পৃষ্ঠাসমূহ

প্রিয়বই (উপন্যাস): ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ _মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়



‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’ বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে প্রবেশ করেছিলেন সাহিত্য জগতে। আর সেই মানিকের হাতেই রচিত হল কালজয়ী উপন্যাস; ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’!
মূলত: ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ এই দুটি উপন্যাসই তাকে কিংবদন্তীর লেখকে পরিণত করেছে।
১৯০৮ সালের ১৯শে মে জন্মগ্রহণকারী মানিক ১৯৩৫ এ লেখালেখিতে প্রবেশ করেন। সেই বছরই আশ্চর্যজনক ভাবে মৃগী রোগ আক্রান্ত হন; যা ছিল মৃত্যু পর্যন্ত। ‘৩৫ এ শুরু করে ‘৩৬ এ লিখে ফেলেন ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র মতো উপন্যাস। যদিও মাণিকবাবুর চেয়েছিলেন এর দ্বিতীয় খণ্ড লিখবেন কিন্তু তা আর হয়নি ১৯৫১ এর ৩-রা ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত!

একজন মাণিককে গভীর ভাবে পাওয়া যায় তার নিজ্ সৃষ্ঠ কর্মে।
বাংলা সাহিত্যের উল্লেখ্যযোগ্য সংযোজন এই ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসটি।

আমি এই উপন্যাস এর গল্প কিংবা চরিত্র বিশ্লেষণে যাবো না। শুধু বলব, ফ্রয়েডের ‘লিভিডো’ আর সমাজতণ্ত্রের মন্ত্রে দ্বীক্ষিত মাণিকবাবুকে সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘শশী’। সদ্য ডাক্তারী পাশ করে গ্রামে আসে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভিন্নতর সংস্কৃতি কিংবা সহজ ভাষায় উন্নত জীবনের সন্ধ্যানে বেড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সে আর প্রথাগত জীবনের বাহিরে যেতে পারে না।গ্রামীণ জীবণের প্রতিবেশ, পরিবেশের বৈচিত্র্যতা আর বাস্তবতার ডালপালা এমন ভাবে তাকে আকড়ে ধরে; যা ছিড়ে বের হওয়া শশীবাবুদের সামর্থের বাহিরে।
আমার কাছে সবচেয়ে অবাক লেগেছে যে, কোথাও মাণিকবাবু ‘শশী’কে জোড় করে আটকান নি।আর এখানেই একজন লেখকের স্বার্থকতার পরিচয় পাওয়া যায়। মাণিকবাবুর স্বার্থকতা তথা ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র প্রকৃত স্বার্থকতাই মিশে গেছে জীবনঘনিষ্ট মানুষগুলোর চরিত্রের পুংখানুপুংখ আখ্যান রচণায়।মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনবোধ, সমাজ চেতনা ও বিজ্ঞান মনস্কতার এক পরিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে এই উপন্যাসটি।

আমার পছন্দের উপন্যাসের ব্যাক্তিগত তালিকাটি শুরু হয় ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ দিয়ে।

নৃবিজ্ঞানে ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজের অবদান



নৃবিজ্ঞানে ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজের অবদান





ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ
১৯২৬-২০০৬



সূচীপত্র ঃ

বিষয় পৃষ্ঠা

ভূমিকা ---------------------------------------------------------------------- ১
জন্ম ও শিক্ষা জীবন ----------------------------------------------------------- ১
প্রতীকবাদ ------------------------------------------------------------------- ১
সংস্কৃতির ব্যাখ্যা -------------------------------------------------------------- ২
এথনোগ্রাফি ------------------------------------------------------------------ ৩
তাত্তি¡ক কাঠামো --------------------------------------------------------------- ৩
গিয়ার্টজের গ্রন্থসমূহ ----------------------------------------------------------- ৪
উপসংহার -------------------------------------------------------------------- ৫
সহায়ক গ্রন্থ ------------------------------------------------------------------ ৬

ভূমিকা

সমসাময়িক নৃবিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ নৃবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুনভাবে তত্ত¡ দাঁড় করান। তিনি ছিলেন আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী ও ম্যক্স ওয়েবার কর্তৃক অনেক বেশী প্রভাবিত। কার্ল মার্কস সমাজকে বস্তুগত অবস্থা দ্বারা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন। অপরদিকে ম্যক্স ওয়েবার সমাজকে গবধহরহম এর মাধ্যমে বুঝার চেষ্ঠা করেন। ম্যক্স ওয়েবার এর এই ধারা থেকেই পরবর্তীতে ঐধৎসড়হরংঃরপ ধারা বিকাশ লাভ করে। গবধহরহম কিভাবে তৈরী হয়, বিকাশ লাভ করে, পরিবর্তীত হয় এই সব বিষয়ই মূলত এ ধারায় অধিক গুরুত্ব পায়। এই ধারারই একজন গুরুত্বপূর্ণ তাত্তি¡ক হলেন ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ। তিনি দুটি বিশেষ সমাজের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার তত্ত¡ দাঁড় করান। নৃবিজ্ঞানের লক্ষ্য, নৃবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য ও দ্বায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সংস্কৃতি সম্পর্কে নানা প্রশ্ন, তর্ক ইত্যাদি উপস্থাপন করেন এবং একটি সংস্কৃতির মাধ্যমে অন্য একটা সংস্কৃতিকে ব্যাখ্যা করা যায় কিনা সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি মৌলিক প্রশ্নটি তুলেছেন নৃবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা, ও বাস্তবাতার বিষয়টি নিয়ে। সমাজ-সংস্কৃতি ব্যাখ্যায় নৃবিজ্ঞানের অবস্থান, কৌশল ও পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত, নৃবিজ্ঞানীর ভূমিকা কেমন হবে, ঊঃযহড়মৎধঢ়যু কিভাবে লিখতে হবে প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে এবং মরক্কোর সমাজে গবেষণার মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন তার “ঞযব ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ড়ভ ঈঁষঃঁৎব”(১৯৭৩) গ্রন্থে।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

নৃবিজ্ঞানী ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ ১৯২৬ সালের ২৩ আগস্ট আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৩-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে) তিনি ইউ.এস. নেভিতে কাজ করেন। তারপর ১৯৫০ সালে অহঃরড়পয ঈড়ষষবমব থেকে তিনি দর্শন শাস্ত্রে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ১৯৫৬ সালে গিয়ার্টজ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক নৃবিজ্ঞানে তাঁর পি.এইচ.ডি সম্পন্ন করেন সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে। ১৯৬০-১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করেন। তারপর ১৯৭০- ২০০০ সাল পর্যন্ত গিয়ার্টজ ওহংঃরঃঁঃব ভড়ৎ অফাধহপবফ ঝঃঁফু এর অধ্যাপক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। প্রায় পনেরোটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন যার মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ প্রথমে ঐরষফৎবফ এববৎঃু নামে একজন নৃবিজ্ঞানীকে বিয়ে করেন কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায় এবং কধৎবহ ইষঁ নামে আরেক মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন। কধৎবহ ইষঁ ও একজন নৃবিজ্ঞানী ছিলেন। ২০০৬ সালের ৩০ শে অক্টোবর হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপাচারের সময় ক্লিাফোর্ড গিয়ার্টজ মৃত্যু বরণ করেন।
(সূত্রঃ- যঃঃঢ়://িি.িরধং.বফঁ/হবংিৎড়ড়স/ধহহড়ঁহপবসবহঃং/ারব/িমববৎঃু-১৯২৬-২০০৬যঃসষ)


প্রতীকবাদ

অনেক নৃবিজ্ঞানী সংস্কৃতিকে একটা প্রতীকী ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেন। যাদের মধ্যে সমসাময়িক কালের ডেভিড স্লাইডার, ভিক্টর টার্নার, মেরি ডগলাস প্রমূখ অন্যতম। এখানে অর্থের উপর বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। সংস্কৃতির ব্যাখ্যা দেয়ার আগে তিনি ১৯৬০ এর দশকের পূর্বের সংজ্ঞা গুলোর সমালোচনা করেন এবং বলেন ঐসব সংজ্ঞা গুলো প্রকৃত পক্ষে অর্থহীন যা স্থির এবং অপরিবর্তনীয় এবং এগুলো কোন একটা সংস্কৃতির বাস্ত-বতাকে তুলে আনতে পারেনা। কেননা সেই সব সংজ্ঞা গুলো ছিল একপেশে যে গুলোতে ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ছিল না। তাছাড়া এক ধরনের ওহঃবষষবপঃঁধষ যবমবসড়হু তৈরী করে রাখে, যেখানে চিন্তার কোন সুযোগ থাকে না। প্রতীকবাদ এ প্রথাবাদী ধারণা থেকে বিপরীত অর্থ অন্বেষণে প্রতীকীবাদীরা স্থানিক ও লোকজ বিশ্লেষণকে ‘সংস্কৃতি’ বির্নিমাণে ব্যবহার করেন।

গিয়ার্টজ বলেছেন, গবেষণাধীন সমাজের দৃষ্টিতে বা তাদের মতো করেই তাদের সংস্কৃতিকে অনুধাবন করতে হবে। নতুবা ব্যাখ্যামূলক নৃবিজ্ঞান এর চারিত্রহানী ঘটবে। প্রতীক সম্পর্কে গিয়ার্টজ বলেছেন, “ঝুসনড়ষং, সড়ফবষ, ঢ়যুংরপধষ, ঢ়ংুপযড়ষড়মরপধষ ধহফ ংড়পরধষ বাবহঃং ড়ভ ঃযব ড়িৎষফ বহধনষরহম ধ ংড়পরবঃু’ং সবসনবৎ ঃড় ঁহফবৎংঃধহফ ৎবধষরঃু ধহফ ফবধষ রিঃয রঃ.” (সূত্রঃ নৃবিজ্ঞান প্যারাডাইম রূপান্তরের ধারা, পৃঃ- ১৪৪)

