পৃষ্ঠাসমূহ

suMon azaD | a writter for himself, a writter for all |

হেডম্যান





হেডম্যান

বিরাট অসঙ্গতির পর-
তুমি যাকে হেডম্যান নামে ডাকতে
দেখলে- প্রকৃতিজুড়ে সন্ধ্যা হলে
তারও মাথা নত হয়-
প্রথাগত ঝিলের কাছাকাছি।

* দেহাত্ববোধক কবিতা সিরিজের কবিতা

কেশবতীর গল্প




ডিপার্টমেন্টে নবীণবরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে।
মেয়েদের প্রেভিলিয়নের দিকে নজর রাখার দায়িত্ব পড়েছে প্রিতম, তৌসিফ আর মৃদুলের উপর। পিছন দিকে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছে আর মঞ্চের অনুষ্ঠান দেখছে। হঠাৎ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি মেয়ের দিকে হাত তুলে প্রিতম বলে উঠল- বন্ধু, দ্যাখ ওই মেয়েটার কী লম্বা চুল! যাকে বলে একেবারে কেশবতী!
মৃদুল ওদিকে তাকিয়ে বলল, মনে হয় পাশের কোনো কলেজের, অনুষ্ঠান দেখতে এসেছে। তথাকথিত গেস্ট হবে আর কী! তৌসিফ একটু ভেবে বলল, না-রে, মনে হয় আমাদের ডিপার্টমেন্টেরই, নতুন এসেছে। ঠিক ভালো ভাবে চিনতে পারতেছিনা। প্রিতম একটু ভেংচি মার্কা চেহারা করে বলে, আমাদের ভার্সিটির! আবার আমাদের ডিপার্টমেন্টের? তাও কী-না আমাদের চোখে পড়ে নি! কথাগুলো শেষ করে প্রিতম হাসলো। তৌসিফ আবার একটু সিরিয়াস হয়ে বলল- আরে, হতে পারে। আমার মনে হচ্ছে এমন লম্বা চুলের একটা মেয়ে দেখেছি। প্রিতম ব্যাপারটা বাদ দেয়ার মত করে বলে, আচ্ছা বাবা দেখেছিস ভালো হয়েছে। এখন দেখা গেল মেয়েটা আমাদের দিকে ফিরে তাকালো এ্যাঁইয়া বড় বড় দু‘খানা দাঁত বের করে। তারপর ধর গিয়ে, চেহারাখানা একেবারে তেলেছমাতি বেগমের মত! কথা শেষ হতেই তিনজন একসাথে হেসে উঠল।
তৌসিফ আবার বলল, না-না, তার উল্টোটা হবে। মৃদুল তৌসিফের থুথ্নিতে ঝাঁকি দিয়ে বলল, তুমি তো মামা, মি. আশাবাদী! তৌসিফ থুথনি থেকে মৃদুলের হাত সরিয়ে বলে, হলে?
তখন প্রিতম হেসে হেসে বলে, তাহলে এই তিন বছরে যে অসাধ্য সাধন করতে পারিনি, তার জন্য আদা আর কোল্ডড্রিংক্স খেয়ে লেগে যাবো!
এমন সময় অন্য সারি থেকে একটি মেয়ে এসে কেশবতী মেয়েটির পিঠে হালকা করে থাপ্পর দিল। সে পিছন ফিরে তাকিয়ে হেসে বলল, আরে মৌলি তুই? মৌলি বলল, তোদের না নবীণবরণ? তুই ভিতরে যাস নি? কেশবতী জানায় অনুষ্ঠানে আসতে তার দেরী হয়েছে, তাই সে ভেতরে যায় নি।
তৌসিফ তখন দাঁত কটমট করে বলে, বলেছিলাম না মেয়েটাকে কোথায় দেখেছি। আমি ওকে ভর্তির সময় দেখেছি। তোমরা তো ভাবো আমি শুধু গুল মারি! এমন সময় প্রিতমের দিকে তাকিয়ে মৃদুল বলে, কেউ যদি লাইনে দাঁড়াতে না চাও তাহলে বলে দাও। মেয়েটা দেখছি জটিল সুন্দরী! প্রিতম কেশবতীর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলে, আর কেউ লাইনে আসতে চাইলে খুন-খারাপি হয়ে যাবে! তৌসিফ খুব আগ্রহী হয়ে বলে, চল্ তাহলে মেয়েটাকে ডেকে নিয়ে আসি। জুনিয়র আছে কোনো প্রবলেম নাই। প্রিতম বাঁধা দিয়ে বলে, না-না, এভাবে না। আগাতে হবে অন্য প্রসেসে। ওর পাশে দেখ বড় আপু একজন আছে। উনাকে ধরতে হবে। মৃদুল বড় আপুকে চিনতে পেরে বলে, আরে সোনালি আপু দেখি! দাঁড়া আমি উনাকে ডেকে আনছি।

সোনালি এসেই জিজ্ঞেস করলো- কিরে তোরা! বল কেন ডেকেছিস? তৌসিফ বলে, আপু ঘটনা তো একটা ঘটে গেছে। সোনালি মুছকি হেসে বলে, তা তো বুঝতে পারছি। তবে সেটা কী? মৃদুল জানায়, ওই যে আপনার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল না! ওই যে চুল লম্বা মেয়েটা! সোনালি আবার জিজ্ঞেস করে- হ্যাঁ, কী হয়েছে?
তখন প্রিতম আমতা আমতা করে বলে, না আপু, এখনো কিছু হয় নাই। তবে হওয়ার জন্যই আপনার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন আর কী! সোনালি চোখ বড় করে বলে তাহলে এই অবস্থা! মেয়েটা কী এই বিল্ডিং এর?
সোনালির প্রশ্নের উত্তরে তৌসিফ জানায়, শুধু এই বিল্ডিং এর না, আমাদের ডিপার্টমেন্টেরও!
শুনে সোনালি মাথা দোলিয়ে বলে, তা ভালো। তবে আমাকে কী করতে হবে? প্রিতম জানালো, আপু, আপাতত নাম ও নাম্বারটা নিয়ে দিলেই হবে। সোনালি হেসে হেসে বলে- আপাতত আর ভাইতত যাই বল না কেনো, শুধু নামটা জেনে দিতে পারব কিন্তু নাম্বার না। জুনিয়র একটা মেয়ে, নাম্বার কীভাবে চাই! উত্তরে মৃদুল বলল, কী বলেন আপু! নামতো আমরাও জানতে পারব। আপনি কৌশল করে জাস্ট নাম্বারটা নিয়ে আসেন। প্রিতম একটু অনুণয়ের সুরে বলে, প্লিজ আপু! মৃদুল আবার যুক্ত করে- এই না হলে বড় বোন! ছোট ভাইদের যদি কোন উপকারই না করলেন! সোনালি একটু হেসে বলল, তোরা না! আচ্ছা দেখতেছি। তোরা একটু খাবার-দাবারের ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখিস!
সবাই সমস্বরে, অবশ্যই! অবশ্যই! বলে উঠে।
ভাসির্টির ভেতর একটা পুরনো দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রিতম। তার পাশে দেয়ালের উপর বসে আছে মৃদুল। তৌসিফ বসে আছে সামনের ব্রেঞ্চে। তার সাথে আছে ইনন ও পায়েল। মৃদুল তখন সবার উদ্দেশ্যে বলল, এই ছিল মুটামুটি গতকালের কাহিনী। এখন প্রিতম কীভাবে আগাবে তাই বলবে। মি. প্রিতম আপনি শুরু করেন। তার আগে তৌসিফ হাত তুলে বলে, আমার কিছু বলার আছে আজকের হাউজের সামনে। ইনন বলল, অনুমতি দেয়া হইল। আপনি বলিয়া বলিয়া যাইবেন না, বসিয়া থাকিবেন। তৌসিফ শুরু করে, যার নাম্বার পাওয়া গেল তার নামটার ব্যাপারে এই গরিবের একটু কৌতুহল আছে!
পায়েল টিপ্পনি কেটে জানতে চায়, আর কোনো ব্যাপারে নাই তো? তৌসিফ উত্তরে বলে, ওসব না হয় না-ই বললাম! আমি তার নাম নিয়ে দু‘চারটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম! শরীফা রাহমান টিয়া ; টিয়া কেনো? প্রিতম একটু ক্ষেপে যায়। বলে, ওই বেটা আমি ওর নামের আকিকার সময় ছিলাম নাকি? মৃদুল হেসে হেসে বলে, আবার শামসুর রাহমানের কোনো আত্নীয়-টাত্নীয় নয়-তো! তৌসিফ ভেটো দিয়ে বলে, এটা অবশ্যই না। কেননা, একজন কবি তার কারো নাম টিয়ে রাখবে না। পায়েল বলে, রাখতেও তো পারে। কবিরা তো একটু খেয়ালি হয়। তাছাড়া রবি ঠাকুর নিজের নাম রেখেছিলেন ভানু সিং। ‘সিং’ ব্যাপারটা কী অদ্ভূত! তৌসিফ আবার বলে, ময়না রাখলে তো ভালই হত। গান গাওয়া যেত- 'ও আমার ময়না গো...'
প্রিতম হেসে হেসে সায় দিয়ে বলে, অসুবিধা কী? এখন গাইবি- ও আমার টিয়া গো... সবাই হাসে।
ইনন প্রসঙ্গে নিয়ে আসে। বলে, আচ্ছা এবার বল কী প্ল্যান করলি? পটাবি কীভাবে? প্রিতম একটু নড়েচড়ে আরাম করে দাঁড়িয়ে বলে, আমি তাহলে তোদেরকে ব্যাপারটা বুঝাচ্ছি। ৩ মাসের একটা এসএমএস প্রজেক্ট। তিন গুণ ত্রিশ = ৯০ টা এসএমএস করবো। ফোন করব শুধু বিশেষ দিনগুলোতে। তবে প্রথম ফোন করব এসএমএস পাঠানোর ঠিক এক সপ্তাহ পর। দম নিয়ে আবার বলে, তোদের যার কাছে যা যা এসএমএস আছে দিস। আশা করছি তিন মাস পর তোদেরকে তোদের ভাবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবো! মৃদুল হেসে বলে, এমন পিকিউলিয়ার প্ল্যান কেনো বাপ? প্রিতম জানায়, আসলে আমি চাই আগে কথাবার্তা হউক। দুজন দুজনের সম্পর্কে কিছু জানি। দেখি সে কারো সাথে এঙ্গেজ কী-না? চোখের দেখাটাই তো আর সব না! পায়েল যোগ করে, তাই! চুল তো আর চীরদিন না-ও থাকতে পারে, বাট মন থাকবে। ইনন চোখ ইশারা করে বলে, জটিল প্ল্যান! তবে বন্ধু! আমার মনে হচ্ছে তুমি এইখানে ধরা খাবা! প্রিতম বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে জবাব দেয়, দ্যাখেন মিস ডাবল প্রিপজিশন. আপনি নামের দিক দিয়ে বড়লোক হতে পারেন। কারণ আপনার নামে আছে জোড়া প্রিপজিশন মানে in আর on! কিন্তু আমার বাবাও কম না! অন্ততঃ একটা প্রিপজিশন হলেও নামের সাথে দিছে। ওই প্রিপজিশনের কসম! টিয়া আমারই হবে। প্রিতমের কথা শোনে পায়েল বলে, তুই কিন্তু জিদ করছিস! প্রিতম গায়ে না নিয়ে বলে, করলাম! এই মন্তব্যে ইনন হঠাৎ বলে উঠে, তাহলে ধর বাজি! প্রিতম বলে, এখানে আবার বাজির কী আছে? তৌসিফ জিজ্ঞেস করে, মামা সাহসে বুক কাঁপে বুঝি? প্রিতম জানায়, বুক কাঁপবে কেন! মৃদুল যোগ করে, যদি তুই সাকসেসের ব্যাপারে ওভার সিওর থাকিস- তাহলে হয়ে যাক! প্রিতমও কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে, ওকে, আমার আপত্তি নেই! আগ্রহের সাথে ইনন বলে, ওকে! তাহলে আজ থেকে তিন মাস পর কোন এক চাইনিজে দেখা হচ্ছে সবার। দোয়া করি বিলটা যেন তোকে না দিতে হয়! আফসোসের সুরে পায়েল বলে, বেচারাকে চাপ দিস না ইনন! প্রিতম কিঞ্চিত রাগত স্বরে বলে, হোয়াট! তোদের জেলাস হচ্ছে বুঝি! তোদের পটাই নি বলে? পায়েল উত্তরে বলে, এই ক্ষমতা তোমার নাই মামা! প্রিতম- আচ্ছা দেখিস তাহলে! মৃদুল হিসেব করে বলে, তিন মাস মানে আজ নভেম্বরের ১৪ তারিখ আগামী ফেব্রুয়ারীর ১৪ তারিখ। তৌসিফ চেঁচিয়ে বলে, তার মানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে! প্রিতম খুশি হয়ে ওয়াও উচ্চারণ করে উঠে। তারপর বলে, আশা করছি তোদের বিমুখ করব না।
ইনন বলে- আমরাও আশা করছি বিমুখ হব না!
পরদিন থেকে প্রতি রাতে দশটায় নিয়ম করে নতুন একটা মোবাইল থেকে প্রিতম নিয়মিত ভাবে এসএমএস করতে থাকে। আর ক্যাম্পাসে টিয়ার সহপাঠি কিংবা তার নিজের বন্ধু-বান্ধবীদের জিজ্ঞেস করে টিয়া সম্পর্কে জানতে থাকে। এই জানার পাশাপাশি সে মুটামুটি রুটিন করে টিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে থাকে। লাইব্রেরী, ক্যান্টিন, ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ যেখানে তাকে পাওয়া যায়; প্রিতম সেই সকল জায়গায় আনাগোনা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কাস আর কাসমেটদের সাথে একটা ছোটোখাটো গ্যাপ তৈরী হয়। বন্ধু-বান্ধবরা অনেকে টিজ করে বলে, এক সপ্তাহেই এই অবস্থা! পরে তো দেখছি আমাদের একেবারে ভুলে যাবি রে প্রিতম। তবে এক সপ্তা টানা কাটায় কাটায় দশটার সময় এসএমএস করেও কোনো সারা পায়নি সে। তার মোবাইল অন থাকা সত্তে¡ও কখনো কোনো এসএমএস করেনি টিয়া অথবা মিসডকল কিংবা কল। প্রিতম ভাবে মেয়েটা বড় কঠিন! একে পটাতে বেগ পেতে হবে নিশ্চিত। তারপরও সে হাল ছাড়ে না। সে ডিটারমাইন্ড হয় তিন মাস এসএমএস এর ব্যাপারে। এভাবে এক সপ্তা পর প্ল্যান মোতাবেক একদিন রাতে এসএমএস না করে দশটার এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ ঠিক এগারোটায় ফোন করে প্রিতম।

_: হ্যালো! স্লামালাইকুম।
-) কেমন আছেন? সালামের উত্তর না দিয়ে প্রিতম জিজ্ঞেস করে।
_: ভালো আছি, কিন্তু আপনি কে? টিয়ার প্রশ্ন।
-) আমি সে, যে প্রতিদিন রাত দশটায় আপনাকে এসএমএস করে।
_: তা-তো নাম্বার দেখেই বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপনি এসএমএস করেন কেন? আর ফোন-ই বা করলেন কেন? আমি সাধারণত অপরিচিত নাম্বার রিসিভ করি না এবং কথা বলতেও আগ্রহ পাই না।
-) ওকে! আমি আপনাকে বিরক্ত করবো না। আমার এসএমএস গুলোর শেষ অক্ষর দেখে হয়তো নাম জেনে গেছেন; তার পরও বলছি- ‘Pretoom’
_: তো! ও-পাশ থেকে সংক্ষিপ্ত উত্তর।
-) তো-কিছু না। ভাবছি নামটা ÔWorld name championship’ এর জন্য পাঠাবো। আপনার কাছে কেমন লাগল; তা-ই জানতে চাচ্ছিলাম আর কি! প্রিতম হেসে উত্তর দিল। আ...চ্ছা! উত্তরটা পেয়ে গেলাম। যাই হউক, রেখে দিই। চুলায় কিছু চড়িয়েছেন বুঝি?
_: আপনি তো বড় অদ্ভূত! চুলায় কি চড়াবো?
-) না। যে ভাবে তাড়াহুড়া করছেন তাই ভাবলাম...
_: হ্যাঁ, চুলায় চাল বসিয়েছি। এখন তরকারি কুটব, মাছ বানাবো, রাঁধবো, খাবো এবং ফোন রাখবো। ok!
-) ok, রাখেন। তবে মাঝে মধ্যে মাংস-টাংস রাঁধেন কী-না খুঁজ নেব।
_: never-ever! আমার নাম্বারে পরিচিত ছাড়া কেউ ফোন দেয় না এবং আমি অপরিচিত নাম্বার রিসিভ করিও না। সুতরাং...
-) কই, আপনার নাম্বার দেখে তো মনে হচ্ছে না এটা শুধু পরিচিতজনদের জন্য! আমার কল তো গেল। তাছাড়া আপনার অভিবাবক দেখছি বেশ কট্টরপন্থি!
_: আমার বাবা কখনো এমন না। এ রকম মন্তব্য কখনো করবেন না।
-) আসলে অন্য অভিবাবকের কথা mean করছিলাম!
_: এর বাহিরে কোনো অভিবাবক থাকুক; এটা আমি পছন্দ করি না।
-) Fine কিন্তু well wisher অথবা Partner এর ক্ষেত্রে ?
_: ভেবে দেখিনি অথবা বলতে পারেন আগ্রহ নাই।
-) কারণটা জানতে পারি?
_: না, পারেন না।
-) ok! কিন্তু চালের কনডিশনটা তো জানতে পারি?
_: (ও-পাশ থেকে হাসির শব্দ আসে।)
-) তাহলে ভালো থাকবেন।
_: ok।
-) বাই। লাইন কেটে গুণগুণ করে গান ধরে প্রিতম।
‘ওরে আমার টিয়া পাখি চিননা আমারে, তুমি চিননা আমারে। যে জন তোমার মন জিতিবে এসএমএস করে, তুমি চিননা তারে।’
এভাবে আরো কিছুদিন কথা বলে, বিভিন্ন জায়গায় স্বতঃস্ফুর্ত টিয়াকে দেখে এক সময় প্রিতমের সিরিয়াসলি ভালো লেগে যায়। আর প্রিতম যেহেতু চায় না টিয়া তার কোনো কারণে বিরক্ত হউক, তাই সে যখন-তখন ফোন কিংবা সরাসরি দেখা করে না। শুধু আড়াল থেকে, কখনো চলতি পথে, লাইব্রেরী, ডিপার্টমেন্ট কিংবা ক্যান্টিনে দেখে নেয়। টিয়ার দৈনন্দিন রুটিনের সাথে মিলিয়ে এগোতে থাকে প্রিতমের ভার্সিটির দিনগুলো। অথচ সামনে তার অনার্স ফাইনাল। কিন্তু কাসের প্রতি অমনোযোগি। তাই কাসমেটদের সাথে বেড়ে যাচ্ছিল দূরত্ব। এই কয়দিনে কেমন পাল্টে গেছে প্রিতম। তার বন্ধুরা এই ব্যাপারটা মার্ক করে, জানতে চায় তার কী হয়েছে। ইনন তো একদিন বলেই ফেলল, এখনই যে অবস্থা! টিয়াকে পেলে তো আমাদের চিনবি নারে প্রিতম। প্রিতম হাসে। সে ভাবে কীভাবে বুঝিয়ে বলা যায় টিয়াকে তার মনের কথা। এর ভেতর একদিন এসএমএস এল টিয়ার। সে যে কী খুশি, পারলে লাফায়। বার বার পড়ল সেটা।
টিয়া লিখেছেÑ ‘ আপনি অনেকদিন যাবৎ প্রতি রাতে দশটায় এসএমএস পাঠান। ব্যাপারটা ইন্টারেসটিং। কিন্তু আমি ইন্টারেস্ট পাই না। আমি চাই, আপনি আর আমাকে কখনো এসএমএস করবেন না। কখনোই না।’
এই অসম্মতিমূলক এসএমএস টা-ই প্রিতম তার মেসের সকলকে দেখায়। তার কেনো যেনো মন খারাপ হয় আবার আনন্দও হয়। সে ওই হিন্দি ডায়লগটার মত ভাবে, ‘নাফরাত্ হি সাহি, লেকিন কুচ তো কিয়া’ তখনই সে টিয়াকে ফোন করে।

_: হ্যালো। কে? ও-পাশ থেকে জবাব আসে অপরিচিতের মত।
-) চেনেন না? প্রিতম ঠাণ্ডা গলায় জানতে চায়।
_: আপনার তো ফোন করার কথা না।
-) আপনারও তো এসএমএস করার কথা ছিল না।
_: কী চান আপনি? হোয়াট ইউ ওয়ান্ট?
-) ‘সীতা কার বাপ’ জানতে চাচ্ছেন?
_: দেখুন, আপনাকে তো বারবার বললাম, আমি এসবে আগ্রহী নই।
-) কিন্তু বন্ধু হতে আপত্তি কোথায়?
_: আছে। কারণ, এখান থেকেই দুর্বলতার শুরু।
-) আমি অনেকগুলো মাল্টিভিটামিন দিয়ে দেব; দুর্বল হবেন না।
_: সমস্যা আছে। আমি দুনিয়ার সবার সাথে বন্ধুত্ব করলেও আপনার সাথে করব না।
-) আমার অপরাধ?
_: বললাম না সম্ভব না।
-) ok, এই কথাটাই সরাসরি শুনতে চাই।
_: না। কী দরকার...
-) একই ডিপার্টমেন্টে আছি। তাছাড়া আমাকে তো চিনেন-ই মনে হয়। এত ফলো করি!
_: দেখা হলে কী বলতে হবে?
-) যা খুশি।
_: তাহলে কাল বিকালে ডিপার্টমেন্টে থাকবেন। আমি পরীক্ষার পর দেখা করব।
চৌদ্দ তারিখ ২টার দিকে প্রিতম পৌঁছে যায় চাইনিজে। সেখানে আগে থেকেই ছিল মৃদুল, তৌসিফ, পায়েল। শুধু ইনন তখনো আসেনি। মৃদুল বলে, খিদায় পেটের ভিতর চুচু তার ফুল ফ্যামেলি নিয়ে দৌঁড়াচ্ছে। তাড়াতাড়ি অর্ডার দে। তৌসিফ ও বলে, আমার পেটেও দাউ দাউ করি আগুন জ্বলতেছে। আস্ত মুরগ দিলেও সেটা সেদ্ধ হয়ে যাবে। হারি আপ ম্যান। প্রিতম জিজ্ঞেস করে, ইনন আসার আগেই অর্ডার করবি? পায়েল বলে, তোরা মেনু দেখ আমি ইনুকে কল দিচ্ছি। অর্ডার শেষে সবাই মিলে গল্প করছে। প্রিতম বলছে, শেষ পর্যন্ত একজনকে মন দিয়ে অনুভব করেছিলাম কিন্তু সে বুঝল না। আমার ইমিডিয়েট বড় বোন মাস্টার্স করছে স্থানিয় একটা কলেজ থেকে তা তো তোরা জানিস। তা না হলে বাসায় বলতাম, টিয়ার বাসায় প্রস্তাব পাঠানোর জন্য। বাই আই হ্যাভ সাম লিমিটেশন! মেয়েটা বুঝল না। ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখন আমার কাছে প্রতি বছর কারো স্মৃতি নিয়ে আসবে। যা দুঃখে থাকবে Full fill। সবাই প্রিতমের কথা শুনে মন খারাপ ভাব নিয়ে মাথা দোলাচ্ছে। খাবার নিয়ে আসছে দেখে প্রিতম মোবাইল থেকে ইননকে কল দিল।
_: হ্যা, প্রিতম!
-) ইনন, কই তুই? খাবার তো ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে!
_: আমি তোর পিছে। একথা শুনে প্রিতম পেছন ফিরে তাকায়। দেখে ইননের সাথে টিয়া। সে তো অবাক! কিছু বলার আগেই মিটিমিটি হেসে টিয়া বলে, বন্ধুদের খাওয়াবেন, আমাকে খাওয়াবেন না? প্রিতম উঠে চেয়ার ছেড়ে জায়গা করে দিতে দিতে ইননের দিকে তাকিয়ে বলে, ই...নু!
ইনন বলে, বন্ধু আসলেই হেরে গেছি আমি। টিয়ারও তোকে ভালো লাগে। বাদ-বাকী ইতিহাস টিয়া তোকে পরে বলবে। এখন খাওয়া শুরু করা যাক।
খাবার আগে এক তোড়া ফুল টিয়ার হাতে দিয়ে প্রিতম বলে, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে! সাথে সবাই রিংয করে। খাওয়া শুরু করতে করতে ইনন বলল, হ্যাঁ প্রিতম, তোকে একটা কথা বলা হয় নি; তা হচ্ছে, টিয়া কিন্তু আমার রুমমেট! প্রিতম যেনো বেকুব বনে যায়। অবাক হয়ে বলে, তার মানে? হলে তোরা এক সাথে থাকিস! তারপর মাথায় হাত দিয়ে বলে উঠল, ও মাই গড! এভাবে ধরালি আমাকে! ‘কেশবতীর গল্প’ তাহলে তোরাই ডিরেক্ট করলি? সঙ্গে সঙ্গে সবাই উচ্চ স্বরে হেসে উঠল।

তার সঙ্গে সঙ্গে যেন এক মায়াবী ঝংকারে কেঁপে উঠল রেস্তুরার চারপাশ।

মনমিতা




কয়েকজন বন্ধু ক্যাম্পাসের এক কোণায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। ভার্সিটির এই জায়গা থেকে সবকিছু দেখা যায় আবার আড্ডাও দেয়া যায়। তখন নাসিম কনককে বলে, ঐ দেখ শীলা। নাসিমের কথা শুনে সবাই সেদিকে তাকায়। মাসুদ বলে, শীলা মনে হয় কনককেই খুঁজছে। তবে এদিকেই আসবে; এটা নিশ্চিত। সে এমন ভাবে কথাগুলো বলে যে কথা শেষ হওয়ার পর সবাই মুখ টিপে হাসতে থাকে। কনক কিছুটা লজ্জা পায়। বলে, আমাকে কেন? শীলা তো তোদেরও খুঁজতে পারে। সে তো সবারই ক্লাসমেট। আফসার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে- তা ঠিক। তবে ভাইয়া কিঞ্চিৎ ব্যবধান আছে যে! শীতল আগ্রহী হয়ে জানতে চায়- ব্যবধান মানে! বুঝলাম না তো? ততোক্ষণে শীলা এসে গেছে। বসতে বসতে শীতলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, কি বুঝলি না? শীতল কিছু বলতে যাচ্ছিল কনক তাকে থামিয়ে বলে, আরে শীলা তুইও বুঝিস না। শীতলের দিকে ইশারা করে বলে, ওতো একটা টিউব। সব সময়ই একটু পরে জ্বলে। সবাই কনকের কথা শোনে হেসে উঠে। কনক শীলাকে বলে, তুই কি হেডের সাথে দেখা করেছিস? হেড তো বাত্তি জ্বালাইয়া তোরে খুঁজতেছে। শীলা ঠোঁটে কামড় দিয়ে বলে, ইসরে আমার একদম মনে নেই। আচ্ছা, স্যার কেন খুঁজছে জানিস কিছু। লতাও শীলার মত সিরিয়াস হওয়ার ভান করে কনককে জিজ্ঞেস করে, হ্যাঁ! তুই কিছু জানিস? লতার কথায় শীলা ও কনক ছাড়া বাকীরা সবাই হিঃ হিঃ করে হেসে উঠে। এতে শীলা একটু লজ্জা পায়। তারপর ¯^vfvweK হবার জন্য বলে, মানে তোরা কেউ কিছু জানিস নাকি? নাসিম বলে, আমরা শুধু জানি হেডে তোমারে বুলাইছে। ক্যান বুলাইছে হেউডা হেডেই ভাল বলতে পারবে। তাই না? বলে মাসুমের দিকে তাকায়। মাসুমও মাথা দুলিয়ে সমর্থন জানায়। শীলা একটু চিন্তা করে বলে, স্যার আমাকে নিশ্চিত বকবে। এ কথা শুনে আফজাল বিজ্ঞের মত মন্তব্য করে, স্যার কাউকে ডেকেছেন আর বকেন নি- এমন তো কখনো হয় নি! মাসুমও আফজালকে সমর্থন করে বলে, তুই ঠিকই বলেছিস। কেউ যদি একশতে একশ পায় আর স্যার তাকে ডেকে নেন, তবে নিশ্চিত যে তাকে ধমকিয়ে স্যার বলবেন, তুমি কেমন স্টুডেন্ট বলতো, আরেকটু সিরিয়াস হতে পারলে না? নিজের কথা শেষ করে মাসুম নিজেই হাসে। শীলা দুঃখি দুঃখি হয়ে বলে, আমি বুঝতে পারছি না। কনক, তুই চল না আমার সাথে। প্লিজ! শীলার কথা শোনে কনক অপ্রস্তুতের মত চেয়ে থাকে। তখন লতা বলে, যা না কনক, বেচারী একা একা যেতে ভয় পাচ্ছে। তোর যাওয়া উচিৎ। আফসার সুর মিলিয়ে বলে, শুধু উচিৎ নয় কর্তব্যও বটে! শীলা আবারো উঠতে উঠতে তাড়া দিল কনককে। নাসিম কনকের পিঠ চাপড়ে বলে- যাও মামা, যাও! সবার দিক থেকে চোখ সরিয়ে শীলার দিকে তাকিয়ে কনক বলে, চল। ওরা যখন চলে যাচ্ছিল তখন শীতল চেচিয়ে বলে, ভোল্টেজ ঠিক থাকলে টিউব একদিন ঠিক সময় জ্বলবে। কনক পিছন ফিরে শীতলের দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে চলে যায়।

হেডের রুমে দুজন চুপচাপ বসে আছে। স্যার হাতের কাজ শেষ করে জিজ্ঞেস করেন, তা কনক তুমিও ওর সাথে এসেছো। ভাল। কনক বলে, স্যার আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। স্যার হু বলে তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা এখন মাস্টার্স এ উঠে গেছ। এখনও যদি নিয়ম কানুন ভাল ভাবে না জানো, তা হলে কিন্তু বিরাট অন্যায়। শীলা বলে, স্যার, কি করেছি স্যার বুঝতে পারছি না। স্যার চেয়ারে হেলান দিয়ে বলেন, তুমি তোমার প্রপোজাল সীটের এক কপি অফিস থেকে নিয়ে গিয়েছিলে, কিন্তু এখনো তা ফেরত দাও নি। আমাকে অফিস থেকে ঘটনাটা জানালো। কারণ ওই বিষয়টা আমার ছিল। শীলা তৎক্ষণাৎ সরি স্যার বলে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে চাইলো। স্যার তাকে থামিয়ে একটু হেসে বললেন, দেখ ইংরেজরা আমাদের এই শব্দটা দিয়েছে বলে সব সময়ই তার ব্যবহার করতে হবে- তা কিন্তু ঠিক না। শীলা বলে, আমি আসলে স্যার জুনিয়র একটা মেয়েকে দিয়েছিলাম আর বলেছিলাম জমা দিয়ে দেয়ার জন্য। স্যার একটু আশ্চর্য হয়ে বললেন, তাই বলে খবর নিবে না! তারপর কোমল ¯^‡i দু’য়েক দিনের ভেতর দিয়ে দেবার জন্য বলেন। কনক শীলার পক্ষে সাফাই করে বলে, দু'য়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দিবে স্যার। আমরা তাহলে যাই স্যার। ওকে আবার এসো বলে স্যার তাদের বিদায় জানান।

কনক ও শীলা একই ডিপার্টমেন্টে মাস্টার্স করছে। অর্নাসও করেছে এক সাথে একই বিষয়ে। অনার্সের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এরা খুবই ভাল বন্ধু। দুজনের আন্ডারস্ট্যান্ডিংও চমৎকার। বন্ধু-বান্ধবরা এদের সম্পর্ক নিয়ে শীলার আড়ালে কনককে আর কনকের আড়ালে শীলাকে ক্ষ্যাপায়। এদের আচরণে ভাল ভাবেই বুঝা যায় যে একে অন্যকে পচন্দ করে। কিন্তু দুজনই এমন চাপা ¯^fv‡ei যে কেউই এই ভাল লাগা প্রকাশ করতে চায় না। বন্ধুরা ব্যাপারটা অনেক দিন থেকেই দেখছে। তাই সবাই মিলে ঠিক করে, কিছু একটা করা দরকার। আর তাই সিদ্ধান্ত হয় সামনের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে এই একবিংশ শতাব্দির ‘বুক ফাঁটে তো মুখ ফুঁটে না’ জুটির জন্য কিছু একটা করা হবে।

এক বিকেলে লতা আর নাসিম কনকের বাসায় যায়। তারা কনককে জানায় যে, আগামীকাল ভালবাসা দিবস উপলক্ষে সবাই এক হয়ে একটা রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেবে। সে যেন সকাল দশটার মধ্যে সেখানে পৌঁছে যায়। আর শর্ত হচ্ছে সাথে মোবাইল নেয়া যাবে না। শর্ত শোনে কনক কারণ জানতে চাইলে লতা বলে, আমরা চাই একটা দিন অন্ততঃ এই চৌকিদার বিহীন কাটুক আমাদের। অর্থাৎ কিপ সাইলেন্ট আর কি!
ওদিকে শীতল আর আফসার যায় শীলার বাসায়। তারাও শীলাকে একই কথা বলে চলে আসে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে দশটা বাজার আগে নাসিম চলে যায় কনকের বাসায় আর লতা যায় শীলার বাসায়। নাসিম পৌঁছে দেখে কনক মোটামুটি রেডি হয়ে আছে। সে কনককে বলে, দোস্ত ঘটনা তো ঘটে গেছে। যাইহুক, তুই যেহেতু শীলাকে কিছু বলিস নি তাই আর কিছু বলতেও যাস না। কারণ আজ নাকি শীলা তার প্রেমিকের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিবে। শোন, তুই একদম ¯^vfvweK থাকবি। কোন ইমোশনাল কাজ-কারবার করতে যাবি না। কনক অবাক হয়ে বলে, তুই কি বলছিস! নাসিম বলে, আমি যা বলছি তা তুই একটু পরেই দেখতে পাবি। নিজেকে শক্ত রাখিস। আবার কনক বলে, আরে ধূর! আমি আবার ইমোশনাল হতে যাবো কেন? কিন্তু শীলা হঠাৎ... মানে কার সাথে... কনক বিড় বিড় করে। তখন নাসিম বলে, তুমি শালা চুপ করে থাকবা আর সে তোমার অপেক্ষায় বুড়ি হইবো; এইটাই চাইছিলা না? যাই হোক সবাই হয়তো পৌঁছে গেছে। তুইও সেখানে যা, আর শোন, যেহেতু ফুলগুলো কিনেছিস সাথে করে নিয়ে যা। আমি একটু পরে আসছি বলে নাসিম চলে যায়। এদিকে কনক যেন কিছুই বুঝতে পারে না। তবুও ঘোরলাগা মানুষের মত ফুলগুলো নিয়ে বের হয়।
ঠিক একই কাণ্ড ঘটে শীলার সাথেও।

রেস্টুরেন্টে কনক পৌঁছার সাথে সাথেই শীলাও চলে আসে। দুজন এসেই শুকনো হাসি হেসে ভালবাসা দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। দুজনের হাতেই ফুল। কিন্তু কেউ কাউকে দেয় না। শীলা ভাবে কনক ফুলের তোড়া নিশ্চয় তার প্রেমিকার জন্য এনেছে। তাই তাকে দেয় নি। অসুবিধা কি সেও শক্ত মেয়ে। এই ফুলগুলো দিয়েই কনকের প্রেমিকাকে শুভেচ্ছা জানাবে। যতই কষ্ঠ হউক কনককে বুঝতে দিবে না। অপর দিকে কনক ভাবে, দেখ অবস্থা, কি সুন্দর করে সেজে এসেছে! হাতে আবার ফুলও! ভাল। আমিও শক্ত ছেলে ফুল নিয়ে এসেছি তো কি হয়েছে? এই ফুল দিয়ে তোর প্রেমিককে শুভেচ্ছা জানাবো। ভেবেছিস আমি ভেঙ্গে যাব, না ? এসময় দুজনের চোখাচোখি হলে আবারো শুকনো হাসি বিনিময় করে দুজন চুপচাপ বসে কোল্ডড্রিংসের অর্ডার দেয়।
ড্রিংস খেতে খেতে ভার্সিটিতে অতিবাহিত বিগত দিনের স্মৃতি মনে পড়ে দুজনেরই। একবার কনক কি কারণে যেন ক্যাম্পাসে আসছিলনা। মোবাইলও বন্ধ। শীলা তখন অনেক কষ্ঠে ঠিকানা জোগার করে কনকের বাসায় হাজির। সেই সময়ই কনক গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছে। এসে দেখে তার মার পাশে বসে আছে শীলা। কনক অপ্রস্তুত হয়ে মাকে বলে, তোমাদের পরিচয় হয়েছে মা। মা মিটিমিটি হেসে বলেন, হ্যাঁ, ভাল করেই হয়েছে। এখনও শীলার কথা মাঝে মধ্যেই তিনি কনকে জিজ্ঞেস করেন আর বলেন, মেয়েটাকে তো আর নিয়ে এলি না। কনক ভেবেছিল বিয়ে করে নিয়ে যাবে, মা ও খুশিই হবেন। কিন্তু এখন! কোল্ডড্রিংস খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে একে অপরকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে আর দাঁত কটমট করছে। আবার চোখাচোখি হলেই মুখ রক্ষার হাসি দিচ্ছে। শীলার মনে পড়ে, একদিন সে লাইব্রেরী ওয়ার্ক করছিল। তাই মোবাইলও বন্ধ। কিন্তু কি একটা খবর দেয়ার জন্য শীলাকে খুঁজছে কনক। ইউনিভার্সিটির সব জায়গায় খুঁজে অবশেষে লাইব্রেরীতে এসে পেল। সামনে এমন ভাবে বসল যেন শীলা এখানে এসে মস্তবড় অপরাধ করেছে। রাগে কনকের সে কি অবস্থা! তার চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। বারবার জিজ্ঞেস করার পরও তাকে খুঁজার কারণ বলছিল না। পরে যখন অনেক অনুরোধ করার পর বলল তা শোনে মুখ বন্ধ করে শীলা হো হো করে হেসে উঠে।

শীলা কনকের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এই গাধাটা আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারলো! তার চোখ টলমল করে উঠে। তাই সে বুঝতে পারে, এখানে বেশীক্ষণ থাকা ঠিক হবে না। সে হয়তো নিজেকে সামলাতে পারবে না। তার চেয়ে কনককে নতুন জীবনের শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে যাওয়াই ভাল। ওদিকে কনক ভাবে কাউকে যদি তার ভাল লেগে থাকে তবে সে হচ্ছে শীলা। আর এই শীলাকে অন্যের সাথে দেখে কখনোই সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না। তাই যা হবার হউক শীলাকে যে ভালবাসতো একথা বলে চলে যাবে। এমন সময় শীলা উঠে দাঁড়ায়, কনকও উঠে দাঁড়ায়। শীলা কনকের দিকে চেয়ে বলে, তোকে আমি কিছু বলতে চাই। কনক থামিয়ে বলে, তুই কিছু বলার আগে আমার কথা শোন। টলটল চোখে বলতে থাকে, এই জীবনে আমি এক জনের সাথেই মিশেছি, খুব আপন বলে জেনেছি। তাই ঠিক করেছি যা আছে কপালে হবে, তাকে আমি আমার ভাল লাগার কথা বলেই ফেলবো। হয়তো দেরী হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও । এতদিন না বলে যে ঠকা ঠকেছি আজ না বললে আর কখনোই নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। একথা বলে ফুলের তোড়াটা হাতে নিয়ে শীলার ফুলসহ দুহাত চেপে ধরে মাথা নিচু করে আবারো বলতে থাকে, শীলা তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোকেই ভালবাসতাম, ভালবাসি, ভালবাসবো। তারপর জলমগ্ন চোখ তুলে শীলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, তোর মনের মানুষকে এই ফুলগুলো দিয়ে শুভেচ্ছা দিস। তখন অবাক হয়ে শীলা কনকের হাতে ঝাঁকি দিয়ে বলে, এসব তুই কি বলছিস? আমার মনের মানে? আমার মনের মানুষ তো তুই? তুই এসব কি বলছিস পাগলের মত?

এরকম একটা আবেগময় মুহূর্তে হাততালি দিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে তাদের বন্ধুরা। নাসিম চেচিয়ে বলে, সব কিছুর মানে আমাদের কাছ থেকে শোনো। তারপর বসতে বসতে আফসার জানায়, সবই ছিল আমাদের প্ল্যান! শীতল কনককে উদ্দেশ্য করে বলে, খুব তো আমাকে টিউব বলতি, আমার নাকি ভোল্টেজের ঘাটতি তাই দেরীতে জ্বলি। তোর তো পুরা ভোল্টেজ ছিল। তাহলে এত দেরী হল কেন জ্বলতে? শীতলের কথা শোনে সবাই হেসে উঠে। মাসুদ বলে, আর এই প্ল্যানটা না করলে তোমরা কোন দিনও প্রকাশ করতে না। আফসার তার সাথে যোগ করে, যে চাপা ¯^fv‡ei দুজন! কনক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে- তোরা না! কনকের একেবারে ঘনিষ্ট হয়ে চোখ মুছে হাসি হাসি মুখে শীলা বলে, থ্যাংকস, থ্যাংকস ফর অল। বন্ধুরা কনক ও শীলার উদ্দেশ্যে উচ্চ স্বরে বলে, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে।

প্রিয়বই (উপন্যাস): ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ _মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়



‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’ বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে প্রবেশ করেছিলেন সাহিত্য জগতে। আর সেই মানিকের হাতেই রচিত হল কালজয়ী উপন্যাস; ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’!
মূলত: ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ এই দুটি উপন্যাসই তাকে কিংবদন্তীর লেখকে পরিণত করেছে।
১৯০৮ সালের ১৯শে মে জন্মগ্রহণকারী মানিক ১৯৩৫ এ লেখালেখিতে প্রবেশ করেন। সেই বছরই আশ্চর্যজনক ভাবে মৃগী রোগ আক্রান্ত হন; যা ছিল মৃত্যু পর্যন্ত। ‘৩৫ এ শুরু করে ‘৩৬ এ লিখে ফেলেন ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র মতো উপন্যাস। যদিও মাণিকবাবুর চেয়েছিলেন এর দ্বিতীয় খণ্ড লিখবেন কিন্তু তা আর হয়নি ১৯৫১ এর ৩-রা ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত!

একজন মাণিককে গভীর ভাবে পাওয়া যায় তার নিজ্ সৃষ্ঠ কর্মে।
বাংলা সাহিত্যের উল্লেখ্যযোগ্য সংযোজন এই ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসটি।

আমি এই উপন্যাস এর গল্প কিংবা চরিত্র বিশ্লেষণে যাবো না। শুধু বলব, ফ্রয়েডের ‘লিভিডো’ আর সমাজতণ্ত্রের মন্ত্রে দ্বীক্ষিত মাণিকবাবুকে সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘শশী’। সদ্য ডাক্তারী পাশ করে গ্রামে আসে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভিন্নতর সংস্কৃতি কিংবা সহজ ভাষায় উন্নত জীবনের সন্ধ্যানে বেড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সে আর প্রথাগত জীবনের বাহিরে যেতে পারে না।গ্রামীণ জীবণের প্রতিবেশ, পরিবেশের বৈচিত্র্যতা আর বাস্তবতার ডালপালা এমন ভাবে তাকে আকড়ে ধরে; যা ছিড়ে বের হওয়া শশীবাবুদের সামর্থের বাহিরে।
আমার কাছে সবচেয়ে অবাক লেগেছে যে, কোথাও মাণিকবাবু ‘শশী’কে জোড় করে আটকান নি।আর এখানেই একজন লেখকের স্বার্থকতার পরিচয় পাওয়া যায়। মাণিকবাবুর স্বার্থকতা তথা ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র প্রকৃত স্বার্থকতাই মিশে গেছে জীবনঘনিষ্ট মানুষগুলোর চরিত্রের পুংখানুপুংখ আখ্যান রচণায়।মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনবোধ, সমাজ চেতনা ও বিজ্ঞান মনস্কতার এক পরিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে এই উপন্যাসটি।

আমার পছন্দের উপন্যাসের ব্যাক্তিগত তালিকাটি শুরু হয় ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ দিয়ে।

নৃবিজ্ঞানে ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজের অবদান



নৃবিজ্ঞানে ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজের অবদান





ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ
১৯২৬-২০০৬



সূচীপত্র ঃ

বিষয় পৃষ্ঠা

ভূমিকা ---------------------------------------------------------------------- ১
জন্ম ও শিক্ষা জীবন ----------------------------------------------------------- ১
প্রতীকবাদ ------------------------------------------------------------------- ১
সংস্কৃতির ব্যাখ্যা -------------------------------------------------------------- ২
এথনোগ্রাফি ------------------------------------------------------------------ ৩
তাত্তি¡ক কাঠামো --------------------------------------------------------------- ৩
গিয়ার্টজের গ্রন্থসমূহ ----------------------------------------------------------- ৪
উপসংহার -------------------------------------------------------------------- ৫
সহায়ক গ্রন্থ ------------------------------------------------------------------ ৬

ভূমিকা

সমসাময়িক নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ নৃবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুনভাবে তত্ত¡ দাঁড় করান। তিনি ছিলেন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ও ম্যক্স ওয়েবার কর্তৃক অনেক বেশী প্রভাবিত। কার্ল মার্কস সমাজকে বস্তুগত অবস্থা দ্বারা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন। অপরদিকে ম্যক্স ওয়েবার সমাজকে গবধহরহম এর মাধ্যমে বুঝার চেষ্ঠা করেন। ম্যক্স ওয়েবার এর এই ধারা থেকেই পরবর্তীতে ঐধৎসড়হরংঃরপ ধারা বিকাশ লাভ করে। গবধহরহম কিভাবে তৈরী হয়, বিকাশ লাভ করে, পরিবর্তীত হয় এই সব বিষয়ই মূলত এ ধারায় অধিক গুরুত্ব পায়। এই ধারারই একজন গুরুত্বপূর্ণ তাত্তি¡ক হলেন ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ। তিনি দুটি বিশেষ সমাজের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার তত্ত¡ দাঁড় করান। নৃবিজ্ঞানের লক্ষ্য, নৃবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য ও দ্বায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সংস্কৃতি সম্পর্কে নানা প্রশ্ন, তর্ক ইত্যাদি উপস্থাপন করেন এবং একটি সংস্কৃতির মাধ্যমে অন্য একটা সংস্কৃতিকে ব্যাখ্যা করা যায় কিনা সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি মৌলিক প্রশ্নটি তুলেছেন নৃবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা, ও বাস্তবাতার বিষয়টি নিয়ে। সমাজ-সংস্কৃতি ব্যাখ্যায় নৃবিজ্ঞানের অবস্থান, কৌশল ও পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত, নৃবিজ্ঞানীর ভূমিকা কেমন হবে, ঊঃযহড়মৎধঢ়যু কিভাবে লিখতে হবে প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে এবং মরক্কোর সমাজে গবেষণার মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন তার “ঞযব ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ড়ভ ঈঁষঃঁৎব”(১৯৭৩) গ্রন্থে।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

নৃবিজ্ঞানী ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ ১৯২৬ সালের ২৩ আগস্ট আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৩-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে) তিনি ইউ.এস. নেভিতে কাজ করেন। তারপর ১৯৫০ সালে অহঃরড়পয ঈড়ষষবমব থেকে তিনি দর্শন শাস্ত্রে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ১৯৫৬ সালে গিয়ার্টজ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক নৃবিজ্ঞানে তাঁর পি.এইচ.ডি সম্পন্ন করেন সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে। ১৯৬০-১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করেন। তারপর ১৯৭০- ২০০০ সাল পর্যন্ত গিয়ার্টজ ওহংঃরঃঁঃব ভড়ৎ অফাধহপবফ ঝঃঁফু এর অধ্যাপক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। প্রায় পনেরোটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন যার মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ প্রথমে ঐরষফৎবফ এববৎঃু নামে একজন নৃবিজ্ঞানীকে বিয়ে করেন কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায় এবং কধৎবহ ইষঁ নামে আরেক মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন। কধৎবহ ইষঁ ও একজন নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। ২০০৬ সালের ৩০ শে অক্টোবর হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপাচারের সময় ক্লিাফোর্ড গিয়ার্টজ মৃত্যু বরণ করেন।
(সূত্রঃ- যঃঃঢ়://িি.িরধং.বফঁ/হবংিৎড়ড়স/ধহহড়ঁহপবসবহঃং/ারব/িমববৎঃু-১৯২৬-২০০৬যঃসষ)


প্রতীকবাদ

অনেক নৃবিজ্ঞানী সংস্কৃতিকে একটা প্রতীকী ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেন। যাদের মধ্যে সমসাময়িক কালের ডেভিড স্লাইডার, ভিক্টর টার্নার, মেরি ডগলাস প্রমূখ অন্যতম। এখানে অর্থের উপর বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। সংস্কৃতির ব্যাখ্যা দেয়ার আগে তিনি ১৯৬০ এর দশকের পূর্বের সংজ্ঞা গুলোর সমালোচনা করেন এবং বলেন ঐসব সংজ্ঞা গুলো প্রকৃত পক্ষে অর্থহীন যা স্থির এবং অপরিবর্তনীয় এবং এগুলো কোন একটা সংস্কৃতির বাস্ত-বতাকে তুলে আনতে পারেনা। কেননা সেই সব সংজ্ঞা গুলো ছিল একপেশে যে গুলোতে ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ছিল না। তাছাড়া এক ধরনের ওহঃবষষবপঃঁধষ যবমবসড়হু তৈরী করে রাখে, যেখানে চিন্তার কোন সুযোগ থাকে না। প্রতীকবাদ এ প্রথাবাদী ধারণা থেকে বিপরীত অর্থ অন্বেষণে প্রতীকীবাদীরা স্থানিক ও লোকজ বিশ্লেষণকে ‘সংস্কৃতি’ বির্নিমাণে ব্যবহার করেন।

গিয়ার্টজ বলেছেন, গবেষণাধীন সমাজের দৃষ্টিতে বা তাদের মতো করেই তাদের সংস্কৃতিকে অনুধাবন করতে হবে। নতুবা ব্যাখ্যামূলক নৃবিজ্ঞান এর চারিত্রহানী ঘটবে। প্রতীক সম্পর্কে গিয়ার্টজ বলেছেন, “ঝুসনড়ষং, সড়ফবষ, ঢ়যুংরপধষ, ঢ়ংুপযড়ষড়মরপধষ ধহফ ংড়পরধষ বাবহঃং ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ বহধনষরহম ধ ংড়পরবঃু’ং সবসনবৎ ঃড় ঁহফবৎংঃধহফ ৎবধষরঃু ধহফ ফবধষ রিঃয রঃ.” (সূত্রঃ নৃবিজ্ঞান প্যারাডাইম রূপান্তরের ধারা, পৃঃ- ১৪৪)

সংস্কৃতির ব্যাখ্যা

সংস্কৃতিকে একটা প্রতীকী ব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলে ও নৃবিজ্ঞানীরা বর্তমানে গবধহরহম অনুসন্ধানের গুরুত্বারোপ করেন। ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ, ম্যাক্স ওয়েবারের সাথে একমত হয়ে বলেন, ঈঁষঃঁৎব হচ্ছে ওহঃবৎঢ়ৎধঃরাব তাই এটা কোন খধি খুঁজে না। ঈঁষঃঁৎব হবে রহ ংবধৎপয ড়ভ সবধহরহম আর তাই এটা হবে অপঃড়ৎ এবং চঁনষরপ ড়ৎরবহঃবফ . চৎরাধঃব কোন কিছুই ঈঁষঃঁৎব হবে না। আগে যারা ঈঁষঃঁৎব কে সংজ্ঞায়িত করেন তারা মানুষের বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কীত করে সংজ্ঞায়িত করেন যেটি ছিল চৎরাধঃব. তিনি বলেন, ঈঁষঃঁৎব পধহ নব ঃযৎড়ঁময রফবধঃরড়হধষ হড়ঃ রফবড়ষড়মরপধষ, ঃযরং রং ঁহঢ়যুংরপধষ নঁঃ রঃং হড়ঃ যরফফবহ. ঞযরং পধহ নব রফবহঃরঃরপধষ রহ ংুসনড়ষং’ ধহফ ঢ়ঁনষরপ. ঈঁষঃঁৎব ংঁনলবপঃরাব ও হতে পারে আবার ঙনলবপঃরাব হতে পারে।

কৎড়বনবৎ বলেন, “ঈঁষঃঁৎব রং ংড়সবঃযরহম ংঁঢ়বৎ ড়ৎমধহরপ”- কিন্তু এববৎঃু বলেন যদি ঝঁঢ়বৎ ড়ৎমধহরপ হয় তাহলে ঈঁষঃঁৎব এর সৃষ্টি কোথায়? আর তাই এই সংজ্ঞাটি সঠিক নয়।

এড়ড়ফবহড়ঁময বলেন, “ঈঁষঃঁৎব রং ষড়পধঃবফ রহ সরহফ ধহফ যবধৎঃ”- এববৎঃু বলেন, এই সংজ্ঞাটি আরো বেশী সমস্যা তৈরী করে। যদি কারো মনের কথা শোনা হয় তাহলে সেটা হবে ঝুঃষব ড়ভ নবযধারড়ঁৎ এর ব্যাখ্যা।

জ.এ. জধংরহম- “ঈঁষঃঁৎব রং পড়হংরংঃ ড়ভ ড়ৎমধহরুবফ শহড়ষিবফমব” আর এক্ষেত্রে ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, ঈঁষঃঁৎব যদি ঙৎমধহরুবফ শহড়ষিবফমব হয় তাহলে সেটা হবে ঊীঃৎবসব ভড়ৎসধষরংঃ.

ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, এসব সংজ্ঞা গুলো ছিল অনেকটা ড়নংপঁৎব. এগুলো বাস্তব ভিত্তিক না কেননা এগুলো ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরাব না। তাঁর মতে, সংস্কৃতি হচ্ছে একই সাথে ঝুসনড়ষরপ ও ওহঃবৎঢ়ৎবঃরাব. আর তাই একই সাথে ঝঁনলবপঃরাব ধহফ ঙনলবপঃরাব আর তাই এটা হচ্ছে একটা অর্থবহ পন্থা। এভাবে তিনি পূর্বের সংজ্ঞা গুলোর বিনির্মান করে বলেন, “ঈঁষঃঁৎব রং ধ ংুংঃবস ড়ভ সবধহরহম ধহফ ৎবষধঃরড়হং ধৎব ঃৎধভভরপশরহম রহ ংুসনড়ষং.” (সূত্রঃ নৃবৈজ্ঞানীক প্যারাডাইম রূপান্তরের ধারা, পৃঃ ১৩৭) এভাবে তিনি গবধহরহম কে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বারোপ করেন এবং গভীর ভঅবনার উপলব্ধি অন্বেষণের মাধ্যমে সমাজের চলমান বাস্তবতাকে বুঝার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

্িক্লফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, গবধহরহম কে ব্যক্তির মনোজগতের মধ্যে উপলব্ধির কোন কারণ নেই। সমষ্টিক এবং ব্যষ্টিক পরিসরে পরিস্ফুটন ঘটনার মধ্যে যেমন আচার অনুষ্ঠান ও জাদুবিদ্যা প্রয়োগ ইত্যাদিতে গবধহরহম লুকায়িত থাকে। উদাহরন স্বরূপ- বালিনীজ সমাজে ঈড়ড়শভরমযঃ এর সাথে সম্পৃক্ত, বাজী ধরা ঘটনার মধ্য দিয়ে দলীয় মনোভাব প্রকাশ পায়। একটা দলের জয় পরাজয় ঝুসনড়ষ হিসেবে কাজ করে, যা একটা দলের উচ্চ মর্যাদা আর অন্য দলের খন্ডিত মর্যাদার লক্ষণ হিসাবেই বিবেচিত হয়। এখানে ব্যক্তি বিশেষের কৃতিত্ব গৌণ।

্িক্লফোর্ড গিয়ার্টজ, স্লাইডার প্রমূখরা একটা সমাজের প্রতীক সমূহের অন্বেষণের ক্ষেত্রে ঝযধৎবফ ঝুসনড়ষং এগুলোকে বেছে নিয়েছেন। জীবনকে পরিচালিত করতে গিয়ে সমাজের মানুষেরা যে অর্থবহ কর্ম দিয়ে সমষ্টিগতভাবে সমস্যা সমাধান করে তারই মধ্যে আছে গবধহরহম । সমাজের প্রতীকগুলো সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্থ। প্রত্যেক প্রতীক একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে নির্দেশ করে, যাদের সমস্টিক অবস্থানই হলো সংস্কৃতি। যেকোন প্রতীক ব্যবস্থার অধ্যয়নে সর্বনিম্ন স্তরে থাকে খবাবষ ড়ভ অপঃড়ৎ, মধ্যে থাকে ঈঁষঃঁৎধষ ঝুংঃবস ও সর্ব উপরে থাকে ঝুসনড়ষরপ ঝুংঃবস.

ঊঃযহড়মৎধঢ়যু (এথনোগ্রাফি)

গিয়ার্টজ নৃবিজ্ঞানের জিজ্ঞাসা সম্পর্কে যা বলেন তা মোটামোটি নিম্নরূপ:

ক) সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করা
খ) নৈতিকতার প্রসঙ্গ
গ) কোন সমাজ ও সংস্কৃতিকে বুঝার ক্ষেত্রে কি ধরনের বৈশিষ্ঠসমূহ বিরাজমান
ঘ) সমাজ ও সংস্কৃতিকে কতটুকু বোঝা সম্ভব অর্থাৎ মাত্রাটা কি?

তিনি বলেন আসলে ঙঃযবৎহবংং একটা থেকেই যায়, এক্ষেত্রে জরুরী বিষয় হল কোন সমাজের সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে চিত্রায়িত করা। নৃবিজ্ঞানী কোন কিছুর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দিতে পারে না। কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করতে পারে। গিয়ার্টজ এর ভাষায় বর্ণনা যেহেতু সম্ভব, তার চেষ্টাই বারংবার হওয়া উচিত। এবং বারংবার ভিন্নতা সৃষ্টি হলেও সেই চেষ্টা করা উচিত। তার মতে এথনোগ্রাফি হলো নিবিড় বর্ণনা বা বিশদ বর্ননা। বিশদ বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন হয় বিশেষ কোন সমাজের ঘটনাকে ও সেই সাথে মূলত: সংস্কৃতিতে একেবারে তুলে ধরার জন্যে। এ কাজটি করতে হবে ঘধঃরাব ঢ়ড়রহঃ ড়ভ ারবি থেকে। গিয়ার্টজ এ প্রসঙ্গে প্রধানত ম্যালিনোস্কির “ঞযব অৎমড়হধঁঃং ড়ভ ঃযব ডবংঃবৎহ চধপরভরপ” গ্রন্থের উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত ম্যালিনোস্কি নৃতাত্তি¡ক কর্মে ট্রব্রিয়ান্ডবাসীদের জীবনচরিত ব্যাখ্যায় ক্ষেত্র বিশেষে মূল্যবোধ আরোপ করেছেন। সমাজকে বস্তুনিরপেক্ষভাবে বিচার করার ক্ষেত্রে বোয়াস বস্তুনিরপেক্ষভাবে কোন সমাজকে উচুঁ বা নিচু মানদন্ডে শ্রেণীকরণের বিরোধী ছিলেন। নৃবিজ্ঞানে এ দুটি দৃষ্টিকোণকে এটিক এবং এমিক বলে অভিহিত করা হয়। এক্ষেত্রে গিয়ার্টজ এমিক দৃষ্টিকোণের অধিকারী ছিলেন। ম্যালিনোস্কি তার ডায়েরীতে ইউরোপীয়দের সাপেক্ষে ঐ সমাজকে আদিম, বর্বর, ও অসভ্য পর্যন্ত বলেছেন। গিয়ার্টজ মনে করেন কোন সমাজে গিয়ে নৃবিজ্ঞানী সব বুঝে ফেলবেন এমন চিন্তা না করে বরং সেই সমাজের সংস্কৃতিকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা উচিত। নৃবিজ্ঞান হবে ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরাব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মু’ অর্থাৎ ব্যাখ্যামূলক নৃবিজ্ঞান। আর সব ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর ইধংব হবে ঝুসনড়ষ। গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা খধি খুঁজবো না খুঁজবো গবধহরহম. আর তাই এক্ষেত্রে ঊঃযহড়মৎধঢ়যু হবে ভষড়ি ড়ভ ঝড়পরধষ ফরংপড়ঁৎংব, রঃ’ং ফবঢ়বহফ ড়হ:

১) ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ
২) ঝড়পরধষ উরংপড়ঁৎংব
৩) ঝঢ়বধশরহম ড়ভ বাবহঃ
৪) গরপৎড়ংপড়ঢ়রপ ধহধষুংরং.

ঞযবড়ৎবঃরপধষ ঋড়ৎসঁষধঃরড়হ (তাত্তি¡ক কাঠামো)

ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, আগেরকার তাত্তি¡ক কাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল, যেগুলো ছিল কাঠামোবদ্ধ আর তাই যেখানে সবধরনের ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ছিল না। আর এ কারণে গিয়ার্টজ তাত্তি¡ক কাঠামোর পক্ষপাতি নন। তাঁর মতে, তত্তে¡র কাজ হলো কোন বিষয়কে আকৃতি দেয়া এবং তথ্যের বৈধতা দান করা কিন্তু এর বৈধতার কোন দরকার নেই, কেননা আমরা সংস্কৃতিকে ব্যাখ্যা করবো ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর মাধ্যমে। এর এ ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ টা আসবে অপঃড়ৎ দিক থেকে যেটা ধীরে ধীরে ঞযরপশ থেকে ঞযরহ এ রূপান্তরিত হবে। এখানে তত্তে¡র কোন দরকার নেই। কারণ ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ নিজেই ঠধষরফধঃবফ । গবেষণা হচ্ছে কোন কিছুর অর্থ খুঁজে বের করা আর অর্থটা আমরা পাই ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ থেকে ।

গিয়ার্টজ মনে করেন, ঈড়হপবঢ়ঃ দরকার হয় বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যেখানে ঈষড়ংবফ মৎড়ঁহফ ব্যবহার করা হয় না কিন্তু ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর ক্ষেত্রে ঈড়হপবঢ়ঃ ব্যবহার করলে ঈষড়ংবৎ মৎড়ঁহফ থেকে দূরে সরে যাবে। এখানে ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ যত বেশী হবে সংস্কৃতি তত স্পষ্ট হবে। আর এখানে কঠিন কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় না। তিনি বলেন-

ক্স তত্ত¡ হচ্ছে চিরন্তন ও সত্য। কিন্তু সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। তাই এক্ষেত্রে তত্ত¡ দেয়া সম্ভব নয়। গিয়ার্জের মতে, গবেষণা এর ক্ষেত্রে থাকবে শুধু খড়মরপধষ ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ.
ক্স ঞযবড়ৎু ঝঁনলবপঃরাব হবে না। আর কোন গবেষণা পুরোপুরি ঙনলবপঃরাব হবে না। কারণ আমরা এখানে গবধহরহম খুঁজি, সংস্কৃতি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে।
ক্স আমাদের সংস্কৃতির ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ টা হচ্ছে গল্প বলার মতো আর এটাকে ওহঃবষবপঃঁধষ ধৎঃ এর মতো ব্যাখ্যা করা হয়, তাই এখানে তত্ত¡ যোগ করলে সমস্যা আরো বেড়ে যায়।
ক্স এছাড়া তত্ত¡ সবসময় আমাদের চৎবফরপঃরড়হ দেয় আর চৎবফরপঃরড়হ হয়ে থাকে ঝুসঢ়ঃড়স থেকে কিন্তু সংস্কৃতিতে থাকে প্রতীক তাই এখানে তত্ত¡ দেয়া যাবে না।
ক্স সংস্কৃতি ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ কখনোই সিদ্ধান্ত দেয় না বরং একটা প্রশ্ন তৈরী করে। আর তাই সংস্কৃতি তত্ত¡ বড়জোর প্রশ্ন তৈরী করতে পেরেছে কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। কারণ সংস্কৃতি সবসময় পরিবর্তনশীল।
ক্স তত্ত¡ আমাদেরকে শিক্ষা দেয় কিন্তু সংস্কৃতি ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর শিক্ষক হচ্ছে ওহভড়ৎসবৎ তাই এখানে তত্তে¡র কোন দরকার নেই। এখানে ঘধঃরাব ঢ়ড়রহঃ ড়ভ ারব,ি ঊসরপ ারবি হচ্ছে শিক্ষক।
ক্স তত্ত¡ মূলত আগের গুলো অস্বীকার করে নতুন তথ্য উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোন কিছু অস্বীকার না করে নতুন কিছু যোগ করে থাকে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অংশের ব্যাখ্যা থাকে না, ফলে আগের গুলোর সাথে নতুন গুলো যোগ হয়ে আরো শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়।

আর তাই ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, ঞযবড়ৎবঃরপধষ ভড়ৎসঁষধঃরড়হ হলে এটা বর্তমান সমস্যাকে আরো বড়াবে। আর যে কারণে তিনি ডবনধৎরধহ ঃৎবহফ অনুসরন করে বলেন সংস্কৃতি হবে সবসময় ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরাব ঞযরপশ থেকে ঞযরহ এ পরিণত হবে।

ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজের অন্যতম গ্রন্থসমূহ হচ্ছে-
ক্স ঞযব জবষরমরড়হ ড়ভ ঔধাধ (১৯৬০), টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৭৬ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১০-৩
ক্স চবফফষবৎং ধহফ চৎরহপবং: ঝড়পরধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ধহফ ঊপড়হড়সরপ ঈযধহমব রহ ঞড়ি ওহফড়হবংরধহ ঞড়হিং (১৯৬৩), টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৬৮ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১৪-৬
ক্স অমৎরপঁষঃঁৎধষ ওহাড়ষঁঃরড়হ: ঃযব ঢ়ৎড়পবংং ড়ভ বপড়ষড়মরপধষ পযধহমব রহ ওহফড়হবংরধ (১৯৬৪)
ক্স ওংষধস ঙনংবৎাবফ, জবষরমরড়ঁং উবাবষড়ঢ়সবহঃ রহ গড়ৎড়পপড় ধহফ ওহফড়হবংরধ (১৯৬৮), টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৭১ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১১-১
ক্স ঞযব ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ড়ভ ঈঁষঃঁৎবং (১৯৭৩), ইধংরপ ইড়ড়শং ২০০০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৪৬৫-০৯৭১৯-৭
ক্স করহংযরঢ় রহ ইধষর (১৯৭৫) পড়ধঁঃযড়ৎ: ঐরষফৎবফ এববৎঃু, টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৭৮ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১৬-২
ক্স ঘবমধৎধ: ঞযব ঞযবধঃৎব ঝঃধঃব রহ ঘরহবঃববহঃয ঈবহঃঁৎু ইধষর (১৯৮০), চৎরহপবঃড়হ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ২০০১ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৬৯১-০০৭৭৮-০
ক্স খড়পধষ কহড়ষিবফমব: ঋঁৎঃযবৎ ঊংংধুং রহ ওহঃবৎঢ়ৎবঃরাব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মু (১৯৮৩), ইধংরপ ইড়ড়শং ২০০০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৪৬৫-০৪১৬২-০
ক্স "অহঃর-অহঃর-জবষধঃরারংস" (১৯৮৪), অসবৎরপধহ অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ, াড়ষ. ৮৬, হড়. ২, ঢ়ঢ়. ২৬৩-২৭৮.
ক্স ডড়ৎশং ধহফ খরাবং: ঞযব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ অং অঁঃযড়ৎ (১৯৮৮), ঝঃধহভড়ৎফ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ১৯৯০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৮০৪৭-১৭৪৭-৮
ক্স অভঃবৎ ঃযব ঋধপঃ: ঞড়ি ঈড়ঁহঃৎরবং, ঋড়ঁৎ উবপধফবং, ঙহব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ, ঐধৎাধৎফ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ১৯৯৫ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৬৭৪-০০৮৭২-৩
ক্স আধরষধনষব খরমযঃ: অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরপধষ জবভষবপঃরড়হং ড়হ চযরষড়ংড়ঢ়যরপধষ ঞড়ঢ়রপং, চৎরহপবঃড়হ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ২০০০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৬৯১-০৮৯৫৬-৬
ক্স "অহ রহপড়হংঃধহঃ ঢ়ৎড়ভবংংরড়হ: ঞযব ধহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরপধষ ষরভব রহ রহঃবৎবংঃরহম ঃরসবং" (২০০২), অহহঁধষ জবারবি ড়ভ অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মু, াড়ষ. ৩১, ঢ়ঢ়. ১-১৯
[সূত্রঃ- যঃঃঢ়://বহ.রিশরঢ়বফরধ.ড়ৎম//িরহফবী.ঢ়যঢ়?ঃরঃষব=ঈষরভভড়ৎফথএববৎঃ্ধুপঃরড়হ=বফর্ংঃবপঃরড়হ=৪]

উপসংহার

নৃবিজ্ঞানের কাজ অধ্যয়নরত সমাজটিকে বুঝে ফেলা নয়, বরং সেই সমাজের পরিসরে গিয়ে নিজেকেই চেনা বা নিজের সমাজেরই ব্যাখ্যা করা: অনেকটা আত্মানুসন্ধানের মতোই। যদি স্থানীয় সংস্কৃতিকে বুঝতে হয়, তবে তা গবেষকের চোখ দিয়ে দেখলে চলবেনা। কারণ গবেষকের তৃতীয় নয়ন বলতে কিছু নেই। তাই তার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে স্থানীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই গবেষককে ঘটনা প্রবাহ থেকে এ সকল নিগূঢ় সত্য বিমূর্তায়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রতীকীবাদী নৃবিজ্ঞানী ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ। মূর্তমান বাস্তবতা থেকে ‘রূপক’ ও প্রতীক খুঁজে নিতে হবে। এথনোগ্রাফীক গবেষণায় গিয়ার্টজ নিবিড় ক্ষেত্র অনুসন্ধানের নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন যা প্রতীকী মডেলের তত্ত¡ীয় পাটাতন স্থাপনে একটি পদক্ষেপ। এই পদ্ধতির প্রায়োগিকতা নৃবিজ্ঞানের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে অন্য বিদ্যাজাগতিক পরিমন্ডলেও বহুলভাবে সমাদৃত।
























সহায়ক গ্রন্থ

চৌধুরী, আহমেদ ফজলে হাসান (২০০৩) “নৃবৈজ্ঞানিক প্যারাডাইম রূপান্তরের ধারা”
ইন্সটিটিউট অফ অ্যাপ্লাইড এ্যানথ্রোপলজী, ঢাকা।

Url address

www.britannica.com/eb/topic-227742/cliford-Geertz .
www.ias.edu/newsroom/announcements/view/geertz-1926-2006 html.
www..wikipedia.org/w/index.php?title=Clifford_Geertz&action.

কবিতা ও কবিতা-ভাবনার কাগজ_ বটতলা



কবিতা ও কবিতা-ভাবনার কাগজ_ বটতলা

কবিতা বিষয়ক একটা লিটলম্যাগ করেছিলাম এক সময়।
আপনাদের জন্য আপলোড করে লিংকটা দিলাম।
পড়ে দেখতে পারেন একটু ভিন্নধাচের কাগজটি।


ওই কাগজের সম্পাদকীয়টা এখানে তুলে দিচ্ছি__

পতিতকথাঃ

প্রস্তুতি পেরিয়ে এ সংখ্যা থেকেই যাত্রা শুরু করছে বটতলা। অগ্রজের মিশ্রকথা আর সমবয়েসিদের সুপ্ত ইচ্ছাকে ধারণ করে এই আয়োজন। কবিতা এবং কবিতাই বটতলার; শেকড়, ডালপালা, পাতা কিংবা শাখা। কবিতা সম্পর্কে পূর্বের উচ্চারণ অপরিবর্তিত থাকছে। অথাৎ বটতলা কবিতাকে অনেকটা গণিতের মত দেখে; যার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকবে রহস্য। বটতলা মনে করে না, কবিতা একবার পড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবার মত কোন জিনিস। কেননা কবিতা হচ্ছে বারবার পড়ার মত, বারবার অনুভূতিকে নাড়া দেবার মত যৌক্তিক উপাদান। কবিতা শুধু কথার আঁকি-বুঁকি না হয়ে অনুভূতি প্রকাশের সূক্ষ্ণ নিয়ামক হয়ে আমাদের কাছে-পাশে থাকবে।...

'কবিতার পাঠক কমে গেছে'
'কবিতা এখন শুধু কবিদের হয়ে গেছে'
‘কবিতা বুঝা যায় না'

এ রকম অনেক অভিযোগ শোনা যায়। প্রশড়ব হচ্ছে কবিতার পাঠক কখন বেশী ছিল? আর দুর্বোধ্যতার অভিযোগ তো থাকবেই। সমাজের সব মানুষ তো আর সূক্ষ্ণ অনুভূতি নিয়ে জন্মায় নি! তাই বটতলা বলতে চায়- ‘আমাদের’ কবিতা আম-জনতার জন্য নয়। কবিতা কখনো গিয়ে কাউকে বলে নি আমাকে পড়ো, আমাকে পড়ো।

আর বলবেও না।”

স্বতন্ত্রতার বয়ান; অপরাধী আতড়ব-প্রলাপঃ

আমরা অন্যধারার কবিতার কথা বলতে চাই। আমরা বলতে চাই কবিতার বিচারে অনুভূতি-ই হবে প্রধান নিয়ামক। নিউরণের প্রতিটি সেল কাজে লাগিয়ে কবি’র কবিতা আবিস্কার করতে হবে। যে কবিতায় আবিস্কার করার মত কিছু থাকবে না, সে ধরণের কবিতা-চর্চায় আমরা নেই।

ঢুলি, বাদক ও অন্যান্য সমাচারঃ

নিজের ঢুল... ব্যাপারটা এমনই দাঁড়ায়। তবু নিজস্ব পথ ও মতের ব্যাখ্যা সময় ঠিকই দাবী করে। আমরা বাদক হলেও সময়কে এড়িয়ে যেতে চাই না। তার হাতেই ছেড়ে দিতে চাই তার হিসেব-নিকেশ।

অথৈ জল, জলঢেউ ও তরী প্রসঙ্গঃ

এই বাজারে মধু বেঁচতে যাওয়ার চেয়ে বিষ বিক্রি উত্তম। আমরা কোন বিক্রেতা হব জানি না। তবে বড় বড় ঢেউ দেখলে তরীর কথা মনে পড়ে। আর মনে পড়ে অগ্রজ মাঝিদের কথা।

একই পথে; ভিন্ন পথিকঃ

আমরা কবিতার পথেই হাঁটছি।

তবে প্রত্যেকে কিন্তু ভিনড়ব পথিক। ‘পথ কে পাবে’ অথবা ‘কাকে পথ পাবে’- সেই ব্যাপারে আগ্রহী হলেও উদগ্রীব নই। ‘বটতলা’ আপাত দৃষ্ঠিতে গোষ্ঠিবাদী প্রয়াস হলেও সেই দায় ‘সূচনা সংখ্যা’ এই অজুহাতের উপর চাপিয়ে দিলাম। এই সংখ্যায় হবিগঞ্জের তরুণরা, মূলত মধ্যশূন্যদশক (’০৫) থেকে যারা সচেতন ভাবে লেখালেখির সাথে জড়িত তারাই তালিকাভুক্ত হলেন। আর তালিকাভুক্তির তালিকাটি বটতলা খোলা রাখল সবার জন্য।
এ সংখ্যায় আমরা পূর্বজ কবি ও কবিতায় জানতে চেষ্ঠা করেছি সত্তর দশকের হবিগঞ্জের কবি, পার্থ সারথি চৌধুরী সম্পর্কে। আরো আছেন এক অনালোচিত মরমী সাধক, বাউল ছেগেন শাহ। ইংরেজ কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান এর কবিতা অনূদিত হল মুলত তাঁর কবিতার বাঁক বদলে বিশেষ অবদানের কথা মনে রেখে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বটতলা’য় কবিতার পাণ্ডুলিপি অংশে রনি হাসান এর কবিতা মুদ্রিত হল।

আমরা কবিতার পথেই হাঁটতে চাই। তবে গতানুগতিক পথে হেঁটে গিয়ে চিহ্ন রাখার কোনো মানে নেই। আসুন, মেধা ও মনন মিলিয়ে নাড়া দিই কবিতার ভিন্ন দিগন্তে; সুপ্ত অনুভূতির রাজ্যে।

কবিতার ভুবনে স্বাগতম।

ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।