে হৃদয়।
মিয়া বাড়ির বৈঠক খানায় যজ্ঞ বুড়ির গালগল্প পড়ে রঙধনুর সাত বড় হাতের
মুঠোয় পাওয়া মানে পাউয়ার এর আধিপত্যের কথা মনে পড়ল। আর মনে পড়ল
মিশেল ফুকোর পাউয়ার থিউরিটি। যা মানুষকে শাসন করে মানসিক শারীকি
ও রীতি প্রকৃতির মাধ্যমে।
নব্বইয়ের কবিরা ভেবেছিলেন, সুখ তাদের একান্ত বিষয় তা কখনোই
সামাজিক নয়। সমাজ সভ্যতার রাজনীত কিংবা বিশ্বের সাথে এর কোন
সংশিষ্টতা নেই। কিš‘ শূণ্য এখন পর্যন্ত মনে হ”েছ এই ভাবনাটির সাথে
একাত্ত নয়। কেননা বিষয়িক বৈচিত্রতা আত্ম-সমালোচনা তাও যদি পোস্ট
কলনিয়াল ভাবধারার আবর্তিত হয়।
নব্বইয়ের যে সকল কবিতা এখনও সমান সক্রিয় এবং প্রতিস্ঠিত নিজস্ব
স্বরে কবিতা চর্চা করে বলেছেন মূলত তাদের প্রেক্ষিতেই শূণ্যের ভিক্তিকরণ।
যারা অতি কিংবা এখনও নিজের স্বরটি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নি সঙ্গত
কারণে তাদেরকে আলোচনায় না আনাটাই যুক্তিযুক্ত। কারণ সচরাচর প্রতিষ্ঠিত
নিজস্ব স্বরেই কবিতা অব্যাহত রাখেন কবিরা।
পিতার সৌধের নিজে ভূমিষ্ঠ কুকুর
নাম লিকে নিজেদের
তবে সুখ কোন মহিষের নাম?
ভরসার মাতৃত্বকোড়ে প্রলোভন অবশিষ্ট থাকে।
ত.স.কো.ম.না
রাজনৈতিক মহত্বের বলি, জাতির পিতা ও তার বলিদান, আমরা আজ জনে জনে
জানি। গজিয়ে উঠা পরগাছারা আজ বিরাট মহিরূহ সমান। নিজেদের নাম
এরা ইতিহাসে ই”েছ মত উঠা”েছ, মুছে দি”েছ।
দেশের আর্তসামাজিক প্রেক্ষাপট অতীত ইতিহাস, ইতিহাসের কলঙ্ক ও সেই
কলঙ্কের শেকড়সহ পুনর“ত্থান সবকিছু চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে। “তবে
সুখ....... কবিতায়। উত্থানশীল কবিতার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে ক্রিপ্টোগ্রাফি
রচনায় স্বাক্ষর রেখেছেন কাজী নাসির মামুন।
শূন্য দশকে এসে আবার হৃদয়তাড়িত অনুভূতিগুলো গভীর সিম্ফোনী নিয়ে
কবিদের লেখায় জেগে উঠছে। আর সঙ্গত কারণেই তা ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে।
অনুভূতি ধরা দি”েছ অনেকটা মেনেলা সিনেমার সেই শেষ সংলাপের মত
“আমি এই জীবনে অনেক মেয়েদের সাথে মিশেছি। অনেককেই ভাল লেগেছে।
তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে আমাকে মনে রাখবে তো? আমি বলেছি রাখব।
শুধু ঐ মেয়েটাকে কখনোই ভুলব না যে আমাকে কোনদিন বলেনি আমাকে মনে
রেখ।”
ডাইমেনশনাল সময়ে মনও বহুগামী হয়। আবার অসংকুচে বিশেষণ করে।
সোসাল ফ্লিক্সিবিলিটি ও কিংবা উদার নৈতিকতার পরিপূর্ণ ছাপ কেবল
শূণ্যের সাহসী তারণ্যের রচনাকেই খোঁজা যেতে পারে।
রাজা গোপালের শাসনামল, বাইকামুলী দাসী, কংক দাশী, থিবিস, মহান্ত।
এলিয়ট যেমন ফ্রিভার্স এর পাশপাশি কবিতায় মুক্ত ছন্দের সাথে লিরিক এর
ব্যবহার করেছেন তেমনি কাজী নাসির মামুনের কবিতায়ও দেখা যায়।
নাসির মামুনের কবিতা শুর“ হয়েছে পরম্পরা দিয়ে। যা শুর“ টিএস এলিয়টের
দ্যা লাভ সং অব জে আলফ্রেট প্র“ফক কবিতাটির স্টাইল-এ। যদিও বাংলা
সাহিত্যের এলিয়টের প্রভাব এলিয়ট চর্চা নতুন কিছু নয়। রবী ঠাকুর থেকে
জীবনানন্দ সবাই কোন কোন ভাবে এলিয়ট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
বইয়ে শিরোনাম কবিতাটি মামুন লিখেছেন মিথলজিকেল এসপেক্ট নিয়ে।
সিরিজ কবিতাটির সূচনা সনেটের আঙ্গিকে দেখে মিথের বৈশিষ্ট্যের সাথে
আঙ্গিকে কবি কবিতাটি সামঞ্জস্য আনতে চেয়েছেন বলে মনে হয়। কিš‘ এর
অধারাবাহিকতা (ডিসকনটিনিয়াস) পাঠককে এলোমেলো ভাবনার সামনে
দাঁড় করিয়ে দেয়। সিরিজ কবিতা কিংবা দীর্ঘ কবিতা স্বভাবতই কবির
কাছে একটুস বেশী মনোযোগ দাবি করে।
সূর্যই নাটের গুর“
“লখিন্দর বেহুলা জাগাও, কুলনাশা মরা দেশ।”
ও পাখি ও বৃক্ষ,
ও আমার লাটিম ঘুরানো মাঠ
দেখাবো সাহস?
লখিন্দরের গান শেষ হয় এভাবে
মাছে বাতে স্বপ্নমোড়া গুপ্ত পুলসেরাত;
আমার দখল নেবে কে আছে এমন?
বাঙালির জাতিয়তাবোধের দৃপ্ত উ”চারণের মধ্য দিয়ে এর অবিনাশী স্রোতের
প্রতিকূলে দাঁড়াতে চেয়েছেন কাজী নাসির মামুন। লক্ষ্য করছি উত্তরে
উপনিবেশিক চেতনা জাগ্রত হ”েছ আমাদের মধ্যে। আর এই জাগ্রহত চেতনার
সারনীতি ক্রমশঃ লম্বা হ”েছ ধৃষ্ট লাঠিয়ালদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পা”েছ,
যা আমাদের পরিচয় করিয়ে দি”েছ নিজের সাথে নিজেকে।
সুমন চট্টোপাধ্যায়ের “জাতিস্মর” গানে সুন্দর একটা কলি আছে।
“.......... বেহুলারা কখনো বিধবা হয় না
এটা বাংলার রীতি।”
নিয়ম মেনে প্রতি চরণে অন্তমিল; আমাদের কবিতায় ছন্দের অর্থাৎ মাত্রার
প্রাচুর্য এবং বাধ্যবাদকতা আর তার মান্যকাল কিংবা আজ্ঞাবহকালের কথা
মনে করিয়ে দেয়। যখন অন্তমিলকে-ই অনেক কবিতা-প্রেমি মতান্তরে কবিতা-
শাসকরা মনে করতেন আসল জিনিস অর্থাৎ ‘প্রকৃত কবিতা’।
ফেরার ই”েছ প্রবল রোমান্টিক আবহের প্রতীকি বিন্যাস। বিষয়ে, ভাষার
উপলব্ধিতে, বর্ণনায়- এই সময়ের কবিতা।
ফে.ই- কবিতার প্রথম পংক্তি যদি কবির নিজের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে ভাব ঠিক
আছে শুধু যতি চিহ্নের সমস্যা ছাড়া। কেননা, কবি নিজেকে এড্রেস করলে
কমা ব্যবহার করবেন কেন? আর যদি সার্বজনিন করতে চান অর্থাৎ কথক নিজে
হয়ে পাঠককে এড্রেস করা তাহলে ঝামেলা হয়ে গেল। তৃতীয় স্ট্রোঞ্জায় নিজের
উপ¯ি’তি কবিতাটিতে ভাবকে এলোমেলো করে দিয়ে কবিতা হওয়ার পক্ষেই অš
—রায় হয়ে দাঁড়াল! সুরীন্দ্রনাথ ছন্দ সম্পর্কে সেই যে উক্তি করেছিলেন,
সাধারণত, মাত্রা ঠিক রাখতে এবং ছন্দে থাকতে একটা অভ্যাস গড়ে তুললেই
লাভবান হওয়া যায়। আর সেই অভ্যাসটা হ”েছ শব্দ বিন্যাসের বিজোড়ে
বিজোড় গাঁথ, জোরে গাঁথ জোড়। এর ফলে গদ্যরীতির কবিতায় অক্ষবৃত্তের
ছন্দত মুক্তক ছন্দ সাবলিল হয়ে উঠল।
কবিতা পড়ছি আর লক্ষ্য করছি, “এই রীতি ভর করেছে মামুনের কবিতায়।
কিš‘ তিনি হয়ত ঠিক করেছেন ব্যাকরণ জেনে লিখবেন না। যার ফলে ই”ছায় কি
অনি”ছায় ছন্দ্র পতন হ”েছ। অবশ্য একে মাত্রা পতন-ই বলা ভাল। যদিও ব্যাকরণ
মেনে লিখা কবির একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। আর আমি মনে করি না প্রকৃত
কবিতার জন্য এটা কোন ফ্যাক্টর।
“যেটা শিকার”- শারীরিক আবহের কবিতা। মাত্র দুটি উদ্বৃতিতে
কবিতাটি রচিত হয়েছে। প্রথমটির কথক কবি নিজে। দ্বিতীয়টি নিজেই
চিহ্নিত করে দিয়েছেন। ফ্রয়েডের লিবিডো যখন প্রভাব বিস্তার করছে তখন
কবি অন্য ঠোঁটের গীতিকাব্য আকঁলেন জ্বলজ্যান্ত ভাষায়
“তারার ফসিলে কোনদিন
অমাবস্যা পেলে
ডেকে নিও রাতের গুহায়।
তবে এই কবিতাতেও আবার সেই কথক বিরম্বনা কথকের এলোমেলো বিস্ত
ারে কবি না পাঠক বিভ্রান্ত প্রশ্নসাপেক্ষ।
তার অনেকগুলো কবিতাতেই সঞ্চারী পড়ে মনে হয়েছে এগুলোই সব, আর
কিছর দরকার নেই। অনেক ক্ষেত্রে কবিতার ভেতরে প্রবেশের পূর্বের মনে হয়েছে
বাকীগুলো বোধহয় বিস্তার। তার সঞ্চারীগুলোর দু’বার আবেদন আমাকে
এমনটা ভাবতে বাধ্য করেছে।
স্যাটায়ার ধর্মী কবিতা হ”েছ গিয়ে দুগ্ধবতী সিরিজের শেষ কবিতা। এই ৩
নাম্বার কবিতাটিতে ব্যাঙ্গের স্বার্থকতা প্রকাশ পেয়েছে
“ প্রান্তরে দাহ দাহ আগুন শাসনে
গাঙ্গেয় অববাহিকা ভূগোলের হিসাব খাতায়
বিশ্বের তৃতীয় বধূ, দুগ্ধবতী হয়।”(দ্র“ত)
এখানে পিতার আদলে অভিভাবক দেশগুলোর চরিত্র চিত্রন তাদের দাদাগিরির
ছাপচিত্র। সুন্দরভাবে অংকিত হয়েছে। পোষ্ট কলোনিয়াল চিন্তা।
“আমরা..............কিনে যাই” স্যাটায়ারের মধ্যে নিজেদের অপ্রাপ্তি ও
ব্যর্থতার নিরঙ্কুশ প্রকাশ মনে করিয়ে দেয় পূর্ববর্তী প্রজন্মের একটি
শক্তিশালী বৈশিষ্টের কথা। আর অসঙ্কোচ আত্ম-উন্মোচন-ই ছিল নব্বই দশকের
কবিকূলের উলেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্যের সাথে কাজী নাসির মামুনের
কবিতার স্বার্থকতা কোথায়? খুঁজলে সহজেই চোখে পড়ে, “সাহসী আত্ম
বিশেষন” প্রক্রিয়াটি। নাসির কবিতাকে “আমরা” শব্দটির ব্যবহার করে
তাকে দিয়েছেন সার্বজনীনতার আস্বাদ আর প্রতিনিধত্ব করেছেন শূণ্য
দশকের সকলের। নিজেদের উন্মোচন করেই ক্ষান্ত হননি, বিশেষণ করেছেন ব্যক্তির
সহজাত স্বার্থকতার। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন, দাঁড় করিয়েছেন- মিরর
অফ মাইন্ড (মান্ড মিররের)। সেলফ জাজমেন্ট এর।
“আর এই মান্ড মিররের দেখা পাওয়া যায় কবির পরবর্তী কবিতা,
আত্মকামে আমার........... আমার” এ। কবিাতর প্রথম পংক্তি “আয়না লাবণ্য
ধরে আমার ছায়ার।”
ছন্দ পতন কিংবা মাত্রার হিসেবের গড়মিল রয়েছে এমন অভিযোগ
উপ¯’াপন করতে চাইলে সব কবিতার দিকে হাত না বাড়িয়ে একটা কবিতা
থেকেই দেখানো যাবে, যেমন- “বসন্তে মায়ের কথার ফুলঝুড়ি” কবিতাটি
অক্ষরবিত্ত ছন্দের। আর অক্ষরবিত্ত ছন্দে শব্দের প্রথম যুগ্ম ধ্বনি একমাত্রার মূল্য
পায়। আর সেই হিসেবে- একদিন/সলতে/ভাসতে/ছিঁড়ে যায়। মাত্রা কিংবা
ছন্দ প্রসঙ্গ আসত না যদি না কাজী নাসির মামুনের কবিতায় ঐ
প্রবণতাটা না থাকত। কথা হ”েছ নিয়ম না মানলে নাই, কিš‘ মেনে যদি ভুল
থাকে তা কি একজন কবির জন্য দুঃখজনক নয়? সেখানে শূণ্য দশকের
পতাকাবাহীদের মধ্যে তিনি একজন।
প্রাণি প্রার্থনা
লাটিম তাড়িত বালক
ঃ কিশোর বা কৈশোরিক।
সঞ্চিত সোলক
ঃ বুক বা যুবতী মেয়েরা।
গোপন অহম
ঃ মাস্টারবেশনে আগ্রহী করে তুলে এমন কিছু।
সময়সড়ক
ঃ সেশনজত
গতির বাইজি
ঃ সময়/বয়স
বোতল
ঃ যৌনাঙ্গ।
তরলবন্দিজিন
ঃ প্রজননের উপাদান
সচল স্পপেজ
ঃ শুয়ে থাকা।
ফেরারি গোলাপ ঃ গণিকা
শৃগাল চতুর
ঃ শেয়ালের কুমির শাবল ভক্ষণের কৌশল/এক জিনিস বারবার
দেখিয়ে ঠকানো।
হাইরোগিফিক্স ঃ
কুকুরী- প্রচলিত অর্থ খুঁজলে ভয়াবহ অর্থ দাঁড়ায়। কিছু লুপ্ত অর্থ
বুঝতে পারলে হৃদয়ে চিন করে উঠবে।
“কুকুরীর জন্য সংবেদনা”- এই একটি কবিতার আলোচনা লিখেই মনে হয় দিস্তার পর দিস্তা শেষ করা যাবে। এই প্রসঙ্গে বুঃ বসুর কথা মনে পড়ছে। তিনি ১৯৪০ সালে......................। এখন বদ্ধদেব বসু থাকলে বলা যে, দ্যাখেন
বস, বাউলা সাহিত্যে একজন কবি আবারো রোমান্টিক আবহে প্রেমের
কবিতা অত্যন্ত সাহসের সাথে প্রথম কাব্যগ্রন্তেই সন্নিবেশ করেছেন।
পারলে এই কবিতাটিকে “লখিন্দরের গান” থেকে বাদ দেন তো কিংবা সমগ্র
প্রেমবাহিত কবিার ইতিহাস থেকে বাদ দিয়ে দ্যাখেন তো। কেন জানি আজ
কবিতাটি নিয়ে গর্ব করতে ই”েছ হ্েচছ। (আবেগী উ”চারণ)
পতনে কালিন্দি নিশায় ঃ
১। অতিরিক্ত যাতচিহ্ন দৃশ্যে বেঘাত ঘটায়। অনেকের ফরমেটে স্বরবৃত্ত ছন্দের
অনেকটাই দুর্বল বিস্তার।
২। নারী দেহের বর্ণনায় আগ্রাসনের পুরনো আখ্যান রূপকের আশ্রয়ে
প্রতিপাদ্য হয়ে উঠে।
৩। উপনিবেশিক শাসব ব্যব¯’া ও উত্তর উপনিবেশিক চিন্তার সঞ্চার ঘটেছে
(১) অংশে। কিš‘ ঐ আাচর স্বরবৃত্তের আদলে থাকতে গিয়ে অন্তমিল আর অমিল
অনেকটা অগোছালো করে তুলেছি কবিতাটির অংশ বিশেষকে।
ডাহুক সয়েছি ক্ষয়....
(৮+৬) স্তবকের ১৮ মাত্রার প্রচলিত সনেটগু”ছ। কাজী নাসির মানুষের কবিতা
পড়ে মনে হয় পেটার্ন গত কোন বৈচিত্র্যের প্রতি তেমন একটা নিরীক্ষাপ্রবণ
নন তিনি। আর প্রচলিত ব্যাকরণীয় অনুসঙ্গ বিনিমার্নের প্রতি খুব একটা
ঝোঁক নেই। তবে নিয়মে থাকার একটা সাধারণ প্রবণতা ঠিকই আছে। তবে
এ-ও সত্য নিকটবর্তী দশকের দার্শনিক বি”িছন্নতা, প্রতিষ্ঠান মুখি
হওয়া না হওয়ার দোদুল্যমানতা, কবিতার সামাজিকরণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে
তৈরী হওয়া কনট্রাডিকশন (১) বাংলাদেশেও ক্ষীণ ও ধীর পদ্ধতিতে এই রণকৌশল
গ্রহণ করেছেন প্রতিষ্ঠান বিরোধী নব্বইয়ের কবিগণ। এটা শুভ লক্ষণ ও সঠিক
কৌশল। কেননা, কবিতার আস্বাদ গ্রহণের অধিকার সকল পাঠকের। “যেহেতু
কবিতার আস্বাদ গ্রহণের অধিকার সকলের আছে বলে নব্বইয়ের অনেক কবিদের
বিশ্বাস তাই কবিতার ভাষাও বোধ সকলের গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা ছিল। কিš‘
তারা তা করেন নি। শিল্প অসম্মত মৌলিক কবিতাকে আপতঃদৃষ্টিতে দুর্বোধ্য
ও দুরূহ বলে মনে হত। কোনো মৌলিক কবিতা অন্তদৃষ্টি সম্পন্নতার কারণে
সাধারণের কাছে অদ্ভূত ও দুর্বোধ্য বলে মনে হতেই পারে।” আর তার পক্ষে
যুক্তি হিসেবে উপ¯’াপন করা হয়েছে র্যাঁেধা সুচীন্দ্রনাথদের কথা। কিš‘
তথাগত প্রাতিষ্ঠানিক কাগজের গতানুগতিক ধারার পাঠকরা র্যাঁধো
সুধীন্দ্র পড়েন না। আর কন্ট্রাডিকশনটা এখানেই। এক দিকে সকলের কাছে
পৌঁছার জন্য রণ কৌশলে পরিবর্তনে অজুহাত অন্যদিকে দুর্বোধতা। যার
ফলে বিভক্তি ও কাব্যিক বি”িছন্নতা ছিল নব্বইয়ের সাধারণ ব্যাপার।
বি”িছন্ন নিরীক্ষার ফলে ¯’ায়িত্ব পায়নি কোন আলাদা বৈশিষ্ট্যের কবিতা
ধারা। আর যে লোকজধারার ব্যবহার নব্বইয়ের কবিতায় নতুন এসেছে বলে মনে
করা হয়, তার জবাব পাওয়া যায় আল মাহমুদ, ওমর আলী, রফিক আজাদের কবিতার
দিকে তাকালে। সবচেয়ে বড় কথা রাজনৈতিক উদাসীনতার ফলে মৌলবাদের
প্রশ্রয় ও বেরে উঠার অন্তরায় হিসেবে কোন শক্তিশালী আদর্শিক বৈশিষ্ট
দাঁড় করতে না পারা। এটা মূলত ঘটেছে প্রতিষ্ঠানের দ্বার¯’ হয়ে একাই থানায়
সবাই মিলে খাবার গ্রহণের ফলে।
আর পূর্ববর্তী দশকের কিংবা সহযাত্রী অগ্রজনের প্রভাব ও ভাবের নিজস্ব স্বাতন্ত্রে জন্য। শূণ্য দশকের অনেককে অত্রিম করতে হয়েছে সংশয়ী সময়কাল। যারা একটু সময় নিয়ে বই প্রকাশ করেছেন আমার মনে হয় তারাই
ভালোবাসি দানবের মতো/অভ্রভেদী পাখি
প্রিমিটিভিজম এর উদাহরণ।
“নদী” কবিতাটি আশির দশকের প্রকরণ সবর্স কবিতার গন্ধমাখা।
কৈশোরিক ও যৌবনের স্মৃতি আক্রান্ত ভাবাবেগ ভরা। যা কবিতার চেয়ে
বিবৃতির সংমিশ্রণ, অন্যান্য কবিতার বৈশিষ্ট্যের সাথে ঠিক যায় না।
তেমনি যায় না স্বববৃত্ত ছন্দের অন্তমিলের প্রতি মনোযোগী কবিতাগুলো
(কুমুরের ফুল হয়ে আয় ইত্যাদি)।
কবিতার প্রতি একজন কবির প্রেম নিজের উরসের মত। অনেক ক্ষেত্রেই
স্মৃতিতাড়িত, মানবিক দুর্বলতা অতিক্রম করে কবিতা নির্বাচন সম্ভব হয়
না। ফলে শূণ্যের একজন উলেখযোগ্য থেকে গুর“ত্বর্পূ হয়ে উঠা কবিকেও
সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।
অন্তমিল ও সনেটের প্রতি ঝোক বেশী কাজী নাসির মামুনের। অথচ তা যদি মাত্রাগত কিংবা পংক্তিগত কিংবা স্তবকে বৈচিত্র থাকতো তাহলে মেনে নেয়া যেত। একমাত্র শব্দের গুপ্তাব¯’া ও বিষয়ের কেন্দ্রিকীকরণ উপর ভর দিয়ে ভাব-কবিতার তরীখানা কতদূরই বা নেয়া সম্ভব?
হুমায়ূন আজাদ কবিদের তিনটি ভাগে ভাগ করে ছিলেন আর তা হল...........
মামুন যতিচিহ্নের ব্যাপারে আগ্রহী। আর তার এই আগ্রহ বহুত নিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে প্রচলিত সনেটরীতির ক্ষেত্রে।
তার সিরিজ কতিবাগুলোতে একটি ্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তা হল সিরিজের
বিন্যাসে ডিসকনটিনিটি অর্থাৎ অধারাবাহিকতা। কনটিনিটি ভাঙ্গা
যদিও পোস্ট-মডার্ন মন মানসিকতার বৈশিষ্ট্য, তবে তা যদি হয় একই
কবিতার ক্ষেত্রে। কিš‘ এখানে কবি সিরিজে বিন্যাসে এমনটা করলেন কেন,
ভাববার বিষয়। এখানে কবিতার ডিসকনটিনিটি গ্রš’টা ধরা দি”েছ
বিপরীতার্থে। কবির ভিন্ন সময়ে লিখিত (সম্ভবত) এলামেলো চিন্তার
ধারাবাহিক প্রতি¯’াপন হিসেবে সিরিজের নির্মাণ অনেকটা আরোপিত
প্রস্তাবের নমুনা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কাজী নাসির সম্পর্কে একটি অ¯’ায়ী এবং ভাব বিস্তারী মন্তব্য করা যায় এমন যে, “এই কবি নিয়ম ভাঙ্গার কোন নিয়ম নিয়ে কাব্য জগতে আসেন নি পক্ষান্তরে নিয়মের বাহিরে যাবারও যেতন একটা প্রয়াস চালান নি। শুধু মেধার পূরণ ঘটাতে চেয়েছে প্রথম বইটিতে।
শব্দ নির্মাণে আগ্রহী কবি আরো একটি দিকে এগিয়েছে ডিসকভার এর
নেশায় আর তা হল ইরোটিসিজম। যৌনতার ক্রিফটগ্রাফিক নির্মাণ, শূণ্য
দশকের উত্থানশীল কবিতার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের উলেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে
নিঃসন্দেহে আলোচিত হবে।
“লখিন্দরের গান” সিরিজের সনেটের প্যাটার্ন কবিতাটির বিষয়ব¯‘র আবহের
সাথে মিলানোর প্রয়াস মনে হয়েছে পোস্ট-কলনিয়াল কনসেপ্টে বিষয়কে ঐ
বিষয়ের প্রেক্ষিতে দেখা এবং সাবরটার্নকে গুর“ত্ব দেয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।
কিš‘ পরবর্তীতে ডিসকনটিনিটি বিশেষত সিরিজহ বিস্তারে অন্য
ভাবনায় ফেলে দেয়। তাহলে কি প্যাটার্ন নির্মাণে আদো কবির তেন আবহ
তৈরীর ই”েছ কাজ করে নি শুধু আমার নিজস্ব ভাবনা।
লখিন্দরের গান পড়ে ভাবছিলাম বেহুলার কথা। যেন এমন আর কি, আজও বাড়ি ফেরা
হল া। এজন্য দুঃখ নেই। শুধু কথা থাকে বেড়ালটা আজো দরজার কাছে বসে
থাকবে। অর্থাৎ যন্ত্রিকতার বাহিরের অনূভব। যেন তারপরও তার কথা মনেপড়ে
টাইপ কিছু। অনেকটা মহিলাদের মেটার্নটি বু-কালীন সময়ের মত। মাতৃ
ত্বের নীল সময়ে অযাচিত দুঃখবোধে কেঁদে উঠে হৃদয়।
মিয়া বাড়ির বৈঠক খানায় যজ্ঞ বুড়ির গালগল্প পড়ে রঙধনুর সাত বড় হাতের
মুঠোয় পাওয়া মানে পাউয়ার এর আধিপত্যের কথা মনে পড়ল। আর মনে পড়ল
মিশেল ফুকোর পাউয়ার থিউরিটি। যা মানুষকে শাসন করে মানসিক শারীকি
ও রীতি প্রকৃতির মাধ্যমে।
নব্বইয়ের কবিরা ভেবেছিলেন, সুখ তাদের একান্ত বিষয় তা কখনোই
সামাজিক নয়। সমাজ সভ্যতার রাজনীত কিংবা বিশ্বের সাথে এর কোন
সংশিষ্টতা নেই। কিš‘ শূণ্য এখন পর্যন্ত মনে হ”েছ এই ভাবনাটির সাথে
একাত্ত নয়। কেননা বিষয়িক বৈচিত্রতা আত্ম-সমালোচনা তাও যদি পোস্ট
কলনিয়াল ভাবধারার আবর্তিত হয়।
নব্বইয়ের যে সকল কবিতা এখনও সমান সক্রিয় এবং প্রতিস্ঠিত নিজস্ব
স্বরে কবিতা চর্চা করে বলেছেন মূলত তাদের প্রেক্ষিতেই শূণ্যের ভিক্তিকরণ।
যারা অতি কিংবা এখনও নিজের স্বরটি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নি সঙ্গত
কারণে তাদেরকে আলোচনায় না আনাটাই যুক্তিযুক্ত। কারণ সচরাচর প্রতিষ্ঠিত
নিজস্ব স্বরেই কবিতা অব্যাহত রাখেন কবিরা।
পিতার সৌধের নিজে ভূমিষ্ঠ কুকুর
নাম লিকে নিজেদের
তবে সুখ কোন মহিষের নাম?
ভরসার মাতৃত্বকোড়ে প্রলোভন অবশিষ্ট থাকে।
ত.স.কো.ম.না
রাজনৈতিক মহত্বের বলি, জাতির পিতা ও তার বলিদান, আমরা আজ জনে জনে
জানি। গজিয়ে উঠা পরগাছারা আজ বিরাট মহিরূহ সমান। নিজেদের নাম
এরা ইতিহাসে ই”েছ মত উঠা”েছ, মুছে দি”েছ।
দেশের আর্তসামাজিক প্রেক্ষাপট অতীত ইতিহাস, ইতিহাসের কলঙ্ক ও সেই
কলঙ্কের শেকড়সহ পুনর“ত্থান সবকিছু চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে। “তবে
সুখ....... কবিতায়। উত্থানশীল কবিতার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে ক্রিপ্টোগ্রাফি
রচনায় স্বাক্ষর রেখেছেন কাজী নাসির মামুন।
শূন্য দশকে এসে আবার হৃদয়তাড়িত অনুভূতিগুলো গভীর সিম্ফোনী নিয়ে
কবিদের লেখায় জেগে উঠছে। আর সঙ্গত কারণেই তা ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে।
অনুভূতি ধরা দি”েছ অনেকটা মেনেলা সিনেমার সেই শেষ সংলাপের মত
“আমি এই জীবনে অনেক মেয়েদের সাথে মিশেছি। অনেককেই ভাল লেগেছে।
তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে আমাকে মনে রাখবে তো? আমি বলেছি রাখব।
শুধু ঐ মেয়েটাকে কখনোই ভুলব না যে আমাকে কোনদিন বলেনি আমাকে মনে
রেখ।”
ডাইমেনশনাল সময়ে মনও বহুগামী হয়। আবার অসংকুচে বিশেষণ করে।
সোসাল ফ্লিক্সিবিলিটি ও কিংবা উদার নৈতিকতার পরিপূর্ণ ছাপ কেবল
শূণ্যের সাহসী তারণ্যের রচনাকেই খোঁজা যেতে পারে।
রাজা গোপালের শাসনামল, বাইকামুলী দাসী, কংক দাশী, থিবিস, মহান্ত।
এলিয়ট যেমন ফ্রিভার্স এর পাশপাশি কবিতায় মুক্ত ছন্দের সাথে লিরিক এর
ব্যবহার করেছেন তেমনি কাজী নাসির মামুনের কবিতায়ও দেখা যায়।
নাসির মামুনের কবিতা শুর“ হয়েছে পরম্পরা দিয়ে। যা শুর“ টিএস এলিয়টের
দ্যা লাভ সং অব জে আলফ্রেট প্র“ফক কবিতাটির স্টাইল-এ। যদিও বাংলা
সাহিত্যের এলিয়টের প্রভাব এলিয়ট চর্চা নতুন কিছু নয়। রবী ঠাকুর থেকে
জীবনানন্দ সবাই কোন কোন ভাবে এলিয়ট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
বইয়ে শিরোনাম কবিতাটি মামুন লিখেছেন মিথলজিকেল এসপেক্ট নিয়ে।
সিরিজ কবিতাটির সূচনা সনেটের আঙ্গিকে দেখে মিথের বৈশিষ্ট্যের সাথে
আঙ্গিকে কবি কবিতাটি সামঞ্জস্য আনতে চেয়েছেন বলে মনে হয়। কিš‘ এর
অধারাবাহিকতা (ডিসকনটিনিয়াস) পাঠককে এলোমেলো ভাবনার সামনে
দাঁড় করিয়ে দেয়। সিরিজ কবিতা কিংবা দীর্ঘ কবিতা স্বভাবতই কবির
কাছে একটুস বেশী মনোযোগ দাবি করে।
সূর্যই নাটের গুর“
“লখিন্দর বেহুলা জাগাও, কুলনাশা মরা দেশ।”
ও পাখি ও বৃক্ষ,
ও আমার লাটিম ঘুরানো মাঠ
দেখাবো সাহস?
লখিন্দরের গান শেষ হয় এভাবে
মাছে বাতে স্বপ্নমোড়া গুপ্ত পুলসেরাত;
আমার দখল নেবে কে আছে এমন?
বাঙালির জাতিয়তাবোধের দৃপ্ত উ”চারণের মধ্য দিয়ে এর অবিনাশী স্রোতের
প্রতিকূলে দাঁড়াতে চেয়েছেন কাজী নাসির মামুন। লক্ষ্য করছি উত্তরে
উপনিবেশিক চেতনা জাগ্রত হ”েছ আমাদের মধ্যে। আর এই জাগ্রহত চেতনার
সারনীতি ক্রমশঃ লম্বা হ”েছ ধৃষ্ট লাঠিয়ালদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পা”েছ,
যা আমাদের পরিচয় করিয়ে দি”েছ নিজের সাথে নিজেকে।
সুমন চট্টোপাধ্যায়ের “জাতিস্মর” গানে সুন্দর একটা কলি আছে।
“.......... বেহুলারা কখনো বিধবা হয় না
এটা বাংলার রীতি।”
লেবেলসমূহ:
আলোচনা-সমালোচনা
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
আজকের কবিকে তাঁর নিজের উদ্দেশ্য ও কবিতার উদ্দেশ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হয়। সে কবিতাকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে কোথাও পৌঁছুতে চায় কি-না; এই প্রশ্নের মীমাংসা শুরুতেই করে নিতে হয়। অপর দিকে কেনো এবং কার জন্য লিখবে তা-ও নির্দিষ্ট করা জরুরি। কেননা, বাংলা কবিতা আজ এমন এক স্থানে পৌঁছেছে, যেখান থেকে সে কোনো অযাচিত কবি ও কবিতাকে তাঁর ছায়াতলে স্থান দিতে বাধ্য নয়। তবে, মিডিয়ার জন্য আজ এ ধরণের কবি ও কবিতা উভয়েরই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আমি এই 'গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে' সমপ্রদায়টাকে শ্রদ্ধার সাথে আলোচনা থেকে বিরত রেখে বাদবাকী কথাগুলো বলছি।
বাংলা কবিতায় বহু কবি তাঁদের যোগ্যতার স্বার রাখছেন এবং রেখে গেছেন। সেখানে যদি আর কোন প্রথাগত নতুন কবি, কবিতা না লেখেন; তবে মনে হয় না যে, বাংলা কবিতা অথবা বিশ্ব কবিতার খুব বেশী একটা তি হবে। আবার বছরের পর বছর ধরেও যদি কোন নবীন কবির স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর চিহ্নিত না হয়, তাহলেও নিশ্চয়ই খুব একটা আফসোস থাকবে না। কারণ, চর্যাপদের মাঠ পেরিয়ে বাংলা কবিতাকে দু'শ বছরের অনাবাদি জমিন পাড়ি দিতে হয়েছে।
তারপর মঙ্গল>মধুসূদন>রবীন্দ্র যুগ পেরিয়ে পঞ্চপাণ্ডবদের বিসতৃতি। সংেেপ তাই বলা যায়, বাংলা কবিতা তাঁর প্রধান কণ্ঠস্বরের জন্য অপো করতে জানে। শুধু মিডিয়ার দৌরাত্নে আমরাই অপো করতে ভুলে গেছি। প্রাপ্তির আকাঙ্খায় নিজের সৃজনশীলতায় কৃত্রিম 'তা' দিয়ে রাতারাতি ফুঁটিয়ে তুলছি আকাঙ্খার ডিম। অথচ বেমালুম ভুলে যাই_ সাহিত্যে প্রাপ্তি ও মূল্যায়ন সাধারণত একই সাথে হয় না। তবুও কেউ জনপ্রিয় বা বহুলপঠিত হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলে তাকে এই সত্য মাথায় রাখতে হবে যে, 'সত্যিকারের গভীর জীবনবোধ সম্পন্ন উঁচুমানের মননশীল বই সাধারণত পাঠকপ্রিয় হয় না। সাধারণ পাঠকরা সেসব বইয়ের নাম জানেন, দূর থেকে শ্রদ্ধা করেন কিন্তু মননে কিংবা হৃদয়ে ধারণ করতে পারেন না।'
(ভুমিকাঃ দৃষ্টিপাত/নাহিদ আহসান)
এটা অবশ্য সাধারণ পাঠকদের দোষ নয়, বরং এটাই স্বাভাবিক। সমাজের সব মানুষ যে সূ্ন অনুভূতি নিয়ে জন্মায় না; এই কথাটা রূঢ় হলেও সত্য। আর এই সত্যে বিশ্বাস রাখেন এমন পাঠক যেমন রয়েছেন, সাহিত্যিকও আছেন। সাহিত্য জগতে কোনো কোনো লেখক বিশেষ কোন শ্রেণীর পাঠকের অতিরিক্ত মনোযোগ দাবি করতেই পারেন। সেই লেখক যদি আজীবন এই একইভাবে বিশেষ শ্রেণীর পাঠকের অতিরিক্ত মনোযোগ দাবি করে সাধারণের কাছে দুবের্াধ্য রয়ে যান; সেজন্য ঐ লেখককে সাধারণের অপঠিত বলে মূল্যায়নে কারপন্ন করলে চলবে না। তবে, যাঁরা স্বভাবতই চিন্তাশীল, আত্নমগ্ন, কবি, তাঁরা চিরকালই নিঃসঙ্গ। তাঁরা অপ্রাপ্তির একটা ধারাবাহিক বঞ্চনা ভোগ করে যান জীবিতাবস্থায়। আর এইসব লেখককেই ধারণ করে লিটলম্যাগ। লিটলম্যাগের কণ্ঠ তাই চীরকাল-ই বিদ্রোহী।
খুব সম্ভবত, সচেতনভাবে এই বিদ্রোহী কণ্ঠের কোরাস বেঁজে উঠেছিল কল্লোলযুগে। কল্লোলে প্রকাশিত, 'রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক' প্রবন্ধে বুদ্ধদেব বসু লিখেছিলেন, 'বাংলা ভাষায় কবিতা লেখার কাজটি তিনি (রবীন্দ্রনাথ) অনেক বেশী কঠিন করে দিয়েছেন। একজনের বেশী রবীন্দ্রনাথ সম্ভব নয়; তার পরে কবিতা লিখতে হলে এমন কাজ বেছে নিতে হবে যে কাজ তিনি করেন নি; তুলনায় ুদ্র হলে_ হবারই সম্ভাবনা_ তাই নিয়েই তৃপ্ত থাকা চাই।" মধ্যযুগীয় অনাত্ন আবহকে অস্বীকার করে মধুসূদন দত্ত যেটুকু অগ্রসর হয়েছিলেন, তার তুলনায় তাঁর-ই আবহকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে মধুসূদনকে অতিক্রম করে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর অতিক্রমণের ধারায় কল্লোলযুগের উচ্চারণ ছিল, 'অন্ধভক্তির উপর আমাদের আর আস্থা নেই; আমরা বিশ্বাস করতে শিখেছি বিজ্ঞানকে। ভগবান, ভূত ও ভালবাসা_ এ তিনটি জিনিসের উপর আমাদের প্রাক্তন বিশ্বাস আমরা হারিয়েছি।'
(বু:ব/অতি আধুনিক বাংলা সাহিত্য)
এই অস্বীকার প্রবনতার ফলে তিরিশের যে কবিতাবিপ্লব তার ধারাবাহিকতাকে গ্রহণ করে চলমান সময় পর্যন্ত এর চর্চা অব্যাহত রয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠিত চেতনাকে অতিক্রম না করে কোন ভাষাতেই নতুন ধারার সূত্রপাত ঘটেনি। তবে, প্রতিষ্ঠিত চেতনাকে অতিক্রম করতে হলে কবিদের প্রথমত আত্নসত্তার প্রতিষ্ঠা তথা নিজস্ব স্বকীয়তার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হয়।
আমার বিশ্বাস, কবিতা হচ্ছে সৃষ্টি ও নির্মাণ_ এই দু'য়ের সমন্বয়। কবিতা তৈরী হবে যুক্তি ও যাদুর সমন্বয়ে, এর শব্দ ব্যবহার প্রচলিত অর্থকে ধারণ করে কবিতাকে করে তুলবে ব্যঞ্জনাময়। কবিতার শব্দরা এক একটি অরচিত্র হয়ে
পাঠকের কাছে ক্রমাগত পৌঁছে দেবে সংকেতের পর সংকেত। সংকেত ও ইঙ্গিতের যৌথ বির্নিমাণে সৃষ্টি হবে কবিতা। এক এক সময় মনে হয় মিশেল ফুকো'র কথাটাই বুঝি সত্যি_ 'কবিতার পাঠান্তর ও জটিল বির্নিমাণের দ্বারা শিল্পের গোপন, লোকায়ত অবতল স্পর্শ করা যায়।'
এটা তো সর্বজনবিধিত যে, প্রত্যেক কবির কবিতায় ইনটুনেশন (নিজস্ব স্বরায়ন) প্রয়োজন। একে চিহ্নিত করা হয়তো সময়ের কাজ কিন্তু শুরুর প্রবণতা থাকা উচিৎ লেখকের মধ্যে। যদি পুরনো পথেই হেঁটে গেলাম, যদি অন্যের স্বরে কথা বললাম, অন্যের চোখে বিশ্ব দেখলাম_ তাহলে সেই বহুলচর্চিত অভিজ্ঞতা বয়ানের কি প্রয়োজন? তবে এ-ও হয়তো ঠিক নয় যে, স্বাতন্ত্রতা প্রকাশ পেলেই বড় মাপের কোন কিছু হয়ে যাওয়া যাবে!
কিন্তু এটাকে গন্তব্যে পৌঁছার সঠিক রাস্তায় হিসেবী পদপে হিসেবে নিশ্চয়ই চিহ্নিত করা যায়।
মুঠোফোনের এই যুগে কবিরা প্রতিনিয়ত পরিচিত হচ্ছেন অত্যাধুনিক আবিস্কারের সাথে। দ্রুতগতির যুগে সব কিছু বদলে যাচ্ছে দ্রুত। দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন। এখন মানুষ সব কিছুতেই ওই বিষয়টার নিযর্াস চায়। দিনদিন মানুষের ডিটেইলস এর প্রতি অমনোযোগিতা কিংবা অনাগ্রহ_ সাহিত্যেও প্রভাব ফেলছে। এর ফলশ্রুতিতে সাহিত্য বাজারে অণু'র আর্বিভাব। তবে এই পরিবর্তনের ফলে বাংলা কবিতা থেকে (কিছু অঞ্চলব্যাতিত) ন্যাকামি-টাইপ কথার্বাতা প্রায় বিদায় নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ১৯৫৪ সালের সেনেট হলে অনুষ্ঠিত দু'দিনব্যাপি কবি সম্মেলনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই কবি সম্মেলনের পর বাংলা কবিতায় সৃষ্টি হয়েছিল একটি প্রবণতা; আর তা হলঃ কাব্যপাঠ কবিকর্মের একটি অঙ্গ। চলল কিছুদিন। তারপর ভাব-ভাষার সোজাসুজি প্রকাশ ভঙ্গিটি ক্রমে কবিদের কাছ থেকে সরে আশ্রয় নিলো মিডিয়াবাজদের হাতে। আর তখনই কবিতা ভুল অর্থে হয়ে উঠল সামাজিক। তবে আজকাল সাবজেক্টিভ কবিতার র্চচা তেমন একটা হয়-ই না বললেও চলে। চারপাশের বহুর্মুখি অভিজ্ঞতা ও বিষয়ের বৈচিত্র্যতার ফলে সমকালীন (পরীণপ্রিয়) কবিদের কবিতায় চর্চিত হচ্ছে নিত্য-নতুন কনসেপ্ট। এর ফলে আধুনিক মন ও মনন বিশ্বায়নের ইতিবাচক সারায় মিলে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণে, কবিতা পাঠককে (লেখক-পাঠক) কবিতা পড়তে হলে বসতে হচ্ছে অনেকগুলো চোখ নিয়ে।
আর এই এক একটি চোখ বহুদৃশ্য ধারণে সম।
এই সম চোখগুলোকে পুঁজিতে রেখে যারা অনুভূতির রাজ্যে সংকেত ও ইঙ্গিত নিয়ে নাড়াচাড়া করে আমি লেখালেখির েেত্র ঐ দলে থাকতেই স্বাছন্দবোধ করি। আর বিশ্বাস করি, কবিতা পাঠকরা কবিতাকে অনুভব করার জন্য মুটামুটি একটা প্রস্তুতিপর্ব পেরিয়ে অন্বেষণপর্বে নামেন। এই বিশ্বাস অল্পবিস্তর প্রায়োগিক হলেও; অমূলক নিশ্চয়ই নয়। কঠিন শব্দ দিয়ে কবিতা-শরীর গড়ার চেয়ে প্রচলিত ও পরিচিত শব্দের বুননে যে কবিতা রহস্যের চাদরে ঢেকে থাকে সে রকম কবিতার প্রতিই আমার আগ্রহ বেশী। কবিতা পড়ে অনুভূতির রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া; হারিয়ে খুঁজে পাওয়া অথর্াৎ আবিস্কার-প্রবণতা রয়েছে এমন কবিতার প্রতি-ই ঝোঁকটা বেশী। যে সকল কবিতা পড়ে আবিস্কার করার মত কিছুই থাকে না কিংবা যে কবিতা চর্চায় রহস্যময়তা নেই, সে মত কবিতা চর্চায় অথবা পঠনে আমার আগ্রহ কম। কবিতার বিচারে অনুভূতি-ই হবে প্রধান নিয়ামক। আর এর প্রতিধ্বনিটা যেন নিজের কবিতায় শুনতে পাই সে দিকে ল্য রাখার চেষ্টা করি।
প্রকৃতির উপর মানুষের জয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমরা যে আত্ননির্ভশীল সমাজ-প্রক্রিয়া অতিক্রম করছি; সচেতনভাবে ল্য রাখতে হবে সেখানে যেন আবার কোন অদৃশ্য শক্তি নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে না পারে।
বাংলা কবিতায় বহু কবি তাঁদের যোগ্যতার স্বার রাখছেন এবং রেখে গেছেন। সেখানে যদি আর কোন প্রথাগত নতুন কবি, কবিতা না লেখেন; তবে মনে হয় না যে, বাংলা কবিতা অথবা বিশ্ব কবিতার খুব বেশী একটা তি হবে। আবার বছরের পর বছর ধরেও যদি কোন নবীন কবির স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর চিহ্নিত না হয়, তাহলেও নিশ্চয়ই খুব একটা আফসোস থাকবে না। কারণ, চর্যাপদের মাঠ পেরিয়ে বাংলা কবিতাকে দু'শ বছরের অনাবাদি জমিন পাড়ি দিতে হয়েছে।
তারপর মঙ্গল>মধুসূদন>রবীন্দ্র যুগ পেরিয়ে পঞ্চপাণ্ডবদের বিসতৃতি। সংেেপ তাই বলা যায়, বাংলা কবিতা তাঁর প্রধান কণ্ঠস্বরের জন্য অপো করতে জানে। শুধু মিডিয়ার দৌরাত্নে আমরাই অপো করতে ভুলে গেছি। প্রাপ্তির আকাঙ্খায় নিজের সৃজনশীলতায় কৃত্রিম 'তা' দিয়ে রাতারাতি ফুঁটিয়ে তুলছি আকাঙ্খার ডিম। অথচ বেমালুম ভুলে যাই_ সাহিত্যে প্রাপ্তি ও মূল্যায়ন সাধারণত একই সাথে হয় না। তবুও কেউ জনপ্রিয় বা বহুলপঠিত হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করলে তাকে এই সত্য মাথায় রাখতে হবে যে, 'সত্যিকারের গভীর জীবনবোধ সম্পন্ন উঁচুমানের মননশীল বই সাধারণত পাঠকপ্রিয় হয় না। সাধারণ পাঠকরা সেসব বইয়ের নাম জানেন, দূর থেকে শ্রদ্ধা করেন কিন্তু মননে কিংবা হৃদয়ে ধারণ করতে পারেন না।'
(ভুমিকাঃ দৃষ্টিপাত/নাহিদ আহসান)
এটা অবশ্য সাধারণ পাঠকদের দোষ নয়, বরং এটাই স্বাভাবিক। সমাজের সব মানুষ যে সূ্ন অনুভূতি নিয়ে জন্মায় না; এই কথাটা রূঢ় হলেও সত্য। আর এই সত্যে বিশ্বাস রাখেন এমন পাঠক যেমন রয়েছেন, সাহিত্যিকও আছেন। সাহিত্য জগতে কোনো কোনো লেখক বিশেষ কোন শ্রেণীর পাঠকের অতিরিক্ত মনোযোগ দাবি করতেই পারেন। সেই লেখক যদি আজীবন এই একইভাবে বিশেষ শ্রেণীর পাঠকের অতিরিক্ত মনোযোগ দাবি করে সাধারণের কাছে দুবের্াধ্য রয়ে যান; সেজন্য ঐ লেখককে সাধারণের অপঠিত বলে মূল্যায়নে কারপন্ন করলে চলবে না। তবে, যাঁরা স্বভাবতই চিন্তাশীল, আত্নমগ্ন, কবি, তাঁরা চিরকালই নিঃসঙ্গ। তাঁরা অপ্রাপ্তির একটা ধারাবাহিক বঞ্চনা ভোগ করে যান জীবিতাবস্থায়। আর এইসব লেখককেই ধারণ করে লিটলম্যাগ। লিটলম্যাগের কণ্ঠ তাই চীরকাল-ই বিদ্রোহী।
খুব সম্ভবত, সচেতনভাবে এই বিদ্রোহী কণ্ঠের কোরাস বেঁজে উঠেছিল কল্লোলযুগে। কল্লোলে প্রকাশিত, 'রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক' প্রবন্ধে বুদ্ধদেব বসু লিখেছিলেন, 'বাংলা ভাষায় কবিতা লেখার কাজটি তিনি (রবীন্দ্রনাথ) অনেক বেশী কঠিন করে দিয়েছেন। একজনের বেশী রবীন্দ্রনাথ সম্ভব নয়; তার পরে কবিতা লিখতে হলে এমন কাজ বেছে নিতে হবে যে কাজ তিনি করেন নি; তুলনায় ুদ্র হলে_ হবারই সম্ভাবনা_ তাই নিয়েই তৃপ্ত থাকা চাই।" মধ্যযুগীয় অনাত্ন আবহকে অস্বীকার করে মধুসূদন দত্ত যেটুকু অগ্রসর হয়েছিলেন, তার তুলনায় তাঁর-ই আবহকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে মধুসূদনকে অতিক্রম করে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর অতিক্রমণের ধারায় কল্লোলযুগের উচ্চারণ ছিল, 'অন্ধভক্তির উপর আমাদের আর আস্থা নেই; আমরা বিশ্বাস করতে শিখেছি বিজ্ঞানকে। ভগবান, ভূত ও ভালবাসা_ এ তিনটি জিনিসের উপর আমাদের প্রাক্তন বিশ্বাস আমরা হারিয়েছি।'
(বু:ব/অতি আধুনিক বাংলা সাহিত্য)
এই অস্বীকার প্রবনতার ফলে তিরিশের যে কবিতাবিপ্লব তার ধারাবাহিকতাকে গ্রহণ করে চলমান সময় পর্যন্ত এর চর্চা অব্যাহত রয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠিত চেতনাকে অতিক্রম না করে কোন ভাষাতেই নতুন ধারার সূত্রপাত ঘটেনি। তবে, প্রতিষ্ঠিত চেতনাকে অতিক্রম করতে হলে কবিদের প্রথমত আত্নসত্তার প্রতিষ্ঠা তথা নিজস্ব স্বকীয়তার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হয়।
আমার বিশ্বাস, কবিতা হচ্ছে সৃষ্টি ও নির্মাণ_ এই দু'য়ের সমন্বয়। কবিতা তৈরী হবে যুক্তি ও যাদুর সমন্বয়ে, এর শব্দ ব্যবহার প্রচলিত অর্থকে ধারণ করে কবিতাকে করে তুলবে ব্যঞ্জনাময়। কবিতার শব্দরা এক একটি অরচিত্র হয়ে
পাঠকের কাছে ক্রমাগত পৌঁছে দেবে সংকেতের পর সংকেত। সংকেত ও ইঙ্গিতের যৌথ বির্নিমাণে সৃষ্টি হবে কবিতা। এক এক সময় মনে হয় মিশেল ফুকো'র কথাটাই বুঝি সত্যি_ 'কবিতার পাঠান্তর ও জটিল বির্নিমাণের দ্বারা শিল্পের গোপন, লোকায়ত অবতল স্পর্শ করা যায়।'
এটা তো সর্বজনবিধিত যে, প্রত্যেক কবির কবিতায় ইনটুনেশন (নিজস্ব স্বরায়ন) প্রয়োজন। একে চিহ্নিত করা হয়তো সময়ের কাজ কিন্তু শুরুর প্রবণতা থাকা উচিৎ লেখকের মধ্যে। যদি পুরনো পথেই হেঁটে গেলাম, যদি অন্যের স্বরে কথা বললাম, অন্যের চোখে বিশ্ব দেখলাম_ তাহলে সেই বহুলচর্চিত অভিজ্ঞতা বয়ানের কি প্রয়োজন? তবে এ-ও হয়তো ঠিক নয় যে, স্বাতন্ত্রতা প্রকাশ পেলেই বড় মাপের কোন কিছু হয়ে যাওয়া যাবে!
কিন্তু এটাকে গন্তব্যে পৌঁছার সঠিক রাস্তায় হিসেবী পদপে হিসেবে নিশ্চয়ই চিহ্নিত করা যায়।
মুঠোফোনের এই যুগে কবিরা প্রতিনিয়ত পরিচিত হচ্ছেন অত্যাধুনিক আবিস্কারের সাথে। দ্রুতগতির যুগে সব কিছু বদলে যাচ্ছে দ্রুত। দৃষ্টিগোচর হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন। এখন মানুষ সব কিছুতেই ওই বিষয়টার নিযর্াস চায়। দিনদিন মানুষের ডিটেইলস এর প্রতি অমনোযোগিতা কিংবা অনাগ্রহ_ সাহিত্যেও প্রভাব ফেলছে। এর ফলশ্রুতিতে সাহিত্য বাজারে অণু'র আর্বিভাব। তবে এই পরিবর্তনের ফলে বাংলা কবিতা থেকে (কিছু অঞ্চলব্যাতিত) ন্যাকামি-টাইপ কথার্বাতা প্রায় বিদায় নিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ১৯৫৪ সালের সেনেট হলে অনুষ্ঠিত দু'দিনব্যাপি কবি সম্মেলনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই কবি সম্মেলনের পর বাংলা কবিতায় সৃষ্টি হয়েছিল একটি প্রবণতা; আর তা হলঃ কাব্যপাঠ কবিকর্মের একটি অঙ্গ। চলল কিছুদিন। তারপর ভাব-ভাষার সোজাসুজি প্রকাশ ভঙ্গিটি ক্রমে কবিদের কাছ থেকে সরে আশ্রয় নিলো মিডিয়াবাজদের হাতে। আর তখনই কবিতা ভুল অর্থে হয়ে উঠল সামাজিক। তবে আজকাল সাবজেক্টিভ কবিতার র্চচা তেমন একটা হয়-ই না বললেও চলে। চারপাশের বহুর্মুখি অভিজ্ঞতা ও বিষয়ের বৈচিত্র্যতার ফলে সমকালীন (পরীণপ্রিয়) কবিদের কবিতায় চর্চিত হচ্ছে নিত্য-নতুন কনসেপ্ট। এর ফলে আধুনিক মন ও মনন বিশ্বায়নের ইতিবাচক সারায় মিলে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণে, কবিতা পাঠককে (লেখক-পাঠক) কবিতা পড়তে হলে বসতে হচ্ছে অনেকগুলো চোখ নিয়ে।
আর এই এক একটি চোখ বহুদৃশ্য ধারণে সম।
এই সম চোখগুলোকে পুঁজিতে রেখে যারা অনুভূতির রাজ্যে সংকেত ও ইঙ্গিত নিয়ে নাড়াচাড়া করে আমি লেখালেখির েেত্র ঐ দলে থাকতেই স্বাছন্দবোধ করি। আর বিশ্বাস করি, কবিতা পাঠকরা কবিতাকে অনুভব করার জন্য মুটামুটি একটা প্রস্তুতিপর্ব পেরিয়ে অন্বেষণপর্বে নামেন। এই বিশ্বাস অল্পবিস্তর প্রায়োগিক হলেও; অমূলক নিশ্চয়ই নয়। কঠিন শব্দ দিয়ে কবিতা-শরীর গড়ার চেয়ে প্রচলিত ও পরিচিত শব্দের বুননে যে কবিতা রহস্যের চাদরে ঢেকে থাকে সে রকম কবিতার প্রতিই আমার আগ্রহ বেশী। কবিতা পড়ে অনুভূতির রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া; হারিয়ে খুঁজে পাওয়া অথর্াৎ আবিস্কার-প্রবণতা রয়েছে এমন কবিতার প্রতি-ই ঝোঁকটা বেশী। যে সকল কবিতা পড়ে আবিস্কার করার মত কিছুই থাকে না কিংবা যে কবিতা চর্চায় রহস্যময়তা নেই, সে মত কবিতা চর্চায় অথবা পঠনে আমার আগ্রহ কম। কবিতার বিচারে অনুভূতি-ই হবে প্রধান নিয়ামক। আর এর প্রতিধ্বনিটা যেন নিজের কবিতায় শুনতে পাই সে দিকে ল্য রাখার চেষ্টা করি।
প্রকৃতির উপর মানুষের জয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমরা যে আত্ননির্ভশীল সমাজ-প্রক্রিয়া অতিক্রম করছি; সচেতনভাবে ল্য রাখতে হবে সেখানে যেন আবার কোন অদৃশ্য শক্তি নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে না পারে।
লেবেলসমূহ:
আলোচনা-সমালোচনা
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
[সহস্র ভোল্টের বাঘ। জফির সেতু।
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০০৬।
প্রকাশকঃ শুদ্ধস্বর, ঢাকা।
প্রচ্ছদঃ সব্যসাচী হাজরা।
মূল্যঃ পঞ্চাশ টাকা।]
সহস্র ভোল্টের বাঘ!
সাধারণত বাঘ বলতেই আমরা তেজদীপ্ত, সাহসী ও শক্তিশালী কোন কিছু ভেবে থাকি। আর সেই বাঘ যদি হয় সহস্র ভোল্টের_ তবে তো নিজেকে আরো সচেতন ভাবে প্রস্তুত করতে হয় সেই 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর গর্জন শুনার জন্য।
বইয়ের ফাপ ও বিভিন্ন লিটলম্যাগ দেখে জানা যায় 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর কবি, জফির সেতু ছোট কাগজ চর্চার সাথেও জড়িত। তাছাড়া ফাপের প্রথম অংশে লিখিত বেনামী প্রাককথণে যখন দেখি...' _ যা অবশ্যই রাহমানের চিড়িয়াখানা-র চাইতে পৃথক, মাহমুদের আসঙ্গলিপ্সার থেকে দূরবর্তী, _গর্জমান এবং আলো-বিচ্ছুরণশীল যে চোখ ঝলসে দিতে সম...' তখন চোখের হিসেব ছেড়ে দিয়ে কানকে বলি_ তুমি প্রস্তুত হও গর্জন শুনার জন্য, মস্তিস্ক প্রস্তুত হও ধারণের জন্য আর হৃদয় তৈরী থেকো অনুভবের জন্য। তবে এবার কবি জফির সেতু 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর গর্জন কতটা সার্থকভাবে তুলে ধরেছেন সাদা কাগজের প্রতিটি পৃষ্ঠায়; তা আবিস্কারের জন্য পাঠ শুরু করা যাক।
যেহেতু এই কবির স্বর রাহমান কিংবা মাহমুদের মত নয়, (হবে-ই-বা কেন?) তাই একজন কবি'র কবিতা চলমান দশকেই পঠিত হচ্ছে বলে পাঠকের অতিরিক্ত মনোযোগ দাবী করতেই পারে।
"সিন্ধুর গোপন গান জীবনে খুব কম লোকে শোনে
আমাকে প্রতিভু পাখি ভেবে যারা বসিয়ে রাখে পাতায়
তাদের নাড়িতে টাইগ্রিস লোহিত উত্তেজনায় কাঁপে"
'এমন বসন্তদিনে'
তাই সঙ্গত কারণেই ছাবি্বশটি গর্জনে কেমন করে ফঁটে উঠেছে 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর চরিত্র_ তা দেখার দাবী রাখে।
"টাওয়ার থেকে যে ফড়িংটি নেমে এল
তার জন্য দরকার আরেকটি ইকোপার্ক
পৃথিবীর পথে পথে ইলেকট্রিক সিগন্যাল
এই ভেবে আমরা যখন পা থেকে কাদা ঝাড়ছি
নারীরা কী ভেবে যে ঘুম ঘুম চোখে কাঁদছে, শুধু কাঁদছে"
'ফড়িং'
আমার কাছে মাঝে-মধ্যে মনে হয়, একটি লাইন-ই বুঝি কবিতার প্রাণ কিংবা সমগ্র কবিতাই বুঝি একটা লাইন। যেখানে অনুভূতির গভীরে সহস্র লাইনের বিচ্ছুরণ ঘটে। আর এমন একটি প্রসঙ্গের আলোচনায় আবু হাসান শাহরিয়ার বলেছিলেন, 'আসলে সবাই মিলে আমরা একটা কবিতা-ই তো লিখে চলেছি। এ যেন সহস্র নদীর একটি ঢেউ-এর মত।' তাঁর-ই এক লাইনের একটা কবিতা আছে এমন_ 'নষ্ট চোখে পাখিকেও পৃথিবীর ময়লা মনে হয়।' তেমনি জফির সেতু'র কবিতায়ও কিছু প্রাণসঞ্চারী পংক্তি আছে। পাঠকের জন্য উল্লেখ্য করছি_
ক. 'এখন তাদের এঁদো দালানে দুপুর রাতে পথ হারায় অন্ধ জোনাকি' [প্রত্যহ প্রবাহ]
খ. 'রাষ্ট্র বিপ্লবে কামার্ত রমণীরা কখনো বীরপ্রসূ হতে পারে না' [জীবন বৃত্তন্ত]
গ. 'মধুর চাকের অন্ধকার আমাকে জাগিয়ে রাখে' [আত্নজৈবনিক]
ঘ. 'কত লোভ আর ঝড়ো অন্ধকার মৃত্তিকার পাহাড়ে' [স্তন]
ঙ. 'পাতার আড়ালে পড়ে আছি অহেতুক পতঙ্গের মতো বহুকাল' [অহেতুক পতঙ্গ]
তবে কবিতার বিচারে কোন মন্তব্যই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের প্রেেিত এর আবেদন বদলাতে পারে এবং বদলায়। 'আমরা জানি সময়ের বিবর্তনে আধুনিকতার সংজ্ঞার্থের যেমন চরিত্র বদল ঘটেছে, তেমনি এককালের আধুনিকেরা সময়ের নির্মম বিচারে প্রথাগত অবিধায় বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু একটা জাতিস্বত্তার মিথ, প্রত্নস্মৃতি, নৃবৈজ্ঞানিক প্যারাডাইম, ঐতিহ্যবোধ, প্রেম-অপ্রেম, মন ও মনন যখন কোন কবির আধার ও আাধেয়কে সম্পন্নতা দান করে_ তখন প্রথাচিহ্নিত বর্জনের তালিকায় তাকে নিপে করা যায় না।' [ভূমিকা ঃ বাংলাদেশের তিন দশকের কবিতা: রফিক উল্লাহ খান]
কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের কবিকে চিহ্নিত করতে হয় তাঁর স্বাতন্ত্র বা রহঃড়হধঃরড়হ দিয়ে। পূর্ববতর্ী থেকে নিজেকে আলাদা হিসেবে ঘোষণা দিলে তার জন্য প্রয়োজন পড়ে কিছূ আলাদা বৈশিষ্ট্যের।
শিশুর কড়ে আঙুলে গাঢ় টৌকা মারি ফড়িঙের ডানায় একটা হেলিকপ্টার বাঁধি' (ছায়া)
উক্ত কবিতাটিতে যে 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর গর্জন মুদ্রিত হয়েছে তা আবিস্কারের পর কবি'র অভিলাষের প্রসংশা না করে পারা যায় না। এই পংক্তিতেই সহস্র ভোল্পের বাঘ এর সত্যিকারের গর্জন প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে হয়।
কিন্তু 'প্রেম' কবিতায় যখন একই কবি আবার লিখেন_
'প্রেম, মাঝরাতে সঙ্গমরত টিকটিকি ধপাস করে বুকের উপর পড়ে যায়
দুপুরে অফিস ফাঁকি দিয়ে ছুটা বুয়ার সাথে ধস্তাধস্তি করে
প্রেম, তাগড়া ষাড়ের মতো মাটিতে হুংকার দিয়ে তেড়ে তেড়ে আসে
আমি কখনো এদের সামনে সাহস করে দাঁড়াতে পারি না!
তখন ভাবি, নীতি-নৈতিকতার ভয়ে যে কবি 'প্রেম' এর মত 'ট্রাডিশনাল ইমোশন' এর মুখোমুখি হতে ভয় পান তিনি নিজের
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০০৬।
প্রকাশকঃ শুদ্ধস্বর, ঢাকা।
প্রচ্ছদঃ সব্যসাচী হাজরা।
মূল্যঃ পঞ্চাশ টাকা।]
সহস্র ভোল্টের বাঘ!
সাধারণত বাঘ বলতেই আমরা তেজদীপ্ত, সাহসী ও শক্তিশালী কোন কিছু ভেবে থাকি। আর সেই বাঘ যদি হয় সহস্র ভোল্টের_ তবে তো নিজেকে আরো সচেতন ভাবে প্রস্তুত করতে হয় সেই 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর গর্জন শুনার জন্য।
বইয়ের ফাপ ও বিভিন্ন লিটলম্যাগ দেখে জানা যায় 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর কবি, জফির সেতু ছোট কাগজ চর্চার সাথেও জড়িত। তাছাড়া ফাপের প্রথম অংশে লিখিত বেনামী প্রাককথণে যখন দেখি...' _ যা অবশ্যই রাহমানের চিড়িয়াখানা-র চাইতে পৃথক, মাহমুদের আসঙ্গলিপ্সার থেকে দূরবর্তী, _গর্জমান এবং আলো-বিচ্ছুরণশীল যে চোখ ঝলসে দিতে সম...' তখন চোখের হিসেব ছেড়ে দিয়ে কানকে বলি_ তুমি প্রস্তুত হও গর্জন শুনার জন্য, মস্তিস্ক প্রস্তুত হও ধারণের জন্য আর হৃদয় তৈরী থেকো অনুভবের জন্য। তবে এবার কবি জফির সেতু 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর গর্জন কতটা সার্থকভাবে তুলে ধরেছেন সাদা কাগজের প্রতিটি পৃষ্ঠায়; তা আবিস্কারের জন্য পাঠ শুরু করা যাক।
যেহেতু এই কবির স্বর রাহমান কিংবা মাহমুদের মত নয়, (হবে-ই-বা কেন?) তাই একজন কবি'র কবিতা চলমান দশকেই পঠিত হচ্ছে বলে পাঠকের অতিরিক্ত মনোযোগ দাবী করতেই পারে।
"সিন্ধুর গোপন গান জীবনে খুব কম লোকে শোনে
আমাকে প্রতিভু পাখি ভেবে যারা বসিয়ে রাখে পাতায়
তাদের নাড়িতে টাইগ্রিস লোহিত উত্তেজনায় কাঁপে"
'এমন বসন্তদিনে'
তাই সঙ্গত কারণেই ছাবি্বশটি গর্জনে কেমন করে ফঁটে উঠেছে 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর চরিত্র_ তা দেখার দাবী রাখে।
"টাওয়ার থেকে যে ফড়িংটি নেমে এল
তার জন্য দরকার আরেকটি ইকোপার্ক
পৃথিবীর পথে পথে ইলেকট্রিক সিগন্যাল
এই ভেবে আমরা যখন পা থেকে কাদা ঝাড়ছি
নারীরা কী ভেবে যে ঘুম ঘুম চোখে কাঁদছে, শুধু কাঁদছে"
'ফড়িং'
আমার কাছে মাঝে-মধ্যে মনে হয়, একটি লাইন-ই বুঝি কবিতার প্রাণ কিংবা সমগ্র কবিতাই বুঝি একটা লাইন। যেখানে অনুভূতির গভীরে সহস্র লাইনের বিচ্ছুরণ ঘটে। আর এমন একটি প্রসঙ্গের আলোচনায় আবু হাসান শাহরিয়ার বলেছিলেন, 'আসলে সবাই মিলে আমরা একটা কবিতা-ই তো লিখে চলেছি। এ যেন সহস্র নদীর একটি ঢেউ-এর মত।' তাঁর-ই এক লাইনের একটা কবিতা আছে এমন_ 'নষ্ট চোখে পাখিকেও পৃথিবীর ময়লা মনে হয়।' তেমনি জফির সেতু'র কবিতায়ও কিছু প্রাণসঞ্চারী পংক্তি আছে। পাঠকের জন্য উল্লেখ্য করছি_
ক. 'এখন তাদের এঁদো দালানে দুপুর রাতে পথ হারায় অন্ধ জোনাকি' [প্রত্যহ প্রবাহ]
খ. 'রাষ্ট্র বিপ্লবে কামার্ত রমণীরা কখনো বীরপ্রসূ হতে পারে না' [জীবন বৃত্তন্ত]
গ. 'মধুর চাকের অন্ধকার আমাকে জাগিয়ে রাখে' [আত্নজৈবনিক]
ঘ. 'কত লোভ আর ঝড়ো অন্ধকার মৃত্তিকার পাহাড়ে' [স্তন]
ঙ. 'পাতার আড়ালে পড়ে আছি অহেতুক পতঙ্গের মতো বহুকাল' [অহেতুক পতঙ্গ]
তবে কবিতার বিচারে কোন মন্তব্যই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের প্রেেিত এর আবেদন বদলাতে পারে এবং বদলায়। 'আমরা জানি সময়ের বিবর্তনে আধুনিকতার সংজ্ঞার্থের যেমন চরিত্র বদল ঘটেছে, তেমনি এককালের আধুনিকেরা সময়ের নির্মম বিচারে প্রথাগত অবিধায় বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু একটা জাতিস্বত্তার মিথ, প্রত্নস্মৃতি, নৃবৈজ্ঞানিক প্যারাডাইম, ঐতিহ্যবোধ, প্রেম-অপ্রেম, মন ও মনন যখন কোন কবির আধার ও আাধেয়কে সম্পন্নতা দান করে_ তখন প্রথাচিহ্নিত বর্জনের তালিকায় তাকে নিপে করা যায় না।' [ভূমিকা ঃ বাংলাদেশের তিন দশকের কবিতা: রফিক উল্লাহ খান]
কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের কবিকে চিহ্নিত করতে হয় তাঁর স্বাতন্ত্র বা রহঃড়হধঃরড়হ দিয়ে। পূর্ববতর্ী থেকে নিজেকে আলাদা হিসেবে ঘোষণা দিলে তার জন্য প্রয়োজন পড়ে কিছূ আলাদা বৈশিষ্ট্যের।
শিশুর কড়ে আঙুলে গাঢ় টৌকা মারি ফড়িঙের ডানায় একটা হেলিকপ্টার বাঁধি' (ছায়া)
উক্ত কবিতাটিতে যে 'সহস্র ভোল্টের বাঘ' এর গর্জন মুদ্রিত হয়েছে তা আবিস্কারের পর কবি'র অভিলাষের প্রসংশা না করে পারা যায় না। এই পংক্তিতেই সহস্র ভোল্পের বাঘ এর সত্যিকারের গর্জন প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে হয়।
কিন্তু 'প্রেম' কবিতায় যখন একই কবি আবার লিখেন_
'প্রেম, মাঝরাতে সঙ্গমরত টিকটিকি ধপাস করে বুকের উপর পড়ে যায়
দুপুরে অফিস ফাঁকি দিয়ে ছুটা বুয়ার সাথে ধস্তাধস্তি করে
প্রেম, তাগড়া ষাড়ের মতো মাটিতে হুংকার দিয়ে তেড়ে তেড়ে আসে
আমি কখনো এদের সামনে সাহস করে দাঁড়াতে পারি না!
তখন ভাবি, নীতি-নৈতিকতার ভয়ে যে কবি 'প্রেম' এর মত 'ট্রাডিশনাল ইমোশন' এর মুখোমুখি হতে ভয় পান তিনি নিজের
লেবেলসমূহ:
আলোচনা-সমালোচনা
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
পত্রিকার বিভিন্ন সাময়িকীর সুবাদে উম্মে মুসলিমার লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে কালের খেয়ায় প্রকাশিত লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছি বিগত দিনে। প্রতিটি লেখা ('ডার্করুম সহকারী' 'অসম' 'সৌদি চুড়ি') পড়ার শেষে বারবারই মনে হয়েছে তার প্রেেিত কিছু লেখি। কিন্তু সেই কাজটি হয়ে উঠেনি মূলত অলসতার কারণে। যাইহুক, এবার ৬৪-তম সংখ্যায় তাঁর লেখা গল্প 'জেবুনি্নসা' পড়ে মনে হল সত্যিই কিছু লেখা দরকার।
জেবুনি্নসা গল্পের শুরু এভাবে, 'আরতি রানী দত্ত ম্যাট্রিক পরীার পরপর বাড়ি থেকে উধাও।' অথর্াৎ গল্পের শুরুতে পাঠকদের ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে, আরতি যখন পরীা দেয় তখন দেশে ম্যাট্রিক (ম্যাট্রিকুলেশন; এস,এস,সি নয়) ধারণা প্রচলিত। তার মানে ঘটনার সময়কাল নির্দেশ। তবে আরো একটি জায়গায় সময়কালের ধারণা পাওয়া যায়। গল্পের চরিত্র সাবু (সাবুদ্দিন) সমর্্পকে লেখক বলেন, 'রামচন্দ্রপুরে ওরকম নায়করাজ রাজ্জাক কাটিং (রাজ্জাক কাটিং?) চেহারা আর ক'জনের আছে?' সুতরাং এ থেকে আমরা ধরে নিতে পারি গল্পের সময়কাল সত্তর থেকে আশি দশকের মাঝামাঝি। তখন অনেক তরুণই নায়ক রাজ্জাক দ্বারা প্রভাবিত হতেন। সেই সময়ের একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ে আরতি এবং আপাদমস্তক মুসলিম পরিবারের ছেলে সাবুর সংপ্তি প্রেমকে কেন্দ্র করে গল্পের ব্যাপ্তি। আর সেই আরতির বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন, 'মুখখানা যেন ঠিক সরস্বতি ঠাকুরের মতো।(ঠিক বুঝলাম না 'সরস্বতি ঠাকুর' কথাটার মানে কি?) সেই আরতি প্রতিদিন সাবুর দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে যায়। গল্পকার দুজনের মধ্যে প্রেম বুঝাতে শুধু ইঙ্গিত করেছেন, 'সাবুর দিকে আরতি একবার তাকাবে, সাবু তাতে নিশ্চিত ছিল।' এছাড়া যেহেতু প্রেম কি করে হল তার আর কোন ইঙ্গিত নেই, তাই ধরে নিতে পারি লেখক আমাদেরকেও বলছেন যে, এদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে আপনারা নিশ্চিত থাকুন। গল্প থেকে আরো জানা যায় সেই সময়ের একটি মফস্বল এলাকার গঞ্জে আরতির জ্যাঠাতো ভাইয়ের দোকানে এবং সাবুর দোকানে টেলিফোন রয়েছে! সেই টেলিফোনের সাহায্যে জ্যাঠাতো ভাই দোকান থেকে খেতে গেলে আরতি সাবুর সাথে ফোনে ফিসফিসিয়ে কথা বলে। অথর্াৎ সেই সত্তর-আশি দশকে ফোনালাপে প্রেম! তবুও লেখককে ধন্যবাদ তিনি চরিত্রগুলোর হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেন নি! সেই ফোনালাপে আরতি এতই মগ্ন হয় যে ইসলামী নিয়ম-কানুন শিখার জন্য বাজার থেকে নিজেই 'সহজ নামাজ শিা' কিনে আনে! প্রেমাসক্ত আরতি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে ইসলামের জন্য! অবশ্য লেখক এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, 'আরতিরও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই।' সাবুরা এলাকায় প্রভাবশালী। অবস্থাসম্পন্ন মিয়া বাড়ির দরাজ মিয়ার তৃতীয় কনিষ্ঠ পুত্র সে। তার পিতা আবার মসজিদের ইমাম। আর সেই ইমামের ছেলে সাবু ভাগিয়ে নিয়ে আসে আরতিকে নিজের বাড়ি। এদিকে আবার হারিয়ে যাওয়া আরতিকে দুদিনেও খুঁজে পায় না তার পরিবার। পরে আরতির মা মেয়ের বালিশের নিচে থেকে নামাজ শিা এনে তার ভাশুরের ছেলেদের দেখান। (আরতির বাবার কোন উল্লেখ নাই) তা দেখে জ্যাঠাতো দাদা লণ যৌতুকে পাওয়া হান্ড্রেড টেন (হান্ড্রেড টেন! রাজ্জাকের সময়কালে!) মোটরবাইক চালিয়ে সাবুর বাড়ি খুঁজতে আসে। আমরা ল করি যে, গল্পে আরতির দাদা হান্ড্রেড টেন মোটর সাইকেল চালায়, দোকানে টেলিফোনও আছে। অপর দিকে সাবুর বাবা চলাচল করেন ছইওয়ালা মহিষের গাড়ি দিয়ে। এসবের প্রেেিত আসলে কে যে অবস্থাসম্পন্ন; প্রশ্ন জাগে? তারপরও লেখক যেহেতু বলেছেন সাবুর বাবা অবস্থাসম্পন্ন অতএব, সাবুর বাবাই অবস্থাসম্পন্ন। সেই অবস্থাসম্পন্ন কড়া ইমাম (গল্পে উল্লেখ আছে, 'দরাজ মিয়ার কড়া নির্দেশ, তার জীবদ্দশায় কেউ আলাদা হতে পারবে না।) পিতার কনিষ্ঠ পুত্র হিন্দু মেয়েকে বউ করার জন্য নিয়ে আসায় তিনি খুবই পুলকিত! তার পুলকের বর্ণনা পাওয়া যায় আরতিকে খুঁজতে আসা জ্যাঠাতো ভাইয়ের সাথে কথোপকথনে। তিনি তাকে সাবুর বন্ধু ভেবে বলেন, 'ও, সাবুর ইয়ার বুঝি আপনি? এত দেরি করলেন আসতে? আজতো আমার সাবুর বৌভাত। কোনো অসুবিধা নেই। আপনি তসরিফ রাখুন। হাতে মুখে পানি দেন। আমি আগে খানার ব্যবস্থা করি।' পরে যখন তিনি আরতির জ্যাঠাতো ভাইকে চিনতে পারেন, তখন সাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তোর বড় কুটুম বুঝি? আরে আপনি হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে সম্মানিত মেহমান।...সাবু তুই আমার জেবুনি্নসা মাকে নিয়ে আয়' অথর্াৎ এই ফাঁকে বিয়ে হয়েছে। আরতির নাম বদলিয়ে রাখা হয়েছে জেবুনি্নসা। সেই জেবুনি্নসা কি সাবলীল ভাবে তার জ্যাঠাতো ভাইয়ের সামনে এসে বলে, 'মা-বাবাকে চিন্তা করতে নিষেধ করবে। আমি খুব ভাল আছি।' এই তার পরিবারের সাথে শেষ আলাপ। পরবর্তি অংশে চলে জেবুনি্নসা ওরফে আরতির মুসলিম রীতি-নীতি আত্নঃস্থ করার পালা।
সাবুর বাবার উদারতা মুগ্ধ হওয়ার মত। তবে আমরা তো এই সমাজেরই মানুষ। তাই সমাজের মানুষগুলোর বৈশিষ্ঠের কথা কম বেশী সবার জানা আছে। আজ এই একবিংশ শতাব্দিতেও দরাজ মিয়ার মত উদারপন্থি ইমাম, যে কিনা মহা খুশিতে তার হিন্দু পুত্রবধূকে বরণ করে নেয়; চোখে পড়ে না। আর সময়টা যদি হয় সত্তর-আশির দশকের মফস্বল_ তবে তো কথাই নেই। গল্পের আরো কিছু ব্যাপার অবাক করে দেয়। আমরা জানি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যুগ যুগ ধরে ঢাক বাজিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু তা বাজানো হয় কিছু নির্দিষ্ঠ সময়ে। যেমন, ষষ্ঠীতে সন্ধ্যার পর ঢাক বাজিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে পূজা মন্ডপগুলোতে বোধন সম্পন্ন করা হয়। এই রীতি হয়তো মুসলমান অধূ্যসিত এলাকায় রমজান মাস হলে সময়ের কিছুটা এদিক সেদিক করে পালন করা হয় কিন্তু কখনোই তা ভোরে চলে যায় না। গল্পকার যখন লেখেন, 'পরদিন ষষ্ঠী। ঠাকুর ভিটেয় উঠবে। ভোরবেলা ঢাকে কাঠি পড়ল। আরতির বুকের মধ্যে বাদ্য বেজে উঠল...' তখন বাদ্য আমাদের বুকেও বেজে উঠে আর তা হচ্ছে বিস্ময়ের! আর বিস্ময় নিয়ে ভাবি, একি অন্য রীতির প্রতি লেখকের অবহেলা নাকি অজ্ঞতা? অজ্ঞতাই বা বলি কি করে!
গল্পটা পড়ে কি বুঝা গেল কিংবা কেন লেখা হল; তার কোনো উত্তর মিলে না। এই গল্পের উদ্দেশ্য কি প্রশ্ন করলে যদি উত্তর হয় জেবুনি্নসা ওরফে আরতির মাধ্যমে রমজান মাস উপল েপাঠকদের আবারো ইফতারের দোয়া (গল্পে আরতির মুখ দিয়ে সম্পূর্ণ ইফতারের দোয়া পড়িয়েছেন গল্পকার) মনে করিয়ে দেয়া তবে বলল উদ্দেশ্য একেবারে সফল। ধান ভানতে শিবের গীতটা একটু বেশী গাওয়া হল; এই যা। আর যদি গল্পের শিল্পমূল্যের দাবী উঠে তবে কিন্তু পাঠক নিরুপায়।
প্রকাশক কিংবা সম্পাদকের অনুরোধে অনেক লেখকই লেখা তৈরী করেন। 'জেবুনি্নসা' গল্প পড়ে মনে হয়েছে যেন লেখককে কেউ বলেছেন_ সামনে রোজা এবং পূজা। এই পূজা আর রোজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারকে নিয়ে একটি প্রেম জাতীয় লেখা তৈরী করুন; যা পাবলিক খাবে। আর যেহেতু আপনি মুসলমান এবং মুসলিম প্রধান দেশ সুতরাং সে ধর্মই যেন প্রাধান্য পায়। এরকম ঘটনা যদি অন্য যেকোন সাময়িকীর েেত্র ঘটতো তাহলে বলার কিছু ছিল না। কিন্তু কালের খেয়াকে কেন্দ্র করে আরোপিত, ফরমায়েসি লেখক গড়ে উঠুক; এমনটা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা যারা পাঠক তারা জানি, গল্পকারকে সমাজ, সময়, সংস্কার ও কাহিনী বর্ণনায় সজাগ থাকতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় লেখাটা যেন শুধু শুধু কলমের টানে এগিয়ে না গিয়ে বিবেক-বোধ, যুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই সাথে পাঠকের আস্থা ও চাহিদাকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ বিশ্বস্থভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনও রয়েছে। আরোপিত কাহিনী পাঠকরা চীরকালই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেই সাথে সাথে লেখককেও। কিন্তু এমনটা যেন উম্মে মুসলিমার েেত্র না ঘটে। কারণ এই গল্পকারের লেখার মত পর্যাপ্ত মতা আছে। শুধু মতাটা একটু যাচাই করে একটা গল্প তাঁর কাছে যতটুকু সময় দাবী করে সেই অনুপাতে ব্যবহার করা উচিত। আর একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে তাঁর কাছে এটুকু দাবী নিশ্চয়ই করতে পারি?
জেবুনি্নসা গল্পের শুরু এভাবে, 'আরতি রানী দত্ত ম্যাট্রিক পরীার পরপর বাড়ি থেকে উধাও।' অথর্াৎ গল্পের শুরুতে পাঠকদের ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে, আরতি যখন পরীা দেয় তখন দেশে ম্যাট্রিক (ম্যাট্রিকুলেশন; এস,এস,সি নয়) ধারণা প্রচলিত। তার মানে ঘটনার সময়কাল নির্দেশ। তবে আরো একটি জায়গায় সময়কালের ধারণা পাওয়া যায়। গল্পের চরিত্র সাবু (সাবুদ্দিন) সমর্্পকে লেখক বলেন, 'রামচন্দ্রপুরে ওরকম নায়করাজ রাজ্জাক কাটিং (রাজ্জাক কাটিং?) চেহারা আর ক'জনের আছে?' সুতরাং এ থেকে আমরা ধরে নিতে পারি গল্পের সময়কাল সত্তর থেকে আশি দশকের মাঝামাঝি। তখন অনেক তরুণই নায়ক রাজ্জাক দ্বারা প্রভাবিত হতেন। সেই সময়ের একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ে আরতি এবং আপাদমস্তক মুসলিম পরিবারের ছেলে সাবুর সংপ্তি প্রেমকে কেন্দ্র করে গল্পের ব্যাপ্তি। আর সেই আরতির বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন, 'মুখখানা যেন ঠিক সরস্বতি ঠাকুরের মতো।(ঠিক বুঝলাম না 'সরস্বতি ঠাকুর' কথাটার মানে কি?) সেই আরতি প্রতিদিন সাবুর দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে যায়। গল্পকার দুজনের মধ্যে প্রেম বুঝাতে শুধু ইঙ্গিত করেছেন, 'সাবুর দিকে আরতি একবার তাকাবে, সাবু তাতে নিশ্চিত ছিল।' এছাড়া যেহেতু প্রেম কি করে হল তার আর কোন ইঙ্গিত নেই, তাই ধরে নিতে পারি লেখক আমাদেরকেও বলছেন যে, এদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে আপনারা নিশ্চিত থাকুন। গল্প থেকে আরো জানা যায় সেই সময়ের একটি মফস্বল এলাকার গঞ্জে আরতির জ্যাঠাতো ভাইয়ের দোকানে এবং সাবুর দোকানে টেলিফোন রয়েছে! সেই টেলিফোনের সাহায্যে জ্যাঠাতো ভাই দোকান থেকে খেতে গেলে আরতি সাবুর সাথে ফোনে ফিসফিসিয়ে কথা বলে। অথর্াৎ সেই সত্তর-আশি দশকে ফোনালাপে প্রেম! তবুও লেখককে ধন্যবাদ তিনি চরিত্রগুলোর হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেন নি! সেই ফোনালাপে আরতি এতই মগ্ন হয় যে ইসলামী নিয়ম-কানুন শিখার জন্য বাজার থেকে নিজেই 'সহজ নামাজ শিা' কিনে আনে! প্রেমাসক্ত আরতি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে ইসলামের জন্য! অবশ্য লেখক এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, 'আরতিরও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই।' সাবুরা এলাকায় প্রভাবশালী। অবস্থাসম্পন্ন মিয়া বাড়ির দরাজ মিয়ার তৃতীয় কনিষ্ঠ পুত্র সে। তার পিতা আবার মসজিদের ইমাম। আর সেই ইমামের ছেলে সাবু ভাগিয়ে নিয়ে আসে আরতিকে নিজের বাড়ি। এদিকে আবার হারিয়ে যাওয়া আরতিকে দুদিনেও খুঁজে পায় না তার পরিবার। পরে আরতির মা মেয়ের বালিশের নিচে থেকে নামাজ শিা এনে তার ভাশুরের ছেলেদের দেখান। (আরতির বাবার কোন উল্লেখ নাই) তা দেখে জ্যাঠাতো দাদা লণ যৌতুকে পাওয়া হান্ড্রেড টেন (হান্ড্রেড টেন! রাজ্জাকের সময়কালে!) মোটরবাইক চালিয়ে সাবুর বাড়ি খুঁজতে আসে। আমরা ল করি যে, গল্পে আরতির দাদা হান্ড্রেড টেন মোটর সাইকেল চালায়, দোকানে টেলিফোনও আছে। অপর দিকে সাবুর বাবা চলাচল করেন ছইওয়ালা মহিষের গাড়ি দিয়ে। এসবের প্রেেিত আসলে কে যে অবস্থাসম্পন্ন; প্রশ্ন জাগে? তারপরও লেখক যেহেতু বলেছেন সাবুর বাবা অবস্থাসম্পন্ন অতএব, সাবুর বাবাই অবস্থাসম্পন্ন। সেই অবস্থাসম্পন্ন কড়া ইমাম (গল্পে উল্লেখ আছে, 'দরাজ মিয়ার কড়া নির্দেশ, তার জীবদ্দশায় কেউ আলাদা হতে পারবে না।) পিতার কনিষ্ঠ পুত্র হিন্দু মেয়েকে বউ করার জন্য নিয়ে আসায় তিনি খুবই পুলকিত! তার পুলকের বর্ণনা পাওয়া যায় আরতিকে খুঁজতে আসা জ্যাঠাতো ভাইয়ের সাথে কথোপকথনে। তিনি তাকে সাবুর বন্ধু ভেবে বলেন, 'ও, সাবুর ইয়ার বুঝি আপনি? এত দেরি করলেন আসতে? আজতো আমার সাবুর বৌভাত। কোনো অসুবিধা নেই। আপনি তসরিফ রাখুন। হাতে মুখে পানি দেন। আমি আগে খানার ব্যবস্থা করি।' পরে যখন তিনি আরতির জ্যাঠাতো ভাইকে চিনতে পারেন, তখন সাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'তোর বড় কুটুম বুঝি? আরে আপনি হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে সম্মানিত মেহমান।...সাবু তুই আমার জেবুনি্নসা মাকে নিয়ে আয়' অথর্াৎ এই ফাঁকে বিয়ে হয়েছে। আরতির নাম বদলিয়ে রাখা হয়েছে জেবুনি্নসা। সেই জেবুনি্নসা কি সাবলীল ভাবে তার জ্যাঠাতো ভাইয়ের সামনে এসে বলে, 'মা-বাবাকে চিন্তা করতে নিষেধ করবে। আমি খুব ভাল আছি।' এই তার পরিবারের সাথে শেষ আলাপ। পরবর্তি অংশে চলে জেবুনি্নসা ওরফে আরতির মুসলিম রীতি-নীতি আত্নঃস্থ করার পালা।
সাবুর বাবার উদারতা মুগ্ধ হওয়ার মত। তবে আমরা তো এই সমাজেরই মানুষ। তাই সমাজের মানুষগুলোর বৈশিষ্ঠের কথা কম বেশী সবার জানা আছে। আজ এই একবিংশ শতাব্দিতেও দরাজ মিয়ার মত উদারপন্থি ইমাম, যে কিনা মহা খুশিতে তার হিন্দু পুত্রবধূকে বরণ করে নেয়; চোখে পড়ে না। আর সময়টা যদি হয় সত্তর-আশির দশকের মফস্বল_ তবে তো কথাই নেই। গল্পের আরো কিছু ব্যাপার অবাক করে দেয়। আমরা জানি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যুগ যুগ ধরে ঢাক বাজিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু তা বাজানো হয় কিছু নির্দিষ্ঠ সময়ে। যেমন, ষষ্ঠীতে সন্ধ্যার পর ঢাক বাজিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে পূজা মন্ডপগুলোতে বোধন সম্পন্ন করা হয়। এই রীতি হয়তো মুসলমান অধূ্যসিত এলাকায় রমজান মাস হলে সময়ের কিছুটা এদিক সেদিক করে পালন করা হয় কিন্তু কখনোই তা ভোরে চলে যায় না। গল্পকার যখন লেখেন, 'পরদিন ষষ্ঠী। ঠাকুর ভিটেয় উঠবে। ভোরবেলা ঢাকে কাঠি পড়ল। আরতির বুকের মধ্যে বাদ্য বেজে উঠল...' তখন বাদ্য আমাদের বুকেও বেজে উঠে আর তা হচ্ছে বিস্ময়ের! আর বিস্ময় নিয়ে ভাবি, একি অন্য রীতির প্রতি লেখকের অবহেলা নাকি অজ্ঞতা? অজ্ঞতাই বা বলি কি করে!
গল্পটা পড়ে কি বুঝা গেল কিংবা কেন লেখা হল; তার কোনো উত্তর মিলে না। এই গল্পের উদ্দেশ্য কি প্রশ্ন করলে যদি উত্তর হয় জেবুনি্নসা ওরফে আরতির মাধ্যমে রমজান মাস উপল েপাঠকদের আবারো ইফতারের দোয়া (গল্পে আরতির মুখ দিয়ে সম্পূর্ণ ইফতারের দোয়া পড়িয়েছেন গল্পকার) মনে করিয়ে দেয়া তবে বলল উদ্দেশ্য একেবারে সফল। ধান ভানতে শিবের গীতটা একটু বেশী গাওয়া হল; এই যা। আর যদি গল্পের শিল্পমূল্যের দাবী উঠে তবে কিন্তু পাঠক নিরুপায়।
প্রকাশক কিংবা সম্পাদকের অনুরোধে অনেক লেখকই লেখা তৈরী করেন। 'জেবুনি্নসা' গল্প পড়ে মনে হয়েছে যেন লেখককে কেউ বলেছেন_ সামনে রোজা এবং পূজা। এই পূজা আর রোজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারকে নিয়ে একটি প্রেম জাতীয় লেখা তৈরী করুন; যা পাবলিক খাবে। আর যেহেতু আপনি মুসলমান এবং মুসলিম প্রধান দেশ সুতরাং সে ধর্মই যেন প্রাধান্য পায়। এরকম ঘটনা যদি অন্য যেকোন সাময়িকীর েেত্র ঘটতো তাহলে বলার কিছু ছিল না। কিন্তু কালের খেয়াকে কেন্দ্র করে আরোপিত, ফরমায়েসি লেখক গড়ে উঠুক; এমনটা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা যারা পাঠক তারা জানি, গল্পকারকে সমাজ, সময়, সংস্কার ও কাহিনী বর্ণনায় সজাগ থাকতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় লেখাটা যেন শুধু শুধু কলমের টানে এগিয়ে না গিয়ে বিবেক-বোধ, যুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই সাথে পাঠকের আস্থা ও চাহিদাকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ বিশ্বস্থভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনও রয়েছে। আরোপিত কাহিনী পাঠকরা চীরকালই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেই সাথে সাথে লেখককেও। কিন্তু এমনটা যেন উম্মে মুসলিমার েেত্র না ঘটে। কারণ এই গল্পকারের লেখার মত পর্যাপ্ত মতা আছে। শুধু মতাটা একটু যাচাই করে একটা গল্প তাঁর কাছে যতটুকু সময় দাবী করে সেই অনুপাতে ব্যবহার করা উচিত। আর একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে তাঁর কাছে এটুকু দাবী নিশ্চয়ই করতে পারি?
লেবেলসমূহ:
আলোচনা-সমালোচনা
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
কালের খেয়ার ৬৫তম সংখ্যাটির সর্বত্র জুড়ে যেন তারুন্যের পদধ্বনি বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছেল। কেননা ওই সংখ্যাটি সম্পাদক সাজিয়েছেন একঝাঁক নতুনের মেলবন্দনে। আর নতুনদের কবিতা ও গল্পগুলো পড়ে এতটা বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম যে, মনে হচ্ছেল না এরা সবাই তরুণ লিখিয়ে। যা হোক, কালের খেয়া তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে এবং আশা করি অহর্নিশ তা রেখে চলবে।
আজকাল অনেকেই 'পাঠকের কলম' বিভাগে লিখে অন্য পাঠকের লেখায় সম্পাদককে মনোরঞ্জন করার বিষয় খুঁজে পান, যেমনটা পেয়েছেন মৌলভীডাঙ্গি, নবাবগঞ্জ, ঢাকার শুভ্র। কিন্তু বিষয়টি যদি এমন হয় 'সুচ ঝাঁজরকে বলছে তোমার তলা ফুটো'_ তাহলে কি অর্থ দাঁড়ায়? ঠিক তেমনটাই করেছেন শুভ্র। তিনি ৬৫তম সংখ্যায় লিখেছেন, 'র্বতমানে প্রকাশিত বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীর মধ্যে কালের খেয়া তার শ্রেষ্ঠত্ব ইতিমধ্যে অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।' এ কথাটি আমিও নিদির্্বধায় স্বীকার করি কিন্তু শুভ্রর এ কথাটি কি সম্পাদকের মনোরঞ্জন করার মতো কথা নয়? নয় কি স্ববিরোধী? এখন কথা হলো, যদি কেউ কালের খেয়াকে ভালোবেসে অমন একটু-আধটু লিখেই থাকেন তাতে পাঠকের উচিত তা সাধারণভাবে গ্রহণ করা এবং অন্য কিছু খুঁজে বের করার প্রয়াস না চালানো।
অনেকদিন পর কালের খেয়ায় লিটল ম্যাগের আলোচনা দেখতে পেলাম। এজন্য সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। দলীয় ও নামসর্বস্ব সাহিত্যের স্রোতে মেধাবী তরুণদের একমাত্র ভরসা এই লিটল ম্যাগগুলো। আমার জানামতে, গ্রাম ও শহরের আনাচে-কানাচে খ্যাত ও অখ্যাত লিটল ম্যাগগুলোতে তরুণ লেখকরা কাব্যচর্চার মাধ্যমে তাদের সাহিত্য সাধনাকে টিকিয়ে রেখেছেন।
যা হোক, কালের খেয়া যে নতুনদের বাংলা সাহিত্যের আসনে স্থান করে দিতে বদ্ধপরিকর এ সম্পর্কে অবশিষ্ঠ শঙ্কাটুকুও মুছে দিয়েছেন সম্পাদক তার সুন্দর সম্পাদকীয়তে। এজন্য তাকে আরেকবার ধন্যবাদ জানাচ্ছে। কালের খেয়া সমকালীন সাহিত্যে প্রতিভূ হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক লাখ লাখ পাঠকের পাললিক অন্তরে, এ কামনা আমার এবং আমাদের।
সুমন আহ্ধসঢ়;মেদ
ওয়ারী, ঢাকা
চাবি : সুলিখিত নয়৮ সেপ্টেম্বর কালের খেয়ায় নিরমিন শিমেলের 'চাবি' গল্পটি পড়ে বিরক্ত হয়ে অভিমত লিখতে চেয়েছিলাম। ২৯ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় ফয়েজ ইসলাম তিতাসের প্রতিক্রিয়ায় গল্পটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করায় বিস্টি্মত হলাম। যেখানে এ ধরনের নিতান্ত সাদামাটা ও অসঙ্গতিপূর্ণ গল্প ছাপানোতে কালের খেয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছি, সেখানে একজন পাঠক গল্পটির ভূয়সী প্রশংসা কিভাবে করলেন ভেবে পাইনি। চিন্তা-চেতনায় এতটা পার্থক্য হওয়ার কথা নয়।
লোহার মতো শক্ত সাবানে গাঁথা গাড়ির চাবিটি তৃতীয়বার ঠুন করার পর শব্দ শুনে কাজের মেয়েটি তার সন্ধান পায়। তার আগে চোখে পড়েনি। একটি সাবানের মধ্যে চাবি রেখে দেখুন কত জোরে শব্দ হয়। কাপড়ের গিট খুলে চাবি নিয়ে কোনো শিশু ছাদে খেলবে, তাও আবার পাওয়া যাবে ছাদের কোণে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পত্রিকায় ছাপা হলো আর রাস্তায় পাঠকের কাছ থেকে পত্রিকা কেড়ে নিয়ে স্বল্প শিক্ষিতা মেয়েটি পত্রিকা পড়ে কামালের কীর্তি জানবে_ বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হয়নি। হোটেল ভাড়া বাকি পড়াতে ওর তো দালালের খপ্টপ্পরে পড়ার কথা। হোটেল ম্যানেজারের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়া এত সোজা? মেয়েটি বাসা থেকে পালানোর সময়ও গৃহকর্তা অন্যত্র বাসা ভাড়া নিশ্চিত করেননি। স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র বাসা ভাড়া করে চলে যাওয়া সম্ভব নয়। এরপরও যেহেতু গৃহকর্তা ও কর্ত্রী খারাপ মানুষ ছিলেন না সেহেতু অন্য আত্নীয়-স্বজনের জন্য হলেও বাড়িওয়ালা বা নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে নতুন বাসার ঠিকানা দিয়ে যেতেন। এ ধরনের অসঙ্গতির অভাব নেই।
গল্পটির র্বণনা একেবারেই সরল। নজিবর রহমানদের লেখার মতো। মেয়েটি যখন কামালের সঙ্গে দেখা করে তখনই মনে হয়েছিল চাবিটি হাতছাড়া হয়ে কামালের কাছে চলে যাবে। বাসা পরির্বতনের ইঙ্গিত থেকে আশঙ্কা হয়েছিল লেখক মেয়েটিকে সর্বশ্বান্ত করে বাসায় ফিরিয়ে আনবে। বাসায় ফিরে দেখবে কেউ নেই, যা যৌক্তিক মনে হয়নি। কানা ছেলেকে পদ্মলোচন হিসেবে তিতাস সাহেব দাবি করেছেন, কারণটা একেবারেই বোধগম্য নয়।
মুজিব রহমান
শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ, বিক্রমপুরঅপাঠকের রবীন্দ্রভক্তির জবাবেকালের খেয়ায় রবীন্দ্র বিতর্ককে বধর্িত করার জন্য এ লেখা নয়। একজন অপাঠকের অযাচিতভাবে রবীন্দ্র-বিতর্কে অবতীর্ণ হওয়ার দুঃসাহস দেখে চমকে গিয়েই এ লেখা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কালের খেয়ায় চলতি বিতর্ক মূলত রবীন্দ্র বিতর্ক নয়, 'রবীন্দ্র মৌলবাদী', 'রবীন্দ্র বিবেষী' বা 'রবীন্দ্র মূর্খ'দের যথেচ্ছাচার মাত্র।
তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল রবীন্দ্র-উত্তর সব কবির কবিত্বকে খাটো করা। রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা কবিতা সম্পর্কেও নূ্যনতম জ্ঞান নেই বলেই তিনি এমনটি করেছেন। তার মতে, প্রকৃত কবি জীবন দেবতার নিদরাউশে কবিতা রচনা করেন। তাই রবীন্দ্রনাথই প্রকৃত কবি এবং একমাত্র কবি। তিরিশ-উত্তর কবিরা জীবন দেবতার নিদরাউশ পাননি বলে তারা প্রকৃত কবি নন। তিনি মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ 'ঈশ্বর নিদরাউশিত সার্বজনীন কবি' আর তার পরের কবিরা 'মানুষের নির্বাচিত স্বল্প পরিসরের কবি'। তার এ বক্তব্যে রবীন্দ্র-উত্তর কবিদের সঙ্গে ঈশ্বরের প্রকাশ্য বিরোধের গন্দ পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি বলতে চান ঈশ্বর রবীন্দ্রনাথকে কবি বানিয়ে তারপর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, জন্মের পর রবীন্দ্রনাথ কবিত্ব অর্জন করেননি।
তিরিশ-উত্তর কবিতার নতুন বাঁককে স্বীকার করেই তিনি বলেছেন, 'অন্তরের অদৃশ্য কোনো প্রেরণা ছাড়াই আমাদের তিরিশ-উত্তর কবিরা রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের চেষ্ঠা করলেন।' আমার প্রশ্ন, অন্তরের অদৃশ্য প্রেরণা বা কবিত্বশক্তি ছাড়া তিরিশ-উত্তর কবিরা কিভাবে কবিতা লিখলেন এবং নতুন বাঁকের সৃষ্টি করলেন? তিনি আরো ভুল করেছেন এই ভেবে যে, তিরিশের কবিরা নতুন বাঁকের সৃষ্টি করেছেন 'যতটুকু সময়ের প্রয়োজনে তারও বেশি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের প্রত্যাশায়।' কিন্তু এ কথা সর্বজনবিদিত যে, তিরিশের নতুন বাঁক যতটুকু রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের প্রত্যাশায় তারও বেশি সময়ের প্রয়োজনে, কারণ সময়ের প্রয়োজন ব্যতিত কবিতায় কোনো নতুন বাঁক নির্মাণ সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের প্রত্যাশাও ছিল সময়েরই অনিবার্য প্রয়োজন।
পত্র লেখকের ধারণা, রবীন্দ্র-উত্তর কবিরা রবীন্দ্রনাথকে আত্নস্থ করেননি। তার অবগতির জন্য উল্লেখ করছি জীবনানন্দ দাশের কয়েক লাইন 'রবীন্দ্রনাথ আমাদের ভাষা, সাহিত্য, জীবনদর্শন ও সময়ের ভেতর দিয়ে সময়ান্তরের গরিমার দিকে অগ্রসর হবার পথ যেরকম নিরঙ্কুশভাবে গঠন করে গেছেন পৃথিবীর আদিমকালের মহাকবি ও মহাসাধুরাই তা পারতেন; ইদানীং বহু যুগ ধরে পৃথিবীর কোনো দেশই এ রকম লোক-উত্তর পুরুষকে ধারণা করেনি।' এরপর তিনি কী করে বলেন, তিরিশ-উত্তর কবিরা রবীন্দ্রনাথকে 'বাদ দিতে' চেয়েছিলেন? তিনি আরো মনে করেন, তিরিশের কবিরা শুধু রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্যই কবিতা লিখেছেন। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, 'আমরা মনস্বী অগ্রজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব এ রকম একটা পরামর্শ এঁটে নতুন কবিরা পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে না।'
শুনে বিস্টি্মত হলাম, আজ পর্যন্ত রবীন্দ্র-উত্তর কোনো কবিই নাকি রবীন্দ্রনাথের ঋণ স্বীকার করেননি, তাই তিনি অনাগতকালের কোনো এক কবির অপেক্ষায় দিন গুণছেন, যিনি প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথের ঋণ স্বীকার করবেন এবং সে কারণেই বড় কবি হতে পারবেন। তিনি 'জোর দিয়ে' বলেছেন, 'র্বতমানে কবিতার স্থান মানুষের অন্তরে আগের মতো নেই', কারণ কবিতা 'অন্তরের নিঃসঙ্গ জগতে বিচরণ বাদ দিয়ে নেমে এলো জনমুখরিত পৃথিবীর কোলাহলে।' এ বক্তব্য কতটা হাস্যকর তা পাঠকমাত্রই বুঝবেন। তার প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, রবীন্দ্র-উত্তর কবিতা 'মানুষের কথা, মানুষের জীবনাচরণ, মানুষের দুঃখ-কষ্ঠ, বঞ্চনা-নিপীড়ন, যন্ত্রণা, সংগ্রাম আর প্রতিবাদের ভাষা'। কাজেই তিনি যে মধ্যযুগেই বসবাস করছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রবীন্দ্রভক্ত হতে গিয়ে যিনি রবীন্দ্র-উত্তর সব কবিদের কৃতিত্বকে খর্ব করলেন এবং বললেন, 'রবীন্দ্রনাথ সব বিতর্কের ঊধের্্ব' তিনি কি প্রথমসারির রবীন্দ্র মৌলবাদী নন?
মেহেদী হাসান অপুর ধৃষ্ঠতা দেখে অবাক হতে হয়। সাহিত্যের পাঠক না হয়ে তিনি কেন যে পাঠকের কলমে লিখে পাঠক হওয়ার মূল্যবান সময় নষ্ঠ করলেন! তিনি হয়তো জানেন না নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে পাঠকের কলমকে আরো জমজমাট করার জন্যই সম্পাদক মাঝে মধ্যে তার মতো অযোগ্য লোকের লেখা ছাপেন, যাতে প্রকৃত সত্যটা তারা জানতে পারেন, বুঝতে পারেন নিজেদের কলমের দুর্বলতা।
রাজীব ভট্টাচার্য
পাইকপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়াউম্মে মুসলিমার হ য ব র লপত্রিকার বিভিন্ন সাময়িকীর সুবাদে উম্মে মুসলিমার লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে কালের খেয়ায় প্রকাশিত লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছি বিগত দিনে। প্রতিটি লেখা ('ডার্করুম সহকারী', 'অসম' 'সৌদি চুড়ি') পড়ার শেষে বারবারই মনে হয়েছে তার প্রেক্ষিতে কিছু লেখি। কিন্তু সেই কাজটি হয়ে উঠেনি মূলত অলসতার কারণে। যাই হোক, এবার ৬৪-তম সংখ্যায় তার লেখা গল্প 'জেবুল্পিম্নসা' পড়ে মনে হলো সতি্যই কিছু লেখা দরকার।
জেবুল্পিম্নসা গল্পের শুরু এভাবে, 'আরতি রানী দত্ত ম্যাট্রিক পরীক্ষার পরপর বাড়ি থেকে উধাও।' অর্থাৎ গল্পের শুরুতে পাঠকদের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, আরতি যখন পরীক্ষা দেয় তখন দেশে ম্যাট্রিক (ম্যাট্রিকুলেশন; এসএসসি নয়) ধারণা প্রচলিত। তার মানে ঘটনার সময়কাল নিদরাউশ। তবে আরো একটি জায়গায় সময়কালের ধারণা পাওয়া যায়। গল্পের চরিত্র সাবু (সাবদু্দিন) সম্পর্কে লেখক বলেন, 'রামচন্দ্রপুরে ও রকম নায়করাজরাজ্জাক কাটিং (রাজ্জাক কাটিং?) চেহারা আর ক'জনের আছে?' সুতরাং এ থেকে আমরা ধরে নিতে পারি গল্পের সময়কাল সত্তর থেকে আশি দশকের মাঝামাঝি। তখন অনেক তরুণই নায়ক রাজ্জাক ্টারা প্রভাবিত হতেন। সেই সময়ের একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ে আরতি এবং আপাদমস্তক মুসলিম পরিবারের ছেলে সাবুর সংক্ষিপ্ত প্রেমকে কেন্দ্র করে গল্পের ব্যাপ্তি। আর সেই আরতির র্বণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন, 'মুখখানা যেন ঠিক সরস্বতী ঠাকুরের মতো (ঠিক বুঝলাম না 'সরস্বতী ঠাকুর' কথাটার মানে কি?)। সেই আরতি প্রতিদিন সাবুর দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে যায়। গল্পকার দু'জনের মধ্যে প্রেম বোঝাতে শুধু ইঙ্গিত করেছেন, 'সাবুর দিকে আরতি একবার তাকাবে, সাবু তাতে নিশ্চিত ছিল।' এছাড়া যেহেতু প্রেম কি করে হলো তার আর কোনো ইঙ্গিত নেই, তাই ধরে নিতে পারি লেখক আমাদেরও বলছেন যে, এদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে আপনারা নিশ্চিত থাকুন। গল্প থেকে আরো জানা যায় সেই সময়ের একটি মফস্বল এলাকার গঞ্জে আরতির জ্যাঠাত ভাইয়ের দোকানে এবং সাবুর দোকানে টেলিফোন রয়েছে! সেই টেলিফোনের সাহায্যেয ঝ্যাঠাত ভাই দোকান থেকে খেতে গেলে আরতি সাবুর সঙ্গে ফোনে ফিসফিসিয়ে কথা বলে। অর্থাৎ সেই সত্তর-আশি দশকে ফোনালাপে প্রেম! তবুও লেখককে ধন্যবাদ, তিনি চরিত্রগুলোর হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেননি! সেই ফোনালাপে আরতি এতই মগ্ন হয় যে, ইসলামী নিয়মকানুন শেখার জন্য বাজার থেকে নিজেই 'সহজ নামাজ শিক্ষা' কিনে আনে! প্রেমাসক্ত আরতি নিজেকে প্রস্থুত করতে থাকে ইসলামের জন্য! অবশ্য লেখক এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, 'আরতিরও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই।' সাবুরা এলাকায় প্রভাবশালী। অবস্থাসম্পন্ন মিয়া বাড়ির দরাজ মিয়ার তৃতীয় ও কনিষ্ঠ পুত্র সে। তার পিতা আবার মসজিদের ইমাম। আর সেই ইমামের ছেলে সাবু ভাগিয়ে নিয়ে আসে আরতিকে নিজের বাড়ি। এদিকে আবার হারিয়ে যাওয়া আরতিকে দু'দিনেও খুঁজে পায় না তার পরিবার। পরে আরতির মা মেয়ের বালিশের নিচে থেকে নামাজ শিক্ষা এনে তার ভাশুরের ছেলেদের দেখান (আরতির বাবার কোনো উল্লেখ নেই) তা দেখে জ্যাঠাত দাদা লক্ষণ যৌতুকে পাওয়া হ্যান্ড্রেড টেন (হান্ড্রেড টেন! রাজ্জাকের সময়কালে!) মোটরবাইক চালিয়ে সাবুর বাড়ি খুঁজতে আসে। আমরা লক্ষ্য করি যে, গল্পে আরতির দাদা হ্যান্ড্রেড টেন মোটরসাইকেল চালায়, দোকানে টেলিফোনও আছে। অপরদিকে সাবুর বাবা চলাচল করেন ছইওয়ালা মহিষের গাড়ি দিয়ে। এসবের প্রেক্ষিতে আসলে কে যে অবস্থাসম্পন্ন, প্রশ্ন জাগে? তারপরও লেখক যেহেতু বলেছেন সাবুর বাবা অবস্থাসম্পন্ন অতএব, সাবুর বাবাই অবস্থাসম্পন্ন। সে অবস্থাসম্পন্ন; কড়া ইমাম (গল্পে উল্লেখ আছে, দরাজ মিয়ার কড়া নিদরাউশ, তার জীবদ্দশায় কেউ আলাদা হতে পারবে না)। পিতার কনিষ্ঠ পুত্র হিন্দু মেয়েকে বউ করার জন্য নিয়ে আসায় তিনি খুবই পুলকিত! তার পুলকের র্বণনা পাওয়া যায় আরতিকে খুঁজতে আসা জ্যাঠাত ভাইয়ের সঙ্গে কথোপকথনে। তিনি তাকে সাবুর বন্দু ভেবে বলেন, 'ও, সাবুর ইয়ার বুঝি আপনি? এত দেরি করলেন আসতে? আজ তো আবার আমার সাবুর বৌভাত। কোনো অসুবিধা নেই। আপনি তসরিফ রাখুন। হাতে-মুখে পানি দেন। আমি আগে খানার ব্যবস্থা করি।' পরে যখন তিনি আরতির জ্যাঠাত ভাইকে চিনতে পারেন, তখন সাবুকে উদ্দেশ করে বলেন, 'তোর বড় কুটুম বুঝি? আরে আপনি হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে সম্মানিত মেহমান।... সাবু তুই আমার জেবুল্পিম্নসা মাকে নিয়ে আয়' অর্থাৎ এই ফাঁকে বিয়ে হয়েছে। আরতির নাম বদলিয়ে রাখা হয়েছে জেবুল্পিম্নসা। সেই জেবুল্পিম্নসা কি সাবলীলভাবে তার জ্যাঠাত ভাইয়ের সামনে এসে বলে, 'মা-বাবাকে চিন্তা করতে নিষেধ করবে। আমি খুব ভালো আছি।' এই তার পরিবারের সঙ্গে শেষ আলাপ। পরর্বতী অংশে চলে জেবুল্পিম্নসা ওরফে আরতির মুসলিম রীতি-নীতি আত্নস্থ করার পালা।
সাবুর বাবার উদারতা মুগ্গব্দ হওয়ার মতো। তবে আমরা তো এই সমাজেরই মানুষ। তাই সমাজের মানুষগুলোর বৈশিষে্ট্যর কথা কম-বেশি সবার জানা আছে। আজ এ একবিংশ শতাব্দীতেও দরাজ মিয়ার মতো উদারপন্থি ইমাম, যে কিনা মহাখুশিতে তার হিন্দু পুত্রবধহৃকে বরণ করে নেয়; চোখে পড়ে না। আর সময়টা যদি হয় সত্তর-আশির দশকের মফস্বল_ তবে তো কথাই নেই। গল্পের আরো কিছু ব্যাপার অবাক করে দেয়। আমরা জানি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যুগ যুগ ধরে ঢাক-বাজিয়ে শারদীয় দর্গাউৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু তা বাজানো হয় কিছু নির্দিষ্ঠ সময়ে। যেমন ষষ্ঠীতে সন্দ্যার পর ঢাক বাজিয়ে ধহৃপ জ্বালিয়ে পূজা ম-পগুলোতে বোধন সম্পন্ন করা হয়। এ রীতি হয়তো মুসলমান অধু্যষিত এলাকায় রমজান মাসে হলে সময়ের কিছুটা এদিক-সেদিক করে পালন করা হয় কিন্তু কখনোই তা ভোরে চলে যায় না। গল্পকার যখন লেখেন, 'পরদিন ষষ্ঠী। ঠাকুর ভিটেয় উঠবে। ভোরবেলা ঢাকে কাঠি পড়ল। আরতির বুকের মধ্যে বদ্যো বেজে উঠল...' তখন বদ্যো আমাদের বুকেও বেজে উঠে আর তা হচ্ছে বিস্ময়ের! আর বিস্ময় নিয়ে ভাবি, একি অন্য রীতির প্রতি লেখকের অবহেলা নাকি অজ্ঞতা? অজ্ঞতাই বা বলি কি করে!
গল্পটা পড়ে কি বোঝা গেল কিংবা কেন লেখা হলো; তার কোনো উত্তর মিলে না। এই গল্পের উদ্দেশ্য কি প্রশ্ন করলে যদি উত্তর হয় জেবুল্পিম্নসা ওরফে আরতির মাধ্যমে রমজান মাস উপলক্ষে পাঠকদের আবারো ইফতারের দোয়া (গল্পে আরতির মুখ দিয়ে সম্পূর্ণ ইফতারের দোয়া পড়িয়েছেন গল্পকার) মনে করিয়ে দেওয়া, তবে উদ্দেশ্য একেবারে সফল। ধান ভানতে শিবের গীতটা একটু বেশি গাওয়া হলো; এই যা। আর যদি গল্পের শিল্পমূল্যের দাবি ওঠে তবে কিন্তু পাঠক নিরুপায়।
প্রকাশক কিংবা সম্পাদকের অনুরোধে অনেক লেখকই লেখা তৈরি করেন। 'জেবুল্পিম্নসা' গল্প পড়ে মনে হয়েছে যেন লেখককে কেউ বলেছেন, সামনে রোজা এবং পূজা। এ পূজা আর রোজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারকে নিয়ে একটি প্রেম জাতীয় লেখা তৈরি করুন, যা পাবলিক খাবে। আর যেহেতু আপনি মুসলমান এবং মুসলিমপ্রধান দেশ সুতরাং সে ধর্মই যেন প্রাধান্য পায়। এরকম ঘটনা যদি অন্য যে কোনো সাময়িকীর ক্ষেত্রে ঘটত তাহলে বলার কিছু ছিল না। কিন্তু কালের খেয়াকে কেন্দ্র করে আরোপিত, ফরমায়েশি লেখক গড়ে উঠুক; এমনটা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা যারা পাঠক তারা জানি, গল্পকারকে সমাজ, সময়, সংস্কার ও কাহিনী র্বণনায় সজাগ থাকতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় লেখাটা যেন শুধু শুধু কলমের টানে এগিয়ে না গিয়ে বিবেক-বোধ, যুক্তি ্টারা পরিচালিত হয়। সেসঙ্গে পাঠকের আস্থা ও চাহিদাকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ বিশ্বস্তভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনও রয়েছে। আরোপিত কাহিনী পাঠকরা চিরকালই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে লেখককেও। কিন্তু এমনটি যেন উম্মে মুসলিমার ক্ষেত্রে না ঘটে। কারণ এই গল্পকারের লেখার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে। শুধু ক্ষমতাটা একটু যাচাই করে একটা গল্প তার কাছে যতটুকু সময় দাবি করে সেই অনুপাতে ব্যবহার করা উচিত। আর একজন পাঠক হিসেবে তার কাছে এটুকু দাবি নিশ্চয়ই করতে পারি?
সুমন আজাদ
শাবিপ্রবি, সিলেট
প্রকাশিত লেখার লিংক
লেবেলসমূহ:
আলোচনা-সমালোচনা
এর দ্বারা পোস্ট করা
suMon azaD (সুমন আজাদ)
সত্তর দশকে দেশত্যাগী, স্বেচ্ছানির্বাসিত কবি শহীদ কাদরীকে নিয়ে সমকালের শুক্রবারের আয়োজন 'কালের খেয়া' হাতে পেয়ে কতটা মুগ্গব্দ হয়েছি তা প্রকাশ করার মতো নয়। মুগ্গব্দতার পরক্ষণেই অবশ্য বেদনার্ত হয়ে যায় হূদয়। কারণ শহীদ কাদরী নামটা উচ্চারিত হলে আর যেসব প্রসঙ্গ চলে আসে তা হলো_ শামসুর রাহমান, আল মাহমদু, বিউটি বোডর্িং ইত্যাদি। সময়ের পরিক্রমায় সব কিছুই মোটামুটিভাবে চলমান ছিল গত বৃহস্পতিবার সন্দ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু এ বেলায় এসে নিভে গেল শামসুর রাহমানের জীবনপ্রদীপ। আর সেই শামসুর রাহমান এবং শহীদ কাদরীর প্রসঙ্গই উঠে এলো হাসান ফেরদৌসের লেখায়। জ্ঞানগর্ভ সে প্রচ্ছদ রচনা পড়ে আরো জানা গেল শহীদ কাদরীর র্বতমান প্রবাস জীবনের খ-চিত্র। সৌম্য দাশগুপ্ত ও অংকুর সাহার সঙ্গে শহীদ কাদরীর পত্রালাপ (যাকে লেখক্টয় সাক্ষাৎহীন সাক্ষাৎকার বলেছেন) হওয়া সত্ত্বেও তা অনেকটাই অন্তরঙ্গ হয়ে উঠেছে উপস্থাপনের ধারাবাহিকতার জন্য।
শহীদ কাদরী ও তার প্রকাশিত গ্রন্থ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরও যদি আলাদাভাবে বইগুলোর প্রকাশকাল ও তিনটি বই থেকে নির্বাচিত অন্তত তিনটি কবিতা পুনমর্দু্রিত হতো তাহলে মনে হয় সংখ্যাটা আরো পরিপূর্ণ হতো। তবুও কালের খেয়াকে ধন্যবাদ এ জন্য যে, কালের খেয়া সব সময় তার পাঠকের চাহিদাকে মূল্যায়ন করে। কালের খেয়া সম্পাদক আরো অগণিত পাঠকের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ থাকবেন; যদি তিনি অসুস্থ কবি শহীদ কাদরীর স্মৃতিকথা ও কবিতা বিষয়ক টিকা-টিপ্টপ্পনিগুলো উদ্ধারের (লেখিয়ে নেওয়ার) ব্যবস্থা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি বিভাগ হচ্ছে 'পাঠকের কলম'। সেখানে তানজীব-উল-আলমের চিঠি পড়ে মনে পড়ল বিগত এক সংখ্যায় সিলেটের কামরুজ্জামান হেলাল যে মন্তব্যগুলো করেছিলেন সুব্রত আগাসি্টন গোমেজ, টোকন ঠাকুর ও সাহিত্য পাতায় লেখা প্রকাশ নিয়ে তার প্রেক্ষিতে কিছু বলা দরকার। অবশ্য সুব্রত আগাসি্টন গোমেজ তার জবাব দিয়েছেন পরর্বতী সংখ্যায়। তাই আমি বলতে চাই টোকন ঠাকুর প্রসঙ্গে।
আমার মনে আছে, কয়েক মাস আগে সমকালের উদ্যোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহূদ সমাবেশ তিন দিনের একটি কর্মশলার আয়োজন করেছিল। সে কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাইরের অনেক অংশগ্রহণকারীর মধ্যে কামরুজ্জামান হেলালও ছিলেন। আর সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টোকন ঠাকুর। কবিতা বিষয়ক আলাপচারিতায় দু'দিন বরাদ্দকৃত সময়ে অনেক অন্তরঙ্গ মুহহৃর্ত তিনি সুহূদদের সাল্পিম্নধ্যে কাটান। সেসব আলোচনায় অনেক প্রশ্ন-উত্তর পবরাউ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর মতো হেলালও অংশ নিতেন। তবে তার বেশির ভাগ তত্ত্বের উৎস ছিল 'নয়া দিগন্ত' কিংবা 'সংগ্রাম'। আমার মনে আছে, সৃষ্টিশীলতার চর্চায় ওইসব পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে হেলাল দাবি করলে তার প্রেক্ষিতে ওইসব পত্রিকার উদ্দেশে টোকন ঠাকুর বলেছিলেন, 'জামায়াতের প্রোডাকশন আর কতটা ক্রিয়েটিভ হবে, সে আমাদের জানা আছে।' তখন চুপ মেরে যাওয়া হেলালের পরর্বতী সময়ে পত্রিকার মাধ্যমে একজন সিনিয়র কবিকে অপদস্থ করার প্রক্রিয়া দেখে প্রশ্ন জাগে, দু'দিন কাছে পেয়েও যে হেলাল টোকন ঠাকুরকে তার কবিতা নিয়ে একটি প্রশ্নও তুললেন না সেই হেলাল কোন উদ্দেশ্যে পত্রিকায় চিঠি লেখেন?
ধন্যবাদ তানজীব-উল-আলম সেসব পত্র লেখকের আসল উদ্দেশ্য কালের খেয়ায় তুলে ধরার জন্য।
লেখার লিংক
শহীদ কাদরী ও তার প্রকাশিত গ্রন্থ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরও যদি আলাদাভাবে বইগুলোর প্রকাশকাল ও তিনটি বই থেকে নির্বাচিত অন্তত তিনটি কবিতা পুনমর্দু্রিত হতো তাহলে মনে হয় সংখ্যাটা আরো পরিপূর্ণ হতো। তবুও কালের খেয়াকে ধন্যবাদ এ জন্য যে, কালের খেয়া সব সময় তার পাঠকের চাহিদাকে মূল্যায়ন করে। কালের খেয়া সম্পাদক আরো অগণিত পাঠকের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ থাকবেন; যদি তিনি অসুস্থ কবি শহীদ কাদরীর স্মৃতিকথা ও কবিতা বিষয়ক টিকা-টিপ্টপ্পনিগুলো উদ্ধারের (লেখিয়ে নেওয়ার) ব্যবস্থা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি বিভাগ হচ্ছে 'পাঠকের কলম'। সেখানে তানজীব-উল-আলমের চিঠি পড়ে মনে পড়ল বিগত এক সংখ্যায় সিলেটের কামরুজ্জামান হেলাল যে মন্তব্যগুলো করেছিলেন সুব্রত আগাসি্টন গোমেজ, টোকন ঠাকুর ও সাহিত্য পাতায় লেখা প্রকাশ নিয়ে তার প্রেক্ষিতে কিছু বলা দরকার। অবশ্য সুব্রত আগাসি্টন গোমেজ তার জবাব দিয়েছেন পরর্বতী সংখ্যায়। তাই আমি বলতে চাই টোকন ঠাকুর প্রসঙ্গে।
আমার মনে আছে, কয়েক মাস আগে সমকালের উদ্যোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহূদ সমাবেশ তিন দিনের একটি কর্মশলার আয়োজন করেছিল। সে কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাইরের অনেক অংশগ্রহণকারীর মধ্যে কামরুজ্জামান হেলালও ছিলেন। আর সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টোকন ঠাকুর। কবিতা বিষয়ক আলাপচারিতায় দু'দিন বরাদ্দকৃত সময়ে অনেক অন্তরঙ্গ মুহহৃর্ত তিনি সুহূদদের সাল্পিম্নধ্যে কাটান। সেসব আলোচনায় অনেক প্রশ্ন-উত্তর পবরাউ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর মতো হেলালও অংশ নিতেন। তবে তার বেশির ভাগ তত্ত্বের উৎস ছিল 'নয়া দিগন্ত' কিংবা 'সংগ্রাম'। আমার মনে আছে, সৃষ্টিশীলতার চর্চায় ওইসব পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে হেলাল দাবি করলে তার প্রেক্ষিতে ওইসব পত্রিকার উদ্দেশে টোকন ঠাকুর বলেছিলেন, 'জামায়াতের প্রোডাকশন আর কতটা ক্রিয়েটিভ হবে, সে আমাদের জানা আছে।' তখন চুপ মেরে যাওয়া হেলালের পরর্বতী সময়ে পত্রিকার মাধ্যমে একজন সিনিয়র কবিকে অপদস্থ করার প্রক্রিয়া দেখে প্রশ্ন জাগে, দু'দিন কাছে পেয়েও যে হেলাল টোকন ঠাকুরকে তার কবিতা নিয়ে একটি প্রশ্নও তুললেন না সেই হেলাল কোন উদ্দেশ্যে পত্রিকায় চিঠি লেখেন?
ধন্যবাদ তানজীব-উল-আলম সেসব পত্র লেখকের আসল উদ্দেশ্য কালের খেয়ায় তুলে ধরার জন্য।
লেখার লিংক
লেবেলসমূহ:
আলোচনা-সমালোচনা
.jpg)