সংস্কৃতির ব্যাখ্যা

সংস্কৃতিকে একটা প্রতীকী ব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলে ও নৃবিজ্ঞানীরা বর্তমানে গবধহরহম অনুসন্ধানের গুরুত্বারোপ করেন। ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ, ম্যাক্স ওয়েবারের সাথে একমত হয়ে বলেন, ঈঁষঃঁৎব হচ্ছে ওহঃবৎঢ়ৎধঃরাব তাই এটা কোন খধি খুঁজে না। ঈঁষঃঁৎব হবে রহ ংবধৎপয ড়ভ সবধহরহম আর তাই এটা হবে অপঃড়ৎ এবং চঁনষরপ ড়ৎরবহঃবফ . চৎরাধঃব কোন কিছুই ঈঁষঃঁৎব হবে না। আগে যারা ঈঁষঃঁৎব কে সংজ্ঞায়িত করেন তারা মানুষের বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কীত করে সংজ্ঞায়িত করেন যেটি ছিল চৎরাধঃব. তিনি বলেন, ঈঁষঃঁৎব পধহ নব ঃযৎড়ঁময রফবধঃরড়হধষ হড়ঃ রফবড়ষড়মরপধষ, ঃযরং রং ঁহঢ়যুংরপধষ নঁঃ রঃং হড়ঃ যরফফবহ. ঞযরং পধহ নব রফবহঃরঃরপধষ রহ ংুসনড়ষং’ ধহফ ঢ়ঁনষরপ. ঈঁষঃঁৎব ংঁনলবপঃরাব ও হতে পারে আবার ঙনলবপঃরাব হতে পারে।

কৎড়বনবৎ বলেন, “ঈঁষঃঁৎব রং ংড়সবঃযরহম ংঁঢ়বৎ ড়ৎমধহরপ”- কিন্তু এববৎঃু বলেন যদি ঝঁঢ়বৎ ড়ৎমধহরপ হয় তাহলে ঈঁষঃঁৎব এর সৃষ্টি কোথায়? আর তাই এই সংজ্ঞাটি সঠিক নয়।

এড়ড়ফবহড়ঁময বলেন, “ঈঁষঃঁৎব রং ষড়পধঃবফ রহ সরহফ ধহফ যবধৎঃ”- এববৎঃু বলেন, এই সংজ্ঞাটি আরো বেশী সমস্যা তৈরী করে। যদি কারো মনের কথা শোনা হয় তাহলে সেটা হবে ঝুঃষব ড়ভ নবযধারড়ঁৎ এর ব্যাখ্যা।

জ.এ. জধংরহম- “ঈঁষঃঁৎব রং পড়হংরংঃ ড়ভ ড়ৎমধহরুবফ শহড়ষিবফমব” আর এক্ষেত্রে ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, ঈঁষঃঁৎব যদি ঙৎমধহরুবফ শহড়ষিবফমব হয় তাহলে সেটা হবে ঊীঃৎবসব ভড়ৎসধষরংঃ.

ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, এসব সংজ্ঞা গুলো ছিল অনেকটা ড়নংপঁৎব. এগুলো বাস্তব ভিত্তিক না কেননা এগুলো ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরাব না। তাঁর মতে, সংস্কৃতি হচ্ছে একই সাথে ঝুসনড়ষরপ ও ওহঃবৎঢ়ৎবঃরাব. আর তাই একই সাথে ঝঁনলবপঃরাব ধহফ ঙনলবপঃরাব আর তাই এটা হচ্ছে একটা অর্থবহ পন্থা। এভাবে তিনি পূর্বের সংজ্ঞা গুলোর বিনির্মান করে বলেন, “ঈঁষঃঁৎব রং ধ ংুংঃবস ড়ভ সবধহরহম ধহফ ৎবষধঃরড়হং ধৎব ঃৎধভভরপশরহম রহ ংুসনড়ষং.” (সূত্রঃ নৃবৈজ্ঞানীক প্যারাডাইম রূপান্তরের ধারা, পৃঃ ১৩৭) এভাবে তিনি গবধহরহম কে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বারোপ করেন এবং গভীর ভঅবনার উপলব্ধি অন্বেষণের মাধ্যমে সমাজের চলমান বাস্তবতাকে বুঝার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

্িক্লফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, গবধহরহম কে ব্যক্তির মনোজগতের মধ্যে উপলব্ধির কোন কারণ নেই। সমষ্টিক এবং ব্যষ্টিক পরিসরে পরিস্ফুটন ঘটনার মধ্যে যেমন আচার অনুষ্ঠান ও জাদুবিদ্যা প্রয়োগ ইত্যাদিতে গবধহরহম লুকায়িত থাকে। উদাহরন স্বরূপ- বালিনীজ সমাজে ঈড়ড়শভরমযঃ এর সাথে সম্পৃক্ত, বাজী ধরা ঘটনার মধ্য দিয়ে দলীয় মনোভাব প্রকাশ পায়। একটা দলের জয় পরাজয় ঝুসনড়ষ হিসেবে কাজ করে, যা একটা দলের উচ্চ মর্যাদা আর অন্য দলের খন্ডিত মর্যাদার লক্ষণ হিসাবেই বিবেচিত হয়। এখানে ব্যক্তি বিশেষের কৃতিত্ব গৌণ।

্িক্লফোর্ড গিয়ার্টজ, স্লাইডার প্রমূখরা একটা সমাজের প্রতীক সমূহের অন্বেষণের ক্ষেত্রে ঝযধৎবফ ঝুসনড়ষং এগুলোকে বেছে নিয়েছেন। জীবনকে পরিচালিত করতে গিয়ে সমাজের মানুষেরা যে অর্থবহ কর্ম দিয়ে সমষ্টিগতভাবে সমস্যা সমাধান করে তারই মধ্যে আছে গবধহরহম । সমাজের প্রতীকগুলো সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্থ। প্রত্যেক প্রতীক একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে নির্দেশ করে, যাদের সমস্টিক অবস্থানই হলো সংস্কৃতি। যেকোন প্রতীক ব্যবস্থার অধ্যয়নে সর্বনিম্ন স্তরে থাকে খবাবষ ড়ভ অপঃড়ৎ, মধ্যে থাকে ঈঁষঃঁৎধষ ঝুংঃবস ও সর্ব উপরে থাকে ঝুসনড়ষরপ ঝুংঃবস.

ঊঃযহড়মৎধঢ়যু (এথনোগ্রাফি)

গিয়ার্টজ নৃবিজ্ঞানের জিজ্ঞাসা সম্পর্কে যা বলেন তা মোটামোটি নিম্নরূপ:

ক) সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করা
খ) নৈতিকতার প্রসঙ্গ
গ) কোন সমাজ ও সংস্কৃতিকে বুঝার ক্ষেত্রে কি ধরনের বৈশিষ্ঠসমূহ বিরাজমান
ঘ) সমাজ ও সংস্কৃতিকে কতটুকু বোঝা সম্ভব অর্থাৎ মাত্রাটা কি?

তিনি বলেন আসলে ঙঃযবৎহবংং একটা থেকেই যায়, এক্ষেত্রে জরুরী বিষয় হল কোন সমাজের সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে চিত্রায়িত করা। নৃবিজ্ঞানী কোন কিছুর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দিতে পারে না। কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করতে পারে। গিয়ার্টজ এর ভাষায় বর্ণনা যেহেতু সম্ভব, তার চেষ্টাই বারংবার হওয়া উচিত। এবং বারংবার ভিন্নতা সৃষ্টি হলেও সেই চেষ্টা করা উচিত। তার মতে এথনোগ্রাফি হলো নিবিড় বর্ণনা বা বিশদ বর্ননা। বিশদ বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন হয় বিশেষ কোন সমাজের ঘটনাকে ও সেই সাথে মূলত: সংস্কৃতিতে একেবারে তুলে ধরার জন্যে। এ কাজটি করতে হবে ঘধঃরাব ঢ়ড়রহঃ ড়ভ ারবি থেকে। গিয়ার্টজ এ প্রসঙ্গে প্রধানত ম্যালিনোস্কির “ঞযব অৎমড়হধঁঃং ড়ভ ঃযব ডবংঃবৎহ চধপরভরপ” গ্রন্থের উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত ম্যালিনোস্কি নৃতাত্তি¡ক কর্মে ট্রব্রিয়ান্ডবাসীদের জীবনচরিত ব্যাখ্যায় ক্ষেত্র বিশেষে মূল্যবোধ আরোপ করেছেন। সমাজকে বস্তুনিরপেক্ষভাবে বিচার করার ক্ষেত্রে বোয়াস বস্তুনিরপেক্ষভাবে কোন সমাজকে উচুঁ বা নিচু মানদন্ডে শ্রেণীকরণের বিরোধী ছিলেন। নৃবিজ্ঞানে এ দুটি দৃষ্টিকোণকে এটিক এবং এমিক বলে অভিহিত করা হয়। এক্ষেত্রে গিয়ার্টজ এমিক দৃষ্টিকোণের অধিকারী ছিলেন। ম্যালিনোস্কি তার ডায়েরীতে ইউরোপীয়দের সাপেক্ষে ঐ সমাজকে আদিম, বর্বর, ও অসভ্য পর্যন্ত বলেছেন। গিয়ার্টজ মনে করেন কোন সমাজে গিয়ে নৃবিজ্ঞানী সব বুঝে ফেলবেন এমন চিন্তা না করে বরং সেই সমাজের সংস্কৃতিকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা উচিত। নৃবিজ্ঞান হবে ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরাব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মু’ অর্থাৎ ব্যাখ্যামূলক নৃবিজ্ঞান। আর সব ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর ইধংব হবে ঝুসনড়ষ। গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা খধি খুঁজবো না খুঁজবো গবধহরহম. আর তাই এক্ষেত্রে ঊঃযহড়মৎধঢ়যু হবে ভষড়ি ড়ভ ঝড়পরধষ ফরংপড়ঁৎংব, রঃ’ং ফবঢ়বহফ ড়হ:

১) ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ
২) ঝড়পরধষ উরংপড়ঁৎংব
৩) ঝঢ়বধশরহম ড়ভ বাবহঃ
৪) গরপৎড়ংপড়ঢ়রপ ধহধষুংরং.

ঞযবড়ৎবঃরপধষ ঋড়ৎসঁষধঃরড়হ (তাত্তি¡ক কাঠামো)

ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, আগেরকার তাত্তি¡ক কাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল, যেগুলো ছিল কাঠামোবদ্ধ আর তাই যেখানে সবধরনের ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ছিল না। আর এ কারণে গিয়ার্টজ তাত্তি¡ক কাঠামোর পক্ষপাতি নন। তাঁর মতে, তত্তে¡র কাজ হলো কোন বিষয়কে আকৃতি দেয়া এবং তথ্যের বৈধতা দান করা কিন্তু এর বৈধতার কোন দরকার নেই, কেননা আমরা সংস্কৃতিকে ব্যাখ্যা করবো ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর মাধ্যমে। এর এ ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ টা আসবে অপঃড়ৎ দিক থেকে যেটা ধীরে ধীরে ঞযরপশ থেকে ঞযরহ এ রূপান্তরিত হবে। এখানে তত্তে¡র কোন দরকার নেই। কারণ ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ নিজেই ঠধষরফধঃবফ । গবেষণা হচ্ছে কোন কিছুর অর্থ খুঁজে বের করা আর অর্থটা আমরা পাই ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ থেকে ।

গিয়ার্টজ মনে করেন, ঈড়হপবঢ়ঃ দরকার হয় বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যেখানে ঈষড়ংবফ মৎড়ঁহফ ব্যবহার করা হয় না কিন্তু ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর ক্ষেত্রে ঈড়হপবঢ়ঃ ব্যবহার করলে ঈষড়ংবৎ মৎড়ঁহফ থেকে দূরে সরে যাবে। এখানে ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ যত বেশী হবে সংস্কৃতি তত স্পষ্ট হবে। আর এখানে কঠিন কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় না। তিনি বলেন-

ক্স তত্ত¡ হচ্ছে চিরন্তন ও সত্য। কিন্তু সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। তাই এক্ষেত্রে তত্ত¡ দেয়া সম্ভব নয়। গিয়ার্জের মতে, গবেষণা এর ক্ষেত্রে থাকবে শুধু খড়মরপধষ ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ.
ক্স ঞযবড়ৎু ঝঁনলবপঃরাব হবে না। আর কোন গবেষণা পুরোপুরি ঙনলবপঃরাব হবে না। কারণ আমরা এখানে গবধহরহম খুঁজি, সংস্কৃতি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে।
ক্স আমাদের সংস্কৃতির ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ টা হচ্ছে গল্প বলার মতো আর এটাকে ওহঃবষবপঃঁধষ ধৎঃ এর মতো ব্যাখ্যা করা হয়, তাই এখানে তত্ত¡ যোগ করলে সমস্যা আরো বেড়ে যায়।
ক্স এছাড়া তত্ত¡ সবসময় আমাদের চৎবফরপঃরড়হ দেয় আর চৎবফরপঃরড়হ হয়ে থাকে ঝুসঢ়ঃড়স থেকে কিন্তু সংস্কৃতিতে থাকে প্রতীক তাই এখানে তত্ত¡ দেয়া যাবে না।
ক্স সংস্কৃতি ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ কখনোই সিদ্ধান্ত দেয় না বরং একটা প্রশ্ন তৈরী করে। আর তাই সংস্কৃতি তত্ত¡ বড়জোর প্রশ্ন তৈরী করতে পেরেছে কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। কারণ সংস্কৃতি সবসময় পরিবর্তনশীল।
ক্স তত্ত¡ আমাদেরকে শিক্ষা দেয় কিন্তু সংস্কৃতি ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ এর শিক্ষক হচ্ছে ওহভড়ৎসবৎ তাই এখানে তত্তে¡র কোন দরকার নেই। এখানে ঘধঃরাব ঢ়ড়রহঃ ড়ভ ারব,ি ঊসরপ ারবি হচ্ছে শিক্ষক।
ক্স তত্ত¡ মূলত আগের গুলো অস্বীকার করে নতুন তথ্য উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোন কিছু অস্বীকার না করে নতুন কিছু যোগ করে থাকে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অংশের ব্যাখ্যা থাকে না, ফলে আগের গুলোর সাথে নতুন গুলো যোগ হয়ে আরো শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়।

আর তাই ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ বলেন, ঞযবড়ৎবঃরপধষ ভড়ৎসঁষধঃরড়হ হলে এটা বর্তমান সমস্যাকে আরো বড়াবে। আর যে কারণে তিনি ডবনধৎরধহ ঃৎবহফ অনুসরন করে বলেন সংস্কৃতি হবে সবসময় ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরাব ঞযরপশ থেকে ঞযরহ এ পরিণত হবে।

ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজের অন্যতম গ্রন্থসমূহ হচ্ছে-
ক্স ঞযব জবষরমরড়হ ড়ভ ঔধাধ (১৯৬০), টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৭৬ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১০-৩
ক্স চবফফষবৎং ধহফ চৎরহপবং: ঝড়পরধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ধহফ ঊপড়হড়সরপ ঈযধহমব রহ ঞড়ি ওহফড়হবংরধহ ঞড়হিং (১৯৬৩), টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৬৮ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১৪-৬
ক্স অমৎরপঁষঃঁৎধষ ওহাড়ষঁঃরড়হ: ঃযব ঢ়ৎড়পবংং ড়ভ বপড়ষড়মরপধষ পযধহমব রহ ওহফড়হবংরধ (১৯৬৪)
ক্স ওংষধস ঙনংবৎাবফ, জবষরমরড়ঁং উবাবষড়ঢ়সবহঃ রহ গড়ৎড়পপড় ধহফ ওহফড়হবংরধ (১৯৬৮), টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৭১ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১১-১
ক্স ঞযব ওহঃবৎঢ়ৎবঃধঃরড়হ ড়ভ ঈঁষঃঁৎবং (১৯৭৩), ইধংরপ ইড়ড়শং ২০০০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৪৬৫-০৯৭১৯-৭
ক্স করহংযরঢ় রহ ইধষর (১৯৭৫) পড়ধঁঃযড়ৎ: ঐরষফৎবফ এববৎঃু, টহরাবৎংরঃু ঙভ ঈযরপধমড় চৎবংং ১৯৭৮ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-২২৬-২৮৫১৬-২
ক্স ঘবমধৎধ: ঞযব ঞযবধঃৎব ঝঃধঃব রহ ঘরহবঃববহঃয ঈবহঃঁৎু ইধষর (১৯৮০), চৎরহপবঃড়হ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ২০০১ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৬৯১-০০৭৭৮-০
ক্স খড়পধষ কহড়ষিবফমব: ঋঁৎঃযবৎ ঊংংধুং রহ ওহঃবৎঢ়ৎবঃরাব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মু (১৯৮৩), ইধংরপ ইড়ড়শং ২০০০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৪৬৫-০৪১৬২-০
ক্স "অহঃর-অহঃর-জবষধঃরারংস" (১৯৮৪), অসবৎরপধহ অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ, াড়ষ. ৮৬, হড়. ২, ঢ়ঢ়. ২৬৩-২৭৮.
ক্স ডড়ৎশং ধহফ খরাবং: ঞযব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ অং অঁঃযড়ৎ (১৯৮৮), ঝঃধহভড়ৎফ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ১৯৯০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৮০৪৭-১৭৪৭-৮
ক্স অভঃবৎ ঃযব ঋধপঃ: ঞড়ি ঈড়ঁহঃৎরবং, ঋড়ঁৎ উবপধফবং, ঙহব অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরংঃ, ঐধৎাধৎফ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ১৯৯৫ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৬৭৪-০০৮৭২-৩
ক্স আধরষধনষব খরমযঃ: অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরপধষ জবভষবপঃরড়হং ড়হ চযরষড়ংড়ঢ়যরপধষ ঞড়ঢ়রপং, চৎরহপবঃড়হ টহরাবৎংরঃু চৎবংং ২০০০ ঢ়ধঢ়বৎনধপশ: ওঝইঘ ০-৬৯১-০৮৯৫৬-৬
ক্স "অহ রহপড়হংঃধহঃ ঢ়ৎড়ভবংংরড়হ: ঞযব ধহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মরপধষ ষরভব রহ রহঃবৎবংঃরহম ঃরসবং" (২০০২), অহহঁধষ জবারবি ড়ভ অহঃযৎড়ঢ়ড়ষড়মু, াড়ষ. ৩১, ঢ়ঢ়. ১-১৯
[সূত্রঃ- যঃঃঢ়://বহ.রিশরঢ়বফরধ.ড়ৎম//িরহফবী.ঢ়যঢ়?ঃরঃষব=ঈষরভভড়ৎফথএববৎঃ্ধুপঃরড়হ=বফর্ংঃবপঃরড়হ=৪]

উপসংহার

নৃবিজ্ঞানের কাজ অধ্যয়নরত সমাজটিকে বুঝে ফেলা নয়, বরং সেই সমাজের পরিসরে গিয়ে নিজেকেই চেনা বা নিজের সমাজেরই ব্যাখ্যা করা: অনেকটা আত্মানুসন্ধানের মতোই। যদি স্থানীয় সংস্কৃতিকে বুঝতে হয়, তবে তা গবেষকের চোখ দিয়ে দেখলে চলবেনা। কারণ গবেষকের তৃতীয় নয়ন বলতে কিছু নেই। তাই তার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতিকে বুঝতে হলে স্থানীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই গবেষককে ঘটনা প্রবাহ থেকে এ সকল নিগূঢ় সত্য বিমূর্তায়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রতীকীবাদী নৃবিজ্ঞানী ক্লিফোর্ড গিয়ার্টজ। মূর্তমান বাস্তবতা থেকে ‘রূপক’ ও প্রতীক খুঁজে নিতে হবে। এথনোগ্রাফীক গবেষণায় গিয়ার্টজ নিবিড় ক্ষেত্র অনুসন্ধানের নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন যা প্রতীকী মডেলের তত্ত¡ীয় পাটাতন স্থাপনে একটি পদক্ষেপ। এই পদ্ধতির প্রায়োগিকতা নৃবিজ্ঞানের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে অন্য বিদ্যাজাগতিক পরিমন্ডলেও বহুলভাবে সমাদৃত।
























সহায়ক গ্রন্থ

চৌধুরী, আহমেদ ফজলে হাসান (২০০৩) “নৃবৈজ্ঞানিক প্যারাডাইম রূপান্তরের ধারা”
ইন্সটিটিউট অফ অ্যাপ্লাইড এ্যানথ্রোপলজী, ঢাকা।

Url address

www.britannica.com/eb/topic-227742/cliford-Geertz .
www.ias.edu/newsroom/announcements/view/geertz-1926-2006 html.
www..wikipedia.org/w/index.php?title=Clifford_Geertz&action.

কবিতা ও কবিতা-ভাবনার কাগজ_ বটতলা



কবিতা ও কবিতা-ভাবনার কাগজ_ বটতলা

কবিতা বিষয়ক একটা লিটলম্যাগ করেছিলাম এক সময়।
আপনাদের জন্য আপলোড করে লিংকটা দিলাম।
পড়ে দেখতে পারেন একটু ভিন্নধাচের কাগজটি।


ওই কাগজের সম্পাদকীয়টা এখানে তুলে দিচ্ছি__

পতিতকথাঃ

প্রস্তুতি পেরিয়ে এ সংখ্যা থেকেই যাত্রা শুরু করছে বটতলা। অগ্রজের মিশ্রকথা আর সমবয়েসিদের সুপ্ত ইচ্ছাকে ধারণ করে এই আয়োজন। কবিতা এবং কবিতাই বটতলার; শেকড়, ডালপালা, পাতা কিংবা শাখা। কবিতা সম্পর্কে পূর্বের উচ্চারণ অপরিবর্তিত থাকছে। অথাৎ বটতলা কবিতাকে অনেকটা গণিতের মত দেখে; যার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকবে রহস্য। বটতলা মনে করে না, কবিতা একবার পড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবার মত কোন জিনিস। কেননা কবিতা হচ্ছে বারবার পড়ার মত, বারবার অনুভূতিকে নাড়া দেবার মত যৌক্তিক উপাদান। কবিতা শুধু কথার আঁকি-বুঁকি না হয়ে অনুভূতি প্রকাশের সূক্ষ্ণ নিয়ামক হয়ে আমাদের কাছে-পাশে থাকবে।...

'কবিতার পাঠক কমে গেছে'
'কবিতা এখন শুধু কবিদের হয়ে গেছে'
‘কবিতা বুঝা যায় না'

এ রকম অনেক অভিযোগ শোনা যায়। প্রশড়ব হচ্ছে কবিতার পাঠক কখন বেশী ছিল? আর দুর্বোধ্যতার অভিযোগ তো থাকবেই। সমাজের সব মানুষ তো আর সূক্ষ্ণ অনুভূতি নিয়ে জন্মায় নি! তাই বটতলা বলতে চায়- ‘আমাদের’ কবিতা আম-জনতার জন্য নয়। কবিতা কখনো গিয়ে কাউকে বলে নি আমাকে পড়ো, আমাকে পড়ো।

আর বলবেও না।”

স্বতন্ত্রতার বয়ান; অপরাধী আতড়ব-প্রলাপঃ

আমরা অন্যধারার কবিতার কথা বলতে চাই। আমরা বলতে চাই কবিতার বিচারে অনুভূতি-ই হবে প্রধান নিয়ামক। নিউরণের প্রতিটি সেল কাজে লাগিয়ে কবি’র কবিতা আবিস্কার করতে হবে। যে কবিতায় আবিস্কার করার মত কিছু থাকবে না, সে ধরণের কবিতা-চর্চায় আমরা নেই।

ঢুলি, বাদক ও অন্যান্য সমাচারঃ

নিজের ঢুল... ব্যাপারটা এমনই দাঁড়ায়। তবু নিজস্ব পথ ও মতের ব্যাখ্যা সময় ঠিকই দাবী করে। আমরা বাদক হলেও সময়কে এড়িয়ে যেতে চাই না। তার হাতেই ছেড়ে দিতে চাই তার হিসেব-নিকেশ।

অথৈ জল, জলঢেউ ও তরী প্রসঙ্গঃ

এই বাজারে মধু বেঁচতে যাওয়ার চেয়ে বিষ বিক্রি উত্তম। আমরা কোন বিক্রেতা হব জানি না। তবে বড় বড় ঢেউ দেখলে তরীর কথা মনে পড়ে। আর মনে পড়ে অগ্রজ মাঝিদের কথা।

একই পথে; ভিন্ন পথিকঃ

আমরা কবিতার পথেই হাঁটছি।

তবে প্রত্যেকে কিন্তু ভিনড়ব পথিক। ‘পথ কে পাবে’ অথবা ‘কাকে পথ পাবে’- সেই ব্যাপারে আগ্রহী হলেও উদগ্রীব নই। ‘বটতলা’ আপাত দৃষ্ঠিতে গোষ্ঠিবাদী প্রয়াস হলেও সেই দায় ‘সূচনা সংখ্যা’ এই অজুহাতের উপর চাপিয়ে দিলাম। এই সংখ্যায় হবিগঞ্জের তরুণরা, মূলত মধ্যশূন্যদশক (’০৫) থেকে যারা সচেতন ভাবে লেখালেখির সাথে জড়িত তারাই তালিকাভুক্ত হলেন। আর তালিকাভুক্তির তালিকাটি বটতলা খোলা রাখল সবার জন্য।
এ সংখ্যায় আমরা পূর্বজ কবি ও কবিতায় জানতে চেষ্ঠা করেছি সত্তর দশকের হবিগঞ্জের কবি, পার্থ সারথি চৌধুরী সম্পর্কে। আরো আছেন এক অনালোচিত মরমী সাধক, বাউল ছেগেন শাহ। ইংরেজ কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান এর কবিতা অনূদিত হল মুলত তাঁর কবিতার বাঁক বদলে বিশেষ অবদানের কথা মনে রেখে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বটতলা’য় কবিতার পাণ্ডুলিপি অংশে রনি হাসান এর কবিতা মুদ্রিত হল।

আমরা কবিতার পথেই হাঁটতে চাই। তবে গতানুগতিক পথে হেঁটে গিয়ে চিহ্ন রাখার কোনো মানে নেই। আসুন, মেধা ও মনন মিলিয়ে নাড়া দিই কবিতার ভিন্ন দিগন্তে; সুপ্ত অনুভূতির রাজ্যে।

কবিতার ভুবনে স্বাগতম।

ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

মৌলবাদীদের পর্দাপ্রথা, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি; আওয়ামীলীগ কি সব ভুলে গেলো?

জঙ্গি নিধন, নারী স্বাধিনতা, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বিচার বর্হিঃভূত হত্যা বন্ধ এবং সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় আছে। তাই স্বাভাবিত ভাবে দলটির উপর সবার নজর ছিল। আওয়ামী লীগ এর অবস্থা দেখলে মনে হয় তারা এখন নিজেদের সামলাতেই ব্যস্ত বেশী। বাংলাদেশের জনগনের আশা ছিল যে, নতুন সরকার তার মহাজোট ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজনৈতিক নির্যাতন নিপীড়ন, মানবাধিকার লংঘন, জাতীয় নেতাদের গ্রেফতার নির্যাতন ও হয়রানীর মধ্য দিয়ে এই সরকার স্বৈরাচার সরকারে রূপ নিচ্ছে।
ভোটের রাজনীতির কারণে তারা বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাচ্ছে। তার মধ্যে নারী নীতি ও সংবিধানকে ধর্ম নিরপেক্ষ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য কিছু মোল্লাগোষ্টির প্রতিবাদের মুখে তারা সিডও (CEDAW) সনদে স্বাক্ষর করতে ভয় পাচ্ছে। সরকার ভয় পাচ্ছে আগামী নির্বাচনে যদি এই কারণে ইসলামী গোষ্টির সমর্থন না পায় সেই বিষয়টি নিয়ে। অথচ একটি বার ভাবছে না যে এই সকল প্রতিশ্রুতি দেখেই মানুষ তাদের নির্বাচিত করেছে। সরকার সংবিধানকে ধর্ম নিরপেক্ষ করার কথা বললেও এখন চাচ্ছে ধর্ম এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার মাঝে একটা সমন্বয় করতে। যা প্রকারন্তরে হাস্যকর এবং সংবিধান অবমাননার সামিল।
আমরা যদি সরকারের এই নীতিটাকে কোরান-সুন্নাহ ও বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে ব্যাখ্যা করে দেখি তাহলে পরিস্কার বুঝা যাবে। সিডও (CEDAW) সনদ বাস্তবায়ন কি কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সম্ভব? সিডও (CEDAW) সনদ মানেই হচ্ছে নারীর প্রতি যেকোন প্রকার বৈষম্য বিলোপ। কোরআন-সুন্নাহ কি এই বৈষম্য বিলোপের বিপক্ষে? মোটেও না, কখনো না। উল্টো কোরআন নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যকে সমর্থন করে এবং নারীকে পুরুষের অধীনস্ত মনে করে। সুতরাং সিডও (CEDAW) সনদ আর কোরআন-সুন্নাহ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।

তাছাড়া আমাদের সংবিধানের সাথে কি কোরআন-সুন্নাহর বিরোধ নেই? সংবিধানের ২৭, ২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩), ২৮(৪), ২৯(১), ২৯(২) অনুচ্ছেদগুলোতে সরাসরি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ব্যাপারে বলা আছে, সেখানে কোরআন কি মনে করে? কোরআনের চোখে নারী পুরুষের সমকক্ষ নয়। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে পুত্র সন্তান কন্যা সন্তানের দ্বিগুন পাবে, ১ জন পুরুষ সাক্ষ্য = ২ নারী সাক্ষ্য, স্বামী স্ত্রীকে প্রহার করতে পারে ইত্যাদি। এ সবই সংবিধানের উপরের ধারাগুলোর [২৭, ২৮(১), ২৮(২), ২৮(৩), ২৮(৪), ২৯(১), ২৯(২)] বিপরীত। যদিও, উত্তরাধিকার আইন থেকে শুরু করে সংবিধান সমর্থিত অনেক আইনেই কোরআন-সুন্নাহকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে- যা আবার সংবিধানের উপরের ধারাগুলোর বিপরীত, সুতরাং- বলা যায় সংবিধান নিজেই স্ববিরোধিতায় ভরপুর। আমাদের সংবিধানে যেমন কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় আছে, তেমনি পরিপূরক বিষয়াদিও আছে। সংবিধান রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা বলে, বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়, সংবিধান পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন, মুসলিম বিবাহ আইনকে সমর্থন করে। আবার উল্টোদিকে- উপরিউক্ত ধারাগুলো যেমন আছে, তেমনি আমাদের সংবিধান সাক্ষ্য আইন ১৯৭২ কে, চুক্তি আইন ১৯৭২ কে সমর্থন করে। এই আইনের বলে- আদালতে ও নির্বাচনে, চুক্তি সম্পাদনে নারী পুরুষের সমান মর্যাদা পায়। যা সরাসরি কোরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে স্ত্রীকে প্রহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যদিও কোরআনে স্ত্রীকে প্রহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে, সংবিধান এবং কোরান ও সুন্নাহ পরস্পর সাংঘর্ষিক। একটাকে রেখে আরেকটার পালন অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কের এবং আইনের পরিপন্থি। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের সরকার সেই আইন পরিপন্থি কাজে লিপ্ত রয়েছে।
অথচ সরকার সেই দিকে কোনো নজর না দিয়ে উল্টো ব্যস্ত রয়েছে তাদের প্রতিশোধ গ্রহণে। মামলা, হামলা, গ্রেফতার ও সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সাংবাদিক নির্যাতন, খুন, গুম, ডাকাতি ও রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিত্যদিনকার ঘটনা। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির ঘটনায় অতিষ্ঠ মানুষ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার অঙ্গীকার করলেও তা অব্যাহতভাবে চলেছে। নতুন যোগ হয় সাদা পোশাকে অপহরণ, গুপ্ত হত্যা। বখাটেদের নারী উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ইভটিজিং বা নারী নির্যাতনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা ভীষণ উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ফাঁসির আসামি, হত্যা মামলার আসামিসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীদের রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় হতবাক হয়েছেন সমাজের বিবেকবান মানুষ । বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে দেশে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা, ডাবল ও ট্রিপল মার্ডার, গলাকেটে নৃশংসভাবে খুন করা হচ্ছে। নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেননি সাংবাদিকরা। এ সময়ে ৪ লেখক সাংবাদিক নিহত, ১৭০ সাংবাদিক আহত, ৫০ জন লাঞ্ছিত ও ৫৫ জন হুমকির সম্মুখীন হন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১৭ জনের ওপর হামলা, দু’জনকে গ্রেফতার, একজন অপহৃত ও ১৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২৮১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের স্বীকার, রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন ৪৭০, বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে ১৭০ জন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুসারে ২০০৯ এ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল নাজুক।
২০০৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখানোর কথা বলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তা অব্যাহতভাবে চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা, সভা-সমাবেশ বন্ধে ১৪৪ ধারা জারি, গার্মেন্ট শ্রমিকদের নির্যাতন ও গ্রেফতার, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেশি ঘটছে এই সরকারের সময়কালে।
হত্যাসহ ভয়ঙ্কর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই বেশি ব্যস্ত। কখনও কখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ ঘটনায় গ্রেফতার হচ্ছে না ঘাতকরা। হত্যাকাণ্ডের পরও খুনি ও তাদের সহযোগীরা মামলার বাদীকেও হত্যার হুমকি দেয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে। খুনিরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় পুলিশও তাদের গ্রেফতার করছে না মর্মে বহু অভিযোগ পুলিশ সদর দফতরে জমা আছে।
একটি গনতান্ত্রিক সরকার জনগনের প্রত্যাশার কোনো মূল্য না দিলে তার ফল যে ভাল হয় না তা নিশ্চয় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভাল ভাবেই জানে।



২০০৯ দৈনিক প্রভাকর।

যারা চুপ করে থাকে তারা দেশ প্রেমিক, যারা সমালোচনা করে তারা দেশদ্রোহী

একটি অরাজনৈতিক সামরিক সমর্থনপুস্ট তত্বাবধায়ক সরকার চালাচ্ছে বাংলাদেশ!
খুবই অদ্ভূত শাসন ব্যবস্থা চলছে আমাদের দেশটিতে। যেখানে ১৪ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে চলে একটি নিয়মতান্ত্রিক সরকার সেখানে মাত্র গুটাকয়েকজন সামরিক ব্যাক্তিবর্গের সমর্থনে চলছে একটি সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই বুঝা যাচ্ছে দেশে একটা বিশেষ ব্যবস্থা বিদ্যমান। অথাৎ তথাকথিত জরুরী অবস্থা চলছে। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন রয়েছে, একটা দেশে জরুরী অবস্থা কতদিন থাকতে পারে এবং কতদিন থাকলে এটাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়?
তত্বাবধ্যায়ক সরকার প্রথমে বিভিন্ন চমক দেখালেও এখন তাদের মাঝে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের বড় দুই দলের প্রধানকে বন্দি করার পর তাদের মনোবল আরো বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পৃথিবীর কোথায় এবং কোন অবস্থায় মানবাধিকারের মত বিষয়টিকে এড়িয়ে একটি দেশ এবং তার সরকার চলতে পারে? বর্তমান সরকার দুর্নীতি বিরোধী বিভিন্ন অভিযান চালাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষের সমর্থন আছে। এই কাজের জন্য সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার দাবী রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো সরকার অতি উৎসাহী হয়ে একজনের দুর্নীতির জন্য তার পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠাচ্ছে। তারা অভিযোগ করে বলছে, ওই দুর্নীতিবাজ লোকের স্ত্রী তাকে দুর্নীতি করতে নিষেধ করলো না কেনো? সুতরাং তাকেও জেলে পাঠাও। কতটা হাস্যকর যুক্তি হতে পারে এটা। আপনি একজন চোরকে ধরলেন। তারপর ওই চোরের এলাকার সবাইকে ধরলেন আর বললেন, আপনাকে তাকে চুরি করতে নিষেধ করলেন না কেনো? পরবর্তী দেখা যাবে ওই চোর যে স্কুলে পড়ত সেই স্কুলের শিক্ষককেও ধরলেন ভাল শিক্ষা দেয়া হয়নি এই অপরাধে! নাজমুল হুদাকে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে দুর্নীতির দায়ে। সাথে তার স্ত্রী সিগমা হুদাকেও জেলে পাঠানো হল স্বামীকে অনুপ্রাণিত করার অভিযোগে! অথচ সিগমা হুদা একজন মানবাধিকার নেত্রী। সরকার মানবাধিকারের ধার তো ধারছেই না, উল্টো মানবাধিকার কর্মীকে জেলে ভরছে।
অথচ এই অরাজনৈতিক তত্বাবধায়ক সরকারের মূল ম্যান্ডেট হচ্ছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর তাদের কাজে স্বচ্ছতা ও স্পস্টতা নিয়ে প্রশ্নের কোন অবকাশ থাকতে পারে না। বুলেট দিয়ে ব্যালট নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ কখনও শুভ হয় না। সরকার জরুরী আইনের ক্ষমতার আওতায় সংস্কার ঘটাতে চাচ্ছে। সরকারের নেপথ্যে রয়েছে মহাক্ষমতাশালী চক্র যাদের উদ্ধত আচরণ স্পস্ট হয়ে উঠেছে। বাজেটে আর্থিক সংস্থান ছাড়াই স্ব-প্রমোশনের নির্লজ্জ উদাহরণ সৃস্টি করেছে ক্ষমতাবান জেনারেলরা। জেনারেলের আত্মীয় বিধায় দূর্নীতিবাজ আপনজনরা বিনা বাধায় দেশত্যাগ করেছে।
মাইনাস থিওরীর প্রবর্তন করে বর্তমান সরকার নতুন ধারার গণতন্ত্রের প্রবর্তন করতে চাচ্ছে। অথচ এটি সরকারের ম্যান্ডেট নয়। সরকার সুশীল সমাজ ক্রয়ের চমকপ্রদ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সামরিক পেশী শক্তির মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ পত্রিকা আর সাংবাদিক কেনাবেচা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক নিয়োগ বাণিজ্য জমিয়ে মাথা কেনা চলছে। হায় হায় কোম্পানী, জাগো, নাশ, কল্যাণ পার্টি, নিরাপত্তা কাউন্সিল আর কনফারেন্স সর্বস্ব উদ্যোগ আয়োজন দিয়ে সরকার যথেস্ট হাস্যরসের জোগান দিয়ে জনগণকে বিনোদিত করার আপ্রাণ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এগুলো না করেও তো সরকার নন্দিত হতে পারত।
একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে বহনকারী বিমানকে দেশের সীমানায় প্রবেশে বাধা দানের মতো হাস্যকর নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়ে সরকার দুনিয়াব্যাপী আলোড়ন সৃস্টি করেছে। জরুরী আইনের মধ্যেও সামরিক সরকার রাজনীতিতে কিংস পার্টির তরী ভাসানোর বিফল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। জনগণ রাজনৈতিক স্বৈরাচার প্রত্যাখ্যান করেছে। মনে আছে, গত বছর পুলিশী ট্রাকের নীচে শহীদ হয়েছেন একজন গনতন্ত্রের সৈনিক। অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী নির্যাতন ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। হয়নি কোন বিচার। গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রামের কারণেই বর্তমান তত্বাবধায়ক সরকারের আগমন। তাই, আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়বার কোন অশুভ চেষ্টা এখনও সফল হবে না।
দু:খজনক হলেও সত্য যে, মৌলবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা এখনও বন্ধ হয়নি। দু'জন স্বনামধন্য উপদেস্টা তাদের রাস্ট্রীয় শপথ ভঙ্গ করেই জামাতীদের উদ্ধারে সময়ে-অসময়ে এগিয়ে এসেছেন। মৌলবাদী জামাতী আর হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা জরুরী আইন ভেঙ্গে মিটিং মিছিল করলেও জেলে যায়নি। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সামরিক ছাউনি স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অপরাধে
অধ্যাপকরা আর ছাত্ররা এখনও জেলের ভেতরে ধুঁকছেন।

বর্তমান তত্বাবধায়ক তাদের ম্যান্ডেটের বাইরে অনেক কিছুই করতে চেয়েছে। তাদের সদিচ্ছার প্রকাশ ছিল অফুরন্ত। তবে তাদের অনেক কাজের মধ্যেই স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারী মনন কাজ করছে। আর স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে কোনোদিন জনগনের অন্তরে স্থান পাওয়া যায় না।

ঐ নতুনের কেতন ওড়ে


কালের খেয়ার ৬৫তম সংখ্যাটির সর্বত্র জুড়ে যেন তারুন্যের পদধ্বনি বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছেল। কেননা ওই সংখ্যাটি সম্পাদক সাজিয়েছেন একঝাঁক নতুনের মেলবন্দনে। আর নতুনদের কবিতা ও গল্পগুলো পড়ে এতটা বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম যে, মনে হচ্ছেল না এরা সবাই তরুণ লিখিয়ে। যা হোক, কালের খেয়া তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে এবং আশা করি অহর্নিশ তা রেখে চলবে।
আজকাল অনেকেই 'পাঠকের কলম' বিভাগে লিখে অন্য পাঠকের লেখায় সম্পাদককে মনোরঞ্জন করার বিষয় খুঁজে পান, যেমনটা পেয়েছেন মৌলভীডাঙ্গি, নবাবগঞ্জ, ঢাকার শুভ্র। কিন্তু বিষয়টি যদি এমন হয় 'সুচ ঝাঁজরকে বলছে তোমার তলা ফুটো'_ তাহলে কি অর্থ দাঁড়ায়? ঠিক তেমনটাই করেছেন শুভ্র। তিনি ৬৫তম সংখ্যায় লিখেছেন, 'র্বতমানে প্রকাশিত বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীর মধ্যে কালের খেয়া তার শ্রেষ্ঠত্ব ইতিমধ্যে অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।' এ কথাটি আমিও নিদির্্বধায় স্বীকার করি কিন্তু শুভ্রর এ কথাটি কি সম্পাদকের মনোরঞ্জন করার মতো কথা নয়? নয় কি স্ববিরোধী? এখন কথা হলো, যদি কেউ কালের খেয়াকে ভালোবেসে অমন একটু-আধটু লিখেই থাকেন তাতে পাঠকের উচিত তা সাধারণভাবে গ্রহণ করা এবং অন্য কিছু খুঁজে বের করার প্রয়াস না চালানো।
অনেকদিন পর কালের খেয়ায় লিটল ম্যাগের আলোচনা দেখতে পেলাম। এজন্য সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। দলীয় ও নামসর্বস্ব সাহিত্যের স্রোতে মেধাবী তরুণদের একমাত্র ভরসা এই লিটল ম্যাগগুলো। আমার জানামতে, গ্রাম ও শহরের আনাচে-কানাচে খ্যাত ও অখ্যাত লিটল ম্যাগগুলোতে তরুণ লেখকরা কাব্যচর্চার মাধ্যমে তাদের সাহিত্য সাধনাকে টিকিয়ে রেখেছেন।
যা হোক, কালের খেয়া যে নতুনদের বাংলা সাহিত্যের আসনে স্থান করে দিতে বদ্ধপরিকর এ সম্পর্কে অবশিষ্ঠ শঙ্কাটুকুও মুছে দিয়েছেন সম্পাদক তার সুন্দর সম্পাদকীয়তে। এজন্য তাকে আরেকবার ধন্যবাদ জানাচ্ছে। কালের খেয়া সমকালীন সাহিত্যে প্রতিভূ হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক লাখ লাখ পাঠকের পাললিক অন্তরে, এ কামনা আমার এবং আমাদের।
সুমন আহ্ধসঢ়;মেদ
ওয়ারী, ঢাকা
চাবি : সুলিখিত নয়৮ সেপ্টেম্বর কালের খেয়ায় নিরমিন শিমেলের 'চাবি' গল্পটি পড়ে বিরক্ত হয়ে অভিমত লিখতে চেয়েছিলাম। ২৯ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় ফয়েজ ইসলাম তিতাসের প্রতিক্রিয়ায় গল্পটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করায় বিস্টি্মত হলাম। যেখানে এ ধরনের নিতান্ত সাদামাটা ও অসঙ্গতিপূর্ণ গল্প ছাপানোতে কালের খেয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছি, সেখানে একজন পাঠক গল্পটির ভূয়সী প্রশংসা কিভাবে করলেন ভেবে পাইনি। চিন্তা-চেতনায় এতটা পার্থক্য হওয়ার কথা নয়।
লোহার মতো শক্ত সাবানে গাঁথা গাড়ির চাবিটি তৃতীয়বার ঠুন করার পর শব্দ শুনে কাজের মেয়েটি তার সন্ধান পায়। তার আগে চোখে পড়েনি। একটি সাবানের মধ্যে চাবি রেখে দেখুন কত জোরে শব্দ হয়। কাপড়ের গিট খুলে চাবি নিয়ে কোনো শিশু ছাদে খেলবে, তাও আবার পাওয়া যাবে ছাদের কোণে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পত্রিকায় ছাপা হলো আর রাস্তায় পাঠকের কাছ থেকে পত্রিকা কেড়ে নিয়ে স্বল্প শিক্ষিতা মেয়েটি পত্রিকা পড়ে কামালের কীর্তি জানবে_ বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হয়নি। হোটেল ভাড়া বাকি পড়াতে ওর তো দালালের খপ্টপ্পরে পড়ার কথা। হোটেল ম্যানেজারের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়া এত সোজা? মেয়েটি বাসা থেকে পালানোর সময়ও গৃহকর্তা অন্যত্র বাসা ভাড়া নিশ্চিত করেননি। স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র বাসা ভাড়া করে চলে যাওয়া সম্ভব নয়। এরপরও যেহেতু গৃহকর্তা ও কর্ত্রী খারাপ মানুষ ছিলেন না সেহেতু অন্য আত্নীয়-স্বজনের জন্য হলেও বাড়িওয়ালা বা নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে নতুন বাসার ঠিকানা দিয়ে যেতেন। এ ধরনের অসঙ্গতির অভাব নেই।
গল্পটির র্বণনা একেবারেই সরল। নজিবর রহমানদের লেখার মতো। মেয়েটি যখন কামালের সঙ্গে দেখা করে তখনই মনে হয়েছিল চাবিটি হাতছাড়া হয়ে কামালের কাছে চলে যাবে। বাসা পরির্বতনের ইঙ্গিত থেকে আশঙ্কা হয়েছিল লেখক মেয়েটিকে সর্বশ্বান্ত করে বাসায় ফিরিয়ে আনবে। বাসায় ফিরে দেখবে কেউ নেই, যা যৌক্তিক মনে হয়নি। কানা ছেলেকে পদ্মলোচন হিসেবে তিতাস সাহেব দাবি করেছেন, কারণটা একেবারেই বোধগম্য নয়।
মুজিব রহমান
শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ, বিক্রমপুরঅপাঠকের রবীন্দ্রভক্তির জবাবেকালের খেয়ায় রবীন্দ্র বিতর্ককে বধর্িত করার জন্য এ লেখা নয়। একজন অপাঠকের অযাচিতভাবে রবীন্দ্র-বিতর্কে অবতীর্ণ হওয়ার দুঃসাহস দেখে চমকে গিয়েই এ লেখা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কালের খেয়ায় চলতি বিতর্ক মূলত রবীন্দ্র বিতর্ক নয়, 'রবীন্দ্র মৌলবাদী', 'রবীন্দ্র বিবেষী' বা 'রবীন্দ্র মূর্খ'দের যথেচ্ছাচার মাত্র।
তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল রবীন্দ্র-উত্তর সব কবির কবিত্বকে খাটো করা। রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা কবিতা সম্পর্কেও নূ্যনতম জ্ঞান নেই বলেই তিনি এমনটি করেছেন। তার মতে, প্রকৃত কবি জীবন দেবতার নিদরাউশে কবিতা রচনা করেন। তাই রবীন্দ্রনাথই প্রকৃত কবি এবং একমাত্র কবি। তিরিশ-উত্তর কবিরা জীবন দেবতার নিদরাউশ পাননি বলে তারা প্রকৃত কবি নন। তিনি মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ 'ঈশ্বর নিদরাউশিত সার্বজনীন কবি' আর তার পরের কবিরা 'মানুষের নির্বাচিত স্বল্প পরিসরের কবি'। তার এ বক্তব্যে রবীন্দ্র-উত্তর কবিদের সঙ্গে ঈশ্বরের প্রকাশ্য বিরোধের গন্দ পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি বলতে চান ঈশ্বর রবীন্দ্রনাথকে কবি বানিয়ে তারপর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, জন্মের পর রবীন্দ্রনাথ কবিত্ব অর্জন করেননি।
তিরিশ-উত্তর কবিতার নতুন বাঁককে স্বীকার করেই তিনি বলেছেন, 'অন্তরের অদৃশ্য কোনো প্রেরণা ছাড়াই আমাদের তিরিশ-উত্তর কবিরা রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের চেষ্ঠা করলেন।' আমার প্রশ্ন, অন্তরের অদৃশ্য প্রেরণা বা কবিত্বশক্তি ছাড়া তিরিশ-উত্তর কবিরা কিভাবে কবিতা লিখলেন এবং নতুন বাঁকের সৃষ্টি করলেন? তিনি আরো ভুল করেছেন এই ভেবে যে, তিরিশের কবিরা নতুন বাঁকের সৃষ্টি করেছেন 'যতটুকু সময়ের প্রয়োজনে তারও বেশি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের প্রত্যাশায়।' কিন্তু এ কথা সর্বজনবিদিত যে, তিরিশের নতুন বাঁক যতটুকু রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের প্রত্যাশায় তারও বেশি সময়ের প্রয়োজনে, কারণ সময়ের প্রয়োজন ব্যতিত কবিতায় কোনো নতুন বাঁক নির্মাণ সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রমের প্রত্যাশাও ছিল সময়েরই অনিবার্য প্রয়োজন।
পত্র লেখকের ধারণা, রবীন্দ্র-উত্তর কবিরা রবীন্দ্রনাথকে আত্নস্থ করেননি। তার অবগতির জন্য উল্লেখ করছি জীবনানন্দ দাশের কয়েক লাইন 'রবীন্দ্রনাথ আমাদের ভাষা, সাহিত্য, জীবনদর্শন ও সময়ের ভেতর দিয়ে সময়ান্তরের গরিমার দিকে অগ্রসর হবার পথ যেরকম নিরঙ্কুশভাবে গঠন করে গেছেন পৃথিবীর আদিমকালের মহাকবি ও মহাসাধুরাই তা পারতেন; ইদানীং বহু যুগ ধরে পৃথিবীর কোনো দেশই এ রকম লোক-উত্তর পুরুষকে ধারণা করেনি।' এরপর তিনি কী করে বলেন, তিরিশ-উত্তর কবিরা রবীন্দ্রনাথকে 'বাদ দিতে' চেয়েছিলেন? তিনি আরো মনে করেন, তিরিশের কবিরা শুধু রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্যই কবিতা লিখেছেন। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, 'আমরা মনস্বী অগ্রজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব এ রকম একটা পরামর্শ এঁটে নতুন কবিরা পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে না।'
শুনে বিস্টি্মত হলাম, আজ পর্যন্ত রবীন্দ্র-উত্তর কোনো কবিই নাকি রবীন্দ্রনাথের ঋণ স্বীকার করেননি, তাই তিনি অনাগতকালের কোনো এক কবির অপেক্ষায় দিন গুণছেন, যিনি প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথের ঋণ স্বীকার করবেন এবং সে কারণেই বড় কবি হতে পারবেন। তিনি 'জোর দিয়ে' বলেছেন, 'র্বতমানে কবিতার স্থান মানুষের অন্তরে আগের মতো নেই', কারণ কবিতা 'অন্তরের নিঃসঙ্গ জগতে বিচরণ বাদ দিয়ে নেমে এলো জনমুখরিত পৃথিবীর কোলাহলে।' এ বক্তব্য কতটা হাস্যকর তা পাঠকমাত্রই বুঝবেন। তার প্রধান অভিযোগ হচ্ছে, রবীন্দ্র-উত্তর কবিতা 'মানুষের কথা, মানুষের জীবনাচরণ, মানুষের দুঃখ-কষ্ঠ, বঞ্চনা-নিপীড়ন, যন্ত্রণা, সংগ্রাম আর প্রতিবাদের ভাষা'। কাজেই তিনি যে মধ্যযুগেই বসবাস করছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রবীন্দ্রভক্ত হতে গিয়ে যিনি রবীন্দ্র-উত্তর সব কবিদের কৃতিত্বকে খর্ব করলেন এবং বললেন, 'রবীন্দ্রনাথ সব বিতর্কের ঊধের্্ব' তিনি কি প্রথমসারির রবীন্দ্র মৌলবাদী নন?
মেহেদী হাসান অপুর ধৃষ্ঠতা দেখে অবাক হতে হয়। সাহিত্যের পাঠক না হয়ে তিনি কেন যে পাঠকের কলমে লিখে পাঠক হওয়ার মূল্যবান সময় নষ্ঠ করলেন! তিনি হয়তো জানেন না নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে পাঠকের কলমকে আরো জমজমাট করার জন্যই সম্পাদক মাঝে মধ্যে তার মতো অযোগ্য লোকের লেখা ছাপেন, যাতে প্রকৃত সত্যটা তারা জানতে পারেন, বুঝতে পারেন নিজেদের কলমের দুর্বলতা।
রাজীব ভট্টাচার্য
পাইকপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়াউম্মে মুসলিমার হ য ব র লপত্রিকার বিভিন্ন সাময়িকীর সুবাদে উম্মে মুসলিমার লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে কালের খেয়ায় প্রকাশিত লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছি বিগত দিনে। প্রতিটি লেখা ('ডার্করুম সহকারী', 'অসম' 'সৌদি চুড়ি') পড়ার শেষে বারবারই মনে হয়েছে তার প্রেক্ষিতে কিছু লেখি। কিন্তু সেই কাজটি হয়ে উঠেনি মূলত অলসতার কারণে। যাই হোক, এবার ৬৪-তম সংখ্যায় তার লেখা গল্প 'জেবুল্পিম্নসা' পড়ে মনে হলো সতি্যই কিছু লেখা দরকার।
জেবুল্পিম্নসা গল্পের শুরু এভাবে, 'আরতি রানী দত্ত ম্যাট্রিক পরীক্ষার পরপর বাড়ি থেকে উধাও।' অর্থাৎ গল্পের শুরুতে পাঠকদের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, আরতি যখন পরীক্ষা দেয় তখন দেশে ম্যাট্রিক (ম্যাট্রিকুলেশন; এসএসসি নয়) ধারণা প্রচলিত। তার মানে ঘটনার সময়কাল নিদরাউশ। তবে আরো একটি জায়গায় সময়কালের ধারণা পাওয়া যায়। গল্পের চরিত্র সাবু (সাবদু্দিন) সম্পর্কে লেখক বলেন, 'রামচন্দ্রপুরে ও রকম নায়করাজরাজ্জাক কাটিং (রাজ্জাক কাটিং?) চেহারা আর ক'জনের আছে?' সুতরাং এ থেকে আমরা ধরে নিতে পারি গল্পের সময়কাল সত্তর থেকে আশি দশকের মাঝামাঝি। তখন অনেক তরুণই নায়ক রাজ্জাক ্টারা প্রভাবিত হতেন। সেই সময়ের একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ে আরতি এবং আপাদমস্তক মুসলিম পরিবারের ছেলে সাবুর সংক্ষিপ্ত প্রেমকে কেন্দ্র করে গল্পের ব্যাপ্তি। আর সেই আরতির র্বণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন, 'মুখখানা যেন ঠিক সরস্বতী ঠাকুরের মতো (ঠিক বুঝলাম না 'সরস্বতী ঠাকুর' কথাটার মানে কি?)। সেই আরতি প্রতিদিন সাবুর দোকানের সামনে দিয়ে স্কুলে যায়। গল্পকার দু'জনের মধ্যে প্রেম বোঝাতে শুধু ইঙ্গিত করেছেন, 'সাবুর দিকে আরতি একবার তাকাবে, সাবু তাতে নিশ্চিত ছিল।' এছাড়া যেহেতু প্রেম কি করে হলো তার আর কোনো ইঙ্গিত নেই, তাই ধরে নিতে পারি লেখক আমাদেরও বলছেন যে, এদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে আপনারা নিশ্চিত থাকুন। গল্প থেকে আরো জানা যায় সেই সময়ের একটি মফস্বল এলাকার গঞ্জে আরতির জ্যাঠাত ভাইয়ের দোকানে এবং সাবুর দোকানে টেলিফোন রয়েছে! সেই টেলিফোনের সাহায্যেয ঝ্যাঠাত ভাই দোকান থেকে খেতে গেলে আরতি সাবুর সঙ্গে ফোনে ফিসফিসিয়ে কথা বলে। অর্থাৎ সেই সত্তর-আশি দশকে ফোনালাপে প্রেম! তবুও লেখককে ধন্যবাদ, তিনি চরিত্রগুলোর হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেননি! সেই ফোনালাপে আরতি এতই মগ্ন হয় যে, ইসলামী নিয়মকানুন শেখার জন্য বাজার থেকে নিজেই 'সহজ নামাজ শিক্ষা' কিনে আনে! প্রেমাসক্ত আরতি নিজেকে প্রস্থুত করতে থাকে ইসলামের জন্য! অবশ্য লেখক এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, 'আরতিরও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই।' সাবুরা এলাকায় প্রভাবশালী। অবস্থাসম্পন্ন মিয়া বাড়ির দরাজ মিয়ার তৃতীয় ও কনিষ্ঠ পুত্র সে। তার পিতা আবার মসজিদের ইমাম। আর সেই ইমামের ছেলে সাবু ভাগিয়ে নিয়ে আসে আরতিকে নিজের বাড়ি। এদিকে আবার হারিয়ে যাওয়া আরতিকে দু'দিনেও খুঁজে পায় না তার পরিবার। পরে আরতির মা মেয়ের বালিশের নিচে থেকে নামাজ শিক্ষা এনে তার ভাশুরের ছেলেদের দেখান (আরতির বাবার কোনো উল্লেখ নেই) তা দেখে জ্যাঠাত দাদা লক্ষণ যৌতুকে পাওয়া হ্যান্ড্রেড টেন (হান্ড্রেড টেন! রাজ্জাকের সময়কালে!) মোটরবাইক চালিয়ে সাবুর বাড়ি খুঁজতে আসে। আমরা লক্ষ্য করি যে, গল্পে আরতির দাদা হ্যান্ড্রেড টেন মোটরসাইকেল চালায়, দোকানে টেলিফোনও আছে। অপরদিকে সাবুর বাবা চলাচল করেন ছইওয়ালা মহিষের গাড়ি দিয়ে। এসবের প্রেক্ষিতে আসলে কে যে অবস্থাসম্পন্ন, প্রশ্ন জাগে? তারপরও লেখক যেহেতু বলেছেন সাবুর বাবা অবস্থাসম্পন্ন অতএব, সাবুর বাবাই অবস্থাসম্পন্ন। সে অবস্থাসম্পন্ন; কড়া ইমাম (গল্পে উল্লেখ আছে, দরাজ মিয়ার কড়া নিদরাউশ, তার জীবদ্দশায় কেউ আলাদা হতে পারবে না)। পিতার কনিষ্ঠ পুত্র হিন্দু মেয়েকে বউ করার জন্য নিয়ে আসায় তিনি খুবই পুলকিত! তার পুলকের র্বণনা পাওয়া যায় আরতিকে খুঁজতে আসা জ্যাঠাত ভাইয়ের সঙ্গে কথোপকথনে। তিনি তাকে সাবুর বন্দু ভেবে বলেন, 'ও, সাবুর ইয়ার বুঝি আপনি? এত দেরি করলেন আসতে? আজ তো আবার আমার সাবুর বৌভাত। কোনো অসুবিধা নেই। আপনি তসরিফ রাখুন। হাতে-মুখে পানি দেন। আমি আগে খানার ব্যবস্থা করি।' পরে যখন তিনি আরতির জ্যাঠাত ভাইকে চিনতে পারেন, তখন সাবুকে উদ্দেশ করে বলেন, 'তোর বড় কুটুম বুঝি? আরে আপনি হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে সম্মানিত মেহমান।... সাবু তুই আমার জেবুল্পিম্নসা মাকে নিয়ে আয়' অর্থাৎ এই ফাঁকে বিয়ে হয়েছে। আরতির নাম বদলিয়ে রাখা হয়েছে জেবুল্পিম্নসা। সেই জেবুল্পিম্নসা কি সাবলীলভাবে তার জ্যাঠাত ভাইয়ের সামনে এসে বলে, 'মা-বাবাকে চিন্তা করতে নিষেধ করবে। আমি খুব ভালো আছি।' এই তার পরিবারের সঙ্গে শেষ আলাপ। পরর্বতী অংশে চলে জেবুল্পিম্নসা ওরফে আরতির মুসলিম রীতি-নীতি আত্নস্থ করার পালা।
সাবুর বাবার উদারতা মুগ্গব্দ হওয়ার মতো। তবে আমরা তো এই সমাজেরই মানুষ। তাই সমাজের মানুষগুলোর বৈশিষে্ট্যর কথা কম-বেশি সবার জানা আছে। আজ এ একবিংশ শতাব্দীতেও দরাজ মিয়ার মতো উদারপন্থি ইমাম, যে কিনা মহাখুশিতে তার হিন্দু পুত্রবধহৃকে বরণ করে নেয়; চোখে পড়ে না। আর সময়টা যদি হয় সত্তর-আশির দশকের মফস্বল_ তবে তো কথাই নেই। গল্পের আরো কিছু ব্যাপার অবাক করে দেয়। আমরা জানি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যুগ যুগ ধরে ঢাক-বাজিয়ে শারদীয় দর্গাউৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু তা বাজানো হয় কিছু নির্দিষ্ঠ সময়ে। যেমন ষষ্ঠীতে সন্দ্যার পর ঢাক বাজিয়ে ধহৃপ জ্বালিয়ে পূজা ম-পগুলোতে বোধন সম্পন্ন করা হয়। এ রীতি হয়তো মুসলমান অধু্যষিত এলাকায় রমজান মাসে হলে সময়ের কিছুটা এদিক-সেদিক করে পালন করা হয় কিন্তু কখনোই তা ভোরে চলে যায় না। গল্পকার যখন লেখেন, 'পরদিন ষষ্ঠী। ঠাকুর ভিটেয় উঠবে। ভোরবেলা ঢাকে কাঠি পড়ল। আরতির বুকের মধ্যে বদ্যো বেজে উঠল...' তখন বদ্যো আমাদের বুকেও বেজে উঠে আর তা হচ্ছে বিস্ময়ের! আর বিস্ময় নিয়ে ভাবি, একি অন্য রীতির প্রতি লেখকের অবহেলা নাকি অজ্ঞতা? অজ্ঞতাই বা বলি কি করে!
গল্পটা পড়ে কি বোঝা গেল কিংবা কেন লেখা হলো; তার কোনো উত্তর মিলে না। এই গল্পের উদ্দেশ্য কি প্রশ্ন করলে যদি উত্তর হয় জেবুল্পিম্নসা ওরফে আরতির মাধ্যমে রমজান মাস উপলক্ষে পাঠকদের আবারো ইফতারের দোয়া (গল্পে আরতির মুখ দিয়ে সম্পূর্ণ ইফতারের দোয়া পড়িয়েছেন গল্পকার) মনে করিয়ে দেওয়া, তবে উদ্দেশ্য একেবারে সফল। ধান ভানতে শিবের গীতটা একটু বেশি গাওয়া হলো; এই যা। আর যদি গল্পের শিল্পমূল্যের দাবি ওঠে তবে কিন্তু পাঠক নিরুপায়।
প্রকাশক কিংবা সম্পাদকের অনুরোধে অনেক লেখকই লেখা তৈরি করেন। 'জেবুল্পিম্নসা' গল্প পড়ে মনে হয়েছে যেন লেখককে কেউ বলেছেন, সামনে রোজা এবং পূজা। এ পূজা আর রোজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারকে নিয়ে একটি প্রেম জাতীয় লেখা তৈরি করুন, যা পাবলিক খাবে। আর যেহেতু আপনি মুসলমান এবং মুসলিমপ্রধান দেশ সুতরাং সে ধর্মই যেন প্রাধান্য পায়। এরকম ঘটনা যদি অন্য যে কোনো সাময়িকীর ক্ষেত্রে ঘটত তাহলে বলার কিছু ছিল না। কিন্তু কালের খেয়াকে কেন্দ্র করে আরোপিত, ফরমায়েশি লেখক গড়ে উঠুক; এমনটা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা যারা পাঠক তারা জানি, গল্পকারকে সমাজ, সময়, সংস্কার ও কাহিনী র্বণনায় সজাগ থাকতে হয়। খেয়াল রাখতে হয় লেখাটা যেন শুধু শুধু কলমের টানে এগিয়ে না গিয়ে বিবেক-বোধ, যুক্তি ্টারা পরিচালিত হয়। সেসঙ্গে পাঠকের আস্থা ও চাহিদাকে মাথায় রেখে সম্পূর্ণ বিশ্বস্তভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনও রয়েছে। আরোপিত কাহিনী পাঠকরা চিরকালই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে লেখককেও। কিন্তু এমনটি যেন উম্মে মুসলিমার ক্ষেত্রে না ঘটে। কারণ এই গল্পকারের লেখার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে। শুধু ক্ষমতাটা একটু যাচাই করে একটা গল্প তার কাছে যতটুকু সময় দাবি করে সেই অনুপাতে ব্যবহার করা উচিত। আর একজন পাঠক হিসেবে তার কাছে এটুকু দাবি নিশ্চয়ই করতে পারি?
সুমন আজাদ
শাবিপ্রবি, সিলেট


প্রকাশিত লেখার লিংক

শাবিপ্রবির জটিলতা দূর হোক/সুমন আজাদ

শাবিপ্রবি বন্দ। এ কথাটা এখন সবার জানা। কিন্তু কেউই জানেন না, খুলবে কবে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ক্যাম্পাস আজ নিথর। নিথর ক্যাম্পাসে শুধু হেঁটে বেড়ায় কিছু বিষণম্ন শিক্ষার্থী। অসহায় চোখগুলো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে চারপাশের জড় দালানগুলো। আর জড় পদার্থগুলোকে দেখে শুধু মনে পড়ে এমন স্বভাবের কিছু মানুষের কথা, যাদের জন্য আজ থেমে আছে সাড়ে ৬ হাজার ছাত্রছাত্রীর সুন্দর ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রা। কী এমন ঘটেছিল যার জন্য আজ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে শাবিপ্রবি অচল?
চলুন জানা যাক সেদিনের কথা : আর সব স্বাভাবিক দিনের মতো সেদিনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরেছে সবাই। বিভিন্ন ডিপার্টমেনাউটর পরীক্ষা ছিল কাছাকাছি সময়। আর তাই যে যার মতো করে প্রস্থুতি নিচ্ছেল। সন্দ্যার পরপরই রটে যায়, শাবির কিছু ছাত্রকে পাঠানটুলায় রাকীব-রাবেয়া কলেজে আটকে রাখা হয়েছে। সহপাঠী বন্দুদের এমন অবস্থার খবর শুনে কেউই বসে থাকতে পারেনি। তিন কিলোমিটার দূর থেকে ছাত্র হলগুলোর ছাত্ররা ছুটে আসে রাকীব-রাবেয়া মেডিকেলের সামনে। সময়ের ব্যবধানে সেখানে আগেই পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের সঙ্গে মেডিকেল কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে যখন ছাত্রদের কথা কাটাকাটি চলছে, তখন আগ্রহী কিছু ছাত্র গেটের ভেতরে ঢুকে এগুতে চাইলে পেছন থেকে গুলি করে পুলিশ। গুলির সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কয়েকটি তাজা প্রাণ। পুলিশের আকস্টি্মক আক্রমণে সবাই যেন হতবাক। তাৎক্ষণৎ আহত ছাত্রদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো গাড়ি না পেয়ে পুলিশের কাছে গাড়ি চাইলে তারা তা দিতে অপারগতা জানায়। যেন তারা ক্রসফায়ার করে ফেলে রেখেছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের দেহ!
এসব ঘটনা পর্যন্ত আমাদের উপাচাযরাউর কোনো ভূমিকাই ছিল না! সঙ্গত কারণেই সহপাঠীদের হাসপাতালে রেখে এসে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেই রাতেই উপাচাযরাউর বাসভবন অবরোধ করে। পরে পুলিশের গুলিতে আহত শামীম মারা গেলে সব শিক্ষার্থী উপাচাযরাউর পদত্যাগ দাবি করে। অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের মুখে এক সময় তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা ছিল সেই মুহহৃতরাউ প্রত্যাশিত। তখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্দ ঘোষণা করলে সবাই ভাবে যে গ্রীষ্ফ্মের ছুটির পর খুলে যাবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই উপাচার্য আবার স্বপদে ফিরে এলেন। তাই আবারো নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয় শাবিপ্রবি নিয়ে। পরে উপাচাযরাউর পদত্যাগ ও শামীম হত্যাসহ যাবতীয় ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদনেস্নর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে যেসব শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কিংবা বাম ধারার তারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপাচাযরাউর পদত্যাগই একমাত্র সমাধান মনে করে তারা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ডানপন্থি শিক্ষকরা এ পরিস্থিতিতে উপাচাযরাউর পক্ষে অবস্থান নিলেও সব শিক্ষকই চান শিক্ষা কার্যক্রম যেন শুরু হয়। তবে আশ্চর্য এক কারণে উপাচার্য আজো বহাল আছেন। কিন্তু র্বতমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটা বিষয় সুনিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন মুখোমুখি দুটি দল। এক. যারা ভিসির পদত্যাগ দাবি করছে। দুই. ভিসি নিজে। কারণ ভিসির পদত্যাগের জন্য যারা আন্দোলন করছে তাদের আন্দোলন ভিসি পদত্যাগ করলেই থেমে যাবে। অপরদিকে যারা সরকারপন্থি বা ভিসির পক্ষে, তারা কখনোই ভিসি পদত্যাগ করলে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করবে না। কারণ ভিসি যখন প্রথমবার পদত্যাগ করেন তখন তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো আন্দোলন হয়নি। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এই শাবিপ্রবি নিয়ে নেতাