পৃষ্ঠাসমূহ

নির্বাচিত কলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নির্বাচিত কলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও আমাদের সরকার: কণ্ঠকময় পথচলা

"The practice of the freedom of thought and our Government: A pilgrimage"
...প্রক্রিয়াধীন

ইসলামে নারীর বন্দিত্ব; আত্নরক্ষার মাধ্যম পর্দা নাকি ব্যাক্তিত্ব?

“The Imprisonment of women in Islam: The medium of protecting the self is curtain or personality"

...প্রক্রিয়াধীন

তরুণ প্রজন্ম, ধর্ম এবং জঙ্গীবাদ, ধর্মের প্রতি উদাসীনতা কিংবা আমাদের ধর্মহীনতা

“Young Generation, Terrorism and careless – attitude towards Religion or our Religiousness"

...প্রক্রিয়াধীন

মগজধোলাই ও আধুনিক মোল্লাতন্ত্র; প্রেক্ষিত বিশ্ববিদ্যায়

"Brain-wash of Shibir and Modern Fundamentalism: Perspective University"
নির্বাচিত কলাম
...প্রক্রিয়াধীন

মৌলবাদীদের পর্দাপ্রথা, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি; আওয়ামীলীগ কি সব ভুলে গেলো?

জঙ্গি নিধন, নারী স্বাধিনতা, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বিচার বর্হিঃভূত হত্যা বন্ধ এবং সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় আছে। তাই স্বাভাবিত ভাবে দলটির উপর সবার নজর ছিল। আওয়ামী লীগ এর অবস্থা দেখলে মনে হয় তারা এখন নিজেদের সামলাতেই ব্যস্ত বেশী। বাংলাদেশের জনগনের আশা ছিল যে, নতুন সরকার তার মহাজোট ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজনৈতিক নির্যাতন নিপীড়ন, মানবাধিকার লংঘন, জাতীয় নেতাদের গ্রেফতার নির্যাতন ও হয়রানীর মধ্য দিয়ে এই সরকার স্বৈরাচার সরকারে রূপ নিচ্ছে।
ভোটের রাজনীতির কারণে তারা বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাচ্ছে। তার মধ্যে নারী নীতি ও সংবিধানকে ধর্ম নিরপেক্ষ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য কিছু মোল্লাগোষ্টির প্রতিবাদের মুখে তারা সিডও (CEDAW) সনদে স্বাক্ষর করতে ভয় পাচ্ছে। সরকার ভয় পাচ্ছে আগামী নির্বাচনে যদি এই কারণে ইসলামী গোষ্টির সমর্থন না পায় সেই বিষয়টি নিয়ে। অথচ একটি বার ভাবছে না যে এই সকল প্রতিশ্রুতি দেখেই মানুষ তাদের নির্বাচিত করেছে। সরকার সংবিধানকে ধর্ম নিরপেক্ষ করার কথা বললেও এখন চাচ্ছে ধর্ম এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার মাঝে একটা সমন্বয় করতে। যা প্রকারন্তরে হাস্যকর এবং সংবিধান অবমাননার সামিল।
আমরা যদি সরকারের এই নীতিটাকে কোরান-সুন্নাহ ও বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে ব্যাখ্যা করে দেখি তাহলে পরিস্কার বুঝা যাবে। সিডও (CEDAW) সনদ বাস্তবায়ন কি কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সম্ভব? সিডও (CEDAW) সনদ মানেই হচ্ছে নারীর প্রতি যেকোন প্রকার বৈষম্য বিলোপ। কোরআন-সুন্নাহ কি এই বৈষম্য বিলোপের বিপক্ষে? মোটেও না, কখনো না। উল্টো কোরআন নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যকে সমর্থন করে এবং নারীকে পুরুষের অধীনস্ত মনে করে। সুতরাং সিডও (CEDAW) সনদ আর কোরআন-সুন্নাহ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।

তাছাড়া আমাদের সংবিধানের সাথে কি কোরআন-সুন্নাহর বিরোধ নেই? সংবিধানের ২৭, ২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩), ২৮(৪), ২৯(১), ২৯(২) অনুচ্ছেদগুলোতে সরাসরি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ব্যাপারে বলা আছে, সেখানে কোরআন কি মনে করে? কোরআনের চোখে নারী পুরুষের সমকক্ষ নয়। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের দ্বিগুন পাবে, ১ জন পুরুষ সাক্ষ্য = ২ নারী সাক্ষ্য, স্বামী স্ত্রীকে প্রহার করতে পারে ইত্যাদি। এ সবই সংবিধানের উপরের ধারাগুলোর [২৭, ২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩), ২৮(৪), ২৯(১), ২৯(২)] বিপরীত। যদিও, উত্তরাধিকার আইন থেকে শুরু করে সংবিধান সমর্থিত অনেক আইনেই কোরআন-সুন্নাহকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে- যা আবার সংবিধানের উপরের ধারাগুলোর বিপরীত, সুতরাং- বলা যায় সংবিধান নিজেই স্ববিরোধিতায় ভরপুর। আমাদের সংবিধানে যেমন কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় আছে, তেমনি পরিপূরক বিষয়াদিও আছে। সংবিধান রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা বলে, বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়, সংবিধান পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন, মুসলিম বিবাহ আইনকে সমর্থন করে। আবার উল্টোদিকে- উপরিউক্ত ধারাগুলো যেমন আছে, তেমনি আমাদের সংবিধান সাক্ষ্য আইন ১৯৭২ কে, চুক্তি আইন ১৯৭২ কে সমর্থন করে। এই আইনের বলে- আদালতে ও নির্বাচনে, চুক্তি সম্পাদনে নারী পুরুষের সমান মর্যাদা পায়। যা সরাসরি কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে স্ত্রীকে প্রহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যদিও কোরআনে স্ত্রীকে প্রহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে, সংবিধান এবং কোরান ও সুন্নাহ পরস্পর সাংঘর্ষিক। একটাকে রেখে আরেকটার পালন অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কের এবং আইনের পরিপন্থি। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের সরকার সেই আইন পরিপন্থি কাজে লিপ্ত রয়েছে।
অথচ সরকার সেই দিকে কোনো নজর না দিয়ে উল্টো ব্যস্ত রয়েছে তাদের প্রতিশোধ গ্রহণে। মামলা, হামলা, গ্রেফতার ও সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সাংবাদিক নির্যাতন, খুন, গুম, ডাকাতি ও রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিত্যদিনকার ঘটনা। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির ঘটনায় অতিষ্ঠ মানুষ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার অঙ্গীকার করলেও তা অব্যাহতভাবে চলেছে। নতুন যোগ হয় সাদা পোশাকে অপহরণ, গুপ্ত হত্যা। বখাটেদের নারী উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ইভটিজিং বা নারী নির্যাতনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা ভীষণ উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ফাঁসির আসামি, হত্যা মামলার আসামিসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীদের রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছেন সমাজের বিবেকবান মানুষ । বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা, ডাবল ও ট্রিপল মার্ডার, গলাকেটে নৃশংসভাবে খুন করা হচ্ছে। নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেননি সাংবাদিকরা। এ সময়ে ৪ লেখক সাংবাদিক নিহত, ১৭০ সাংবাদিক আহত, ৫০ জন লাঞ্ছিত ও ৫৫ জন হুমকির সম্মুখীন হন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১৭ জনের ওপর হামলা, দু’জনকে গ্রেফতার, একজন অপহৃত ও ১৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২৮১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার, রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন ৪৭০, বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে ১৭০ জন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুসারে ২০০৯ এ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল নাজুক।
২০০৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানোর কথা বলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তা অব্যাহতভাবে চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা, সভা-সমাবেশ বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি, গার্মেন্ট শ্রমিকদের নির্যাতন ও গ্রেফতার, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেশি ঘটছে এই সরকারের সময়কালে।
হত্যাসহ ভয়ঙ্কর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই বেশি ব্যস্ত। কখনও কখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ ঘটনায় গ্রেফতার হচ্ছে না ঘাতকরা। হত্যাকাণ্ডের পরও খুনি ও তাদের সহযোগীরা মামলার বাদীকেও হত্যার হুমকি দেয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে। খুনিরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় পুলিশও তাদের গ্রেফতার করছে না মর্মে বহু অভিযোগ পুলিশ সদর দফতরে জমা আছে।
একটি গনতান্ত্রিক সরকার জনগনের প্রত্যাশার কোনো মূল্য না দিলে তার ফল যে ভাল হয় না তা নিশ্চয় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভাল ভাবেই জানে।



২০০৯ দৈনিক প্রভাকর।

যারা চুপ করে থাকে তারা দেশ প্রেমিক, যারা সমালোচনা করে তারা দেশদ্রোহী

একটি অরাজনৈতিক সামরিক সমর্থনপুস্ট তত্বাবধায়ক সরকার চালাচ্ছে বাংলাদেশ!
খুবই অদ্ভূত শাসন ব্যবস্থা চলছে আমাদের দেশটিতে। যেখানে ১৪ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে চলে একটি নিয়মতান্ত্রিক সরকার সেখানে মাত্র গুটাকয়েকজন সামরিক ব্যাক্তিবর্গের সমর্থনে চলছে একটি সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই বুঝা যাচ্ছে দেশে একটা বিশেষ ব্যবস্থা বিদ্যমান। অথাৎ তথাকথিত জরুরী অবস্থা চলছে। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন রয়েছে, একটা দেশে জরুরী অবস্থা কতদিন থাকতে পারে এবং কতদিন থাকলে এটাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়?
তত্বাবধ্যায়ক সরকার প্রথমে বিভিন্ন চমক দেখালেও এখন তাদের মাঝে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের বড় দুই দলের প্রধানকে বন্দি করার পর তাদের মনোবল আরো বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পৃথিবীর কোথায় এবং কোন অবস্থায় মানবাধিকারের মত বিষয়টিকে এড়িয়ে একটি দেশ এবং তার সরকার চলতে পারে? বর্তমান সরকার দুর্নীতি বিরোধী বিভিন্ন অভিযান চালাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষের সমর্থন আছে। এই কাজের জন্য সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার দাবী রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো সরকার অতি উৎসাহী হয়ে একজনের দুর্নীতির জন্য তার পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠাচ্ছে। তারা অভিযোগ করে বলছে, ওই দুর্নীতিবাজ লোকের স্ত্রী তাকে দুর্নীতি করতে নিষেধ করলো না কেনো? সুতরাং তাকেও জেলে পাঠাও। কতটা হাস্যকর যুক্তি হতে পারে এটা। আপনি একজন চোরকে ধরলেন। তারপর ওই চোরের এলাকার সবাইকে ধরলেন আর বললেন, আপনাকে তাকে চুরি করতে নিষেধ করলেন না কেনো? পরবর্তী দেখা যাবে ওই চোর যে স্কুলে পড়ত সেই স্কুলের শিক্ষককেও ধরলেন ভাল শিক্ষা দেয়া হয়নি এই অপরাধে! নাজমুল হুদাকে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে দুর্নীতির দায়ে। সাথে তার স্ত্রী সিগমা হুদাকেও জেলে পাঠানো হল স্বামীকে অনুপ্রাণিত করার অভিযোগে! অথচ সিগমা হুদা একজন মানবাধিকার নেত্রী। সরকার মানবাধিকারের ধার তো ধারছেই না, উল্টো মানবাধিকার কর্মীকে জেলে ভরছে।
অথচ এই অরাজনৈতিক তত্বাবধায়ক সরকারের মূল ম্যান্ডেট হচ্ছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর তাদের কাজে স্বচ্ছতা ও স্পস্টতা নিয়ে প্রশ্নের কোন অবকাশ থাকতে পারে না। বুলেট দিয়ে ব্যালট নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ কখনও শুভ হয় না। সরকার জরুরী আইনের ক্ষমতার আওতায় সংস্কার ঘটাতে চাচ্ছে। সরকারের নেপথ্যে রয়েছে মহাক্ষমতাশালী চক্র যাদের উদ্ধত আচরণ স্পস্ট হয়ে উঠেছে। বাজেটে আর্থিক সংস্থান ছাড়াই স্ব-প্রমোশনের নির্লজ্জ উদাহরণ সৃস্টি করেছে ক্ষমতাবান জেনারেলরা। জেনারেলের আত্মীয় বিধায় দূর্নীতিবাজ আপনজনরা বিনা বাধায় দেশত্যাগ করেছে।
মাইনাস থিওরীর প্রবর্তন করে বর্তমান সরকার নতুন ধারার গণতন্ত্রের প্রবর্তন করতে চাচ্ছে। অথচ এটি সরকারের ম্যান্ডেট নয়। সরকার সুশীল সমাজ ক্রয়ের চমকপ্রদ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সামরিক পেশী শক্তির মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ পত্রিকা আর সাংবাদিক কেনাবেচা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক নিয়োগ বাণিজ্য জমিয়ে মাথা কেনা চলছে। হায় হায় কোম্পানী, জাগো, নাশ, কল্যাণ পার্টি, নিরাপত্তা কাউন্সিল আর কনফারেন্স সর্বস্ব উদ্যোগ আয়োজন দিয়ে সরকার যথেস্ট হাস্যরসের জোগান দিয়ে জনগণকে বিনোদিত করার আপ্রাণ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলো না করেও তো সরকার নন্দিত হতে পারত।
একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে বহনকারী বিমানকে দেশের সীমানায় প্রবেশে বাধা দানের মতো হাস্যকর নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়ে সরকার দুনিয়াব্যাপী আলোড়ন সৃস্টি করেছে। জরুরী আইনের মধ্যেও সামরিক সরকার রাজনীতিতে কিংস পার্টির তরী ভাসানোর বিফল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। জনগণ রাজনৈতিক স্বৈরাচার প্রত্যাখ্যান করেছে। মনে আছে, গত বছর পুলিশী ট্রাকের নীচে শহীদ হয়েছেন একজন গনতন্ত্রের সৈনিক। অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী নির্যাতন ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। হয়নি কোন বিচার। গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রামের কারণেই বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকারের আগমন। তাই, আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়বার কোন অশুভ চেষ্টা এখনও সফল হবে না।
দু:খজনক হলেও সত্য যে, মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা এখনও বন্ধ হয়নি। দু'জন স্বনামধন্য উপদেস্টা তাদের রাস্ট্রীয় শপথ ভঙ্গ করেই জামাতীদের উদ্ধারে সময়ে-অসময়ে এগিয়ে এসেছেন। মৌলবাদী জামাতী আর হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা জরুরী আইন ভেঙ্গে মিটিং মিছিল করলেও জেলে যায়নি। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সামরিক ছাউনি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অপরাধে
অধ্যাপকরা আর ছাত্ররা এখনও জেলের ভেতরে ধুঁকছেন।

বর্তমান তত্বাবধায়ক তাদের ম্যান্ডেটের বাইরে অনেক কিছুই করতে চেয়েছে। তাদের সদিচ্ছার প্রকাশ ছিল অফুরন্ত। তবে তাদের অনেক কাজের মধ্যেই স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারী মনন কাজ করছে। আর স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে কোনোদিন জনগনের অন্তরে স্থান পাওয়া যায় না।

শাবিপ্রবির জটিলতা দূর হোক/সুমন আজাদ

শাবিপ্রবি বন্দ। এ কথাটা এখন সবার জানা। কিন্তু কেউই জানেন না, খুলবে কবে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ক্যাম্পাস আজ নিথর। নিথর ক্যাম্পাসে শুধু হেঁটে বেড়ায় কিছু বিষণম্ন শিক্ষার্থী। অসহায় চোখগুলো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে চারপাশের জড় দালানগুলো। আর জড় পদার্থগুলোকে দেখে শুধু মনে পড়ে এমন স্বভাবের কিছু মানুষের কথা, যাদের জন্য আজ থেমে আছে সাড়ে ৬ হাজার ছাত্রছাত্রীর সুন্দর ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রা। কী এমন ঘটেছিল যার জন্য আজ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে শাবিপ্রবি অচল?
চলুন জানা যাক সেদিনের কথা : আর সব স্বাভাবিক দিনের মতো সেদিনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরেছে সবাই। বিভিন্ন ডিপার্টমেনাউটর পরীক্ষা ছিল কাছাকাছি সময়। আর তাই যে যার মতো করে প্রস্থুতি নিচ্ছেল। সন্দ্যার পরপরই রটে যায়, শাবির কিছু ছাত্রকে পাঠানটুলায় রাকীব-রাবেয়া কলেজে আটকে রাখা হয়েছে। সহপাঠী বন্দুদের এমন অবস্থার খবর শুনে কেউই বসে থাকতে পারেনি। তিন কিলোমিটার দূর থেকে ছাত্র হলগুলোর ছাত্ররা ছুটে আসে রাকীব-রাবেয়া মেডিকেলের সামনে। সময়ের ব্যবধানে সেখানে আগেই পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের সঙ্গে মেডিকেল কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে যখন ছাত্রদের কথা কাটাকাটি চলছে, তখন আগ্রহী কিছু ছাত্র গেটের ভেতরে ঢুকে এগুতে চাইলে পেছন থেকে গুলি করে পুলিশ। গুলির সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কয়েকটি তাজা প্রাণ। পুলিশের আকস্টি্মক আক্রমণে সবাই যেন হতবাক। তাৎক্ষণৎ আহত ছাত্রদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো গাড়ি না পেয়ে পুলিশের কাছে গাড়ি চাইলে তারা তা দিতে অপারগতা জানায়। যেন তারা ক্রসফায়ার করে ফেলে রেখেছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের দেহ!
এসব ঘটনা পর্যন্ত আমাদের উপাচাযরাউর কোনো ভূমিকাই ছিল না! সঙ্গত কারণেই সহপাঠীদের হাসপাতালে রেখে এসে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেই রাতেই উপাচাযরাউর বাসভবন অবরোধ করে। পরে পুলিশের গুলিতে আহত শামীম মারা গেলে সব শিক্ষার্থী উপাচাযরাউর পদত্যাগ দাবি করে। অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের মুখে এক সময় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা ছিল সেই মুহহৃতরাউ প্রত্যাশিত। তখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্দ ঘোষণা করলে সবাই ভাবে যে গ্রীষ্ফ্মের ছুটির পর খুলে যাবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই উপাচার্য আবার স্বপদে ফিরে এলেন। তাই আবারো নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয় শাবিপ্রবি নিয়ে। পরে উপাচাযরাউর পদত্যাগ ও শামীম হত্যাসহ যাবতীয় ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদনেস্নর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে যেসব শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কিংবা বাম ধারার তারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপাচাযরাউর পদত্যাগই একমাত্র সমাধান মনে করে তারা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ডানপন্থি শিক্ষকরা এ পরিস্থিতিতে উপাচাযরাউর পক্ষে অবস্থান নিলেও সব শিক্ষকই চান শিক্ষা কার্যক্রম যেন শুরু হয়। তবে আশ্চর্য এক কারণে উপাচার্য আজো বহাল আছেন। কিন্তু র্বতমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটা বিষয় সুনিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুখোমুখি দুটি দল। এক. যারা ভিসির পদত্যাগ দাবি করছে। দুই. ভিসি নিজে। কারণ ভিসির পদত্যাগের জন্য যারা আন্দোলন করছে তাদের আন্দোলন ভিসি পদত্যাগ করলেই থেমে যাবে। অপরদিকে যারা সরকারপন্থি বা ভিসির পক্ষে, তারা কখনোই ভিসি পদত্যাগ করলে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করবে না। কারণ ভিসি যখন প্রথমবার পদত্যাগ করেন তখন তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো আন্দোলন হয়নি। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এই শাবিপ্রবি নিয়ে নেতাদের নিষ্ফি্ক্রয়তা। আজ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী-এমপি শাবি নিয়ে একটি কথাও বলেননি। সরকারি কিংবা বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীরা মুখে কুলুপ এঁটে আছেন। তারা একবারও এই সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা নিজেদের মূল্যবান কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন না! অথচ এদেরও ভোট আছে! আছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ছোট-বড় একটা পরিবার। যারা নিশ্চয়ই ব্যালটে সিল দিতে এ কথা মনে রাখবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যথেষ্ঠ যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে থাকে এক একজন শিক্ষার্থী। এসব মেধাবী ছাত্রছাত্রী শিক্ষাজীবনে বারবার বাধাগ্রস্ত হলে সঙ্গত কারণেই হতাশ হয়ে পড়ে। আমাদের মতো দেশে শিক্ষাজীবন শেষে এক একজন শিক্ষার্থীর যে ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে, তা মোটেও সুখকর নয়। তারপরও যদি মেধাবী মাথাগুলো ব্যর্থতার দায়ে এখনই নুয়ে পড়ে, তার দায় কে নেবে? উপাচার্য যে এলেন কে গেলেন_ এতে আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রছাত্রীর মাথাব্যথার তেমন কিছু নেই। আমরা শুধু চাই বিশ্ববিদ্যালয় চলুক তার আপন গতিতে। আর সেই গতিধারার সঙ্গে ভালো মিলিয়ে চলুন তারুন্যের স্বপম্নবুনন। এক একটি চোখ জ্বলজ্বল করে উঠুক সম্ভাবনার দু্যতি নিয়ে। শাবি ক্যাম্পাস থেকে শুরু হোক তারুন্যের জয়যাত্রা। আর সেই জয়যাত্রার পালে কখনো যেন না লাগে একটিও অনাকাঙ্খিত পালক।
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, শাবিপ্রবি, সিলেট

সমকাল
প্রকাশিত লেখার লিংক

পর্দাপ্রথা ও ইসলাম; নারীর অগ্রগতি দমনের সূক্ষ্ণ কৌশল।

ধর্ম যখন মানুষের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, তখন কল্যানের চেয়ে অকল্যানই বেশী ঘটে একটি জাতির জীবনে। তাই হয়ে এসেছে চীরকাল, ইতিহাস তাই বলে। অথচ কে না জানে, মানুষের জন্য ধর্ম এসেছিল, ধর্মের জন্য মানুষ নয়। আজ যেনো মানুষ হয়ে গেছে গৌণ আর ধর্ম হয়ে উঠেছে মূখ্য এক শ্রেণীর মোল্লা-পুরোহিতদের কাছে। আর এই ধর্মের নামে তথাকথিত শরিয়ত এর খাতিরে নারী সমাজকে বলি হতে হচ্ছে মোল্লাতন্ত্র আর পুরোহিতের যাঁতাকলে।
ইসলাম ধর্মে নারীকে যতটা না অবরোদ্ধ রাখার প্রচেষ্ঠা করা হয়েছে, আর সকল ধর্ম মিলেও তার সমান হবে না।
ইসলামী দেশ এবং এর রীতিনীতির মধ্যে যা আসে তার মধ্যে পর্দাপ্রথা বা হিজাব অন্যতম।
আমাদের দেশ সাংবিধানিক ভাবে ধর্মীয় হলেও গণতান্ত্রিক শাষণ ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেহেতু আমাদের দেশে এখনও কোরান ও সুন্নাহর শাসন ব্যবস্থা চালু হয়নি, তাই নাগরিকরা কিছুটা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে আসছেন এবং বিধর্মীরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন। কিন্তু কোরান ও সুন্নাহভিত্তিক শাষণ ব্যবস্থা চালুর জন্য মরিয়া কিছু উগ্র ইসলামী রাজনৈতিক দল এবং এর অংগ সংগঠনগুলো ইসলামী বিভিন্ন কট্টরপন্থি নিয়মনীতি চালু করে দিয়েছে। তার মধ্যে হিজাব উল্লেখ্যযোগ্য। কারণ তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু নারী। কেনোনা তারা জানে একটি নারীকে বন্দী করতে পারলে পরিবারকে বন্দি করা সম্ভব। তাছাড়া, নারী জাতি সহনশীল এবং তুলনামুলকভাবে কম প্রতিবাদী হওয়ায় তাদেরকেই লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছে উগ্র ইসলামী গুষ্ঠিগুলো। আর এর প্রভাব পড়েছি বাংলাদেশের সর্বত্র। কিন্তু একজন স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে আমি কখনোই এই আরোপিত হিজাব কে সমর্থ করতে পারি না।
বাংলাদেশের শতকরা ৮০ জনের মত মুসলিম। স্বাভাবিক ভাবে জন্মগতভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম হচ্ছে ইসলাম। নারী পুরুষের সংমিশ্রণে এই দেশ। আর নারী ও ইসলাম নিয়ে কথা উঠলেই কথা আসে পর্দাপ্রথার অর্থাৎ হিজাবের। ইসলামে নারী ও পুরুষ সবাইকে পোষাকের বিষয়ে নির্দেশ দেয়া আছে। কিন্তু কাজ ভেদে, খেলাধূলার ধরন ভেদে, আবহাওয়া ও তাপমাত্রা ভেদে, ভৌগলিক অবস্থান ও অঞ্চল ভেদে, কখনো বা সময়ের প্রভাবে পোষাক যুক্তিসঙ্গত কারণেই পাল্টায়। যাতে ঐ বিশেষ সময়ে, বিশেষ অবস্থায় মানুষ তার ক্রিয়াকর্মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু ইসলামে নারীর পোষাক সংক্রান্ত বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ পোষাকের এই যৌক্তিক কার্যকারণগুলোকে মানে না। তাই এত বিতর্ক।
অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল মুসলিম নারীসমাজ এই অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্য কোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদ করতে পারেননি। মুসলিম নারীদের মুক্তির সংগ্রামে এই পর্দাপ্রথা হয়ে উঠেছে প্রধান অন্তরায়। দাসত্বের এই প্রতীকের জন্য তারা ক্ষমাগত নিম্নমুখি হচ্ছে। পুরুষ আধিপত্যের শেকল ছিঁড়ে নিজ গৃহের বন্দিত্ব থেকেই মুক্তি পাচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে নারীরা এর বিরোধীতা করে নি তা নয়। মুসলিম রমণীরা প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন এসব প্রথার বিরুদ্ধে। ১৯২৩ সালে মিশরে প্রথম একটি প্রতিবাদ হয়, মিশরের ফেমিনিস্ট ইউনিয়নের প্রধান মিজ হুদার নেতৃত্বে। তিনি ও তার সমর্থকরা প্রকাশ্যে তাদের পর্দা ছুঁড়ে ফেলে দেন সমুদ্রে। তুরস্কে হিজাবের বিরুদ্ধে সরকার থেকে লড়াই শুরু হয় ১৯২৭ সালে। তখন কম্যুনিস্ট সরকার ছিল ক্ষমতায়। সেই সময় ৭,০০০ মহিলা প্রকাশ্যে তাদের হিজাব ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামের সাথে শত্রুতা করার জন্য তাদের ৩০০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। আজকের যে কট্টর আফগানিস্তান সেখানেও বাদশা শাহ এর সময় স্বাধীনতা উৎসবে, ১৯২৮ সালে পর্দাপ্রথার শেকল থেকে নারীকে মুক্তি দেয়ার জন্য তিনি তার স্ত্রীকে জনসম্মুখে পর্দা ছাড়া উপস্থিত হতে বলেছিলেন। পরে মুসলিম মৌলবাদীর ক্রমাগত প্রতিবাদের মুখে নারী মুক্তির সব ধরনের প্রকল্প তাকে বাদ দিতে হয়েছিল। ক্ষমতাও ছাড়তে হয় তাকে। ইরানের রেজা শাহ ১৯৩৬ সালে একটি বিশেষ আইন করে 'চাদর' পরা বন্ধের আদেশ দেন। কিন্তু সংস্কৃতির বিপক্ষে তার এই আদেশ জনপ্রিয়তা পায়নি এবং জনপ্রতিবাদের মুখে ১৯৪৬ সালে তিনি আবার তা পুনর্বহাল করেন।

পর্দা নারীর মুক্ত বিচরণকে রুদ্ধ করে দেয় এটি বলার অবকাশ রাখে না। যদিও মুসলিম রমণীদের অনেকে তাদের প্রয়োজনমত এসব নিয়মকানুনকে একটু মোচড়ে নিজের সুবিধামত ব্যবহার করেন। কিন্তু খুব একটা সরব প্রতিবাদে তারা সহজে জড়াতে চান না সাধারণত পরিবার সমাজ ধর্ম এবং রাষ্ঠ্র আরোপিত শাস্তির ভয়ে। কিন্তু ‘হিজাবের’ অর্থ কেবল পোষাকের মাঝে জড়িত মনে করলে ভুল করা হবে। এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে আরো অনেক নিয়ম-নীতি। যদি প্রশ্ন উঠে যে মুসলিম নারীর কি ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি আছে? এর উত্তরে অবশ্যই বলতে হবে তার নিজের বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে লুকিয়ে থাকাটাও হিজাবের বা পর্দা প্রথার অংশ।
এ বিষয়ে কোরানের সংশিস্নষ্ট আয়াত হচ্ছে ৩৩.৩৩: “And stay quietly in your houses, and make not a dazzling display, like that of the former Times of Ignorance; and establish regular Prayer, and give regular Charity; and obey Allah and His Messenger. And Allah only wishes to remove all abomination from you, ye members of the Family, and to make you pure and spotless.”
এই যে ঘরের মধ্যে নীরবে থাকার নির্দেশ; তা কোরানের। যারা ইসলামের সংশোধনে বিশ্বাসী এবং নিজেকে বিতর্কের বাহিরে রাখতে চান তারা এর সাথে আগের আয়াত যুক্ত করে একে চিহ্নিত করেন শুধুমাত্র নবীর স্ত্রীদের জন্য আদেশ বলে। যদিও নবীর কাজ এবং সম্মতি হাদিসের আওতায় পড়ে। যারা গোঁড়া/উগ্র মৌলবাদী কিংবা ইসলামী শাসন কায়েমে বিশ্বাসী তাদের মতে এই আদেশ সকল মুসলিম রমণীদের জন্য।
আজকের আধুনিক সমাজে যখন দেখি কোনো সম্প্রদায়ের যাবতীয় ধ্যান-ধারণা এবং চেতনা দিয়ে নারীকে পর্দা বা হিজাবের মধ্যে আবদ্ধ রাখার দলগত এবং ব্যক্তিগত চেষ্ঠায় লিপ্ত তখন অবাক এবং প্রতিবাদ না করে পারি না। এই একবিংশ শতাব্দিতে বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের বাংলাদেশে চলছে নারীকে হিজাবের আবরণে আবদ্ধ করার প্রচেষ্ঠা। পর্দাপ্রথা ও ইসলামের দোহাই দিয়ে নারীকে অবরোদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। সময় এসেছে পর্দা ছুড়ে ফেলে, নিজের সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস এর মোহ থেকে মুক্ত করে যুক্তি এবং বাস্তবতার আলোকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার। নারী দিবসে এই কামনা ব্যক্ত করছি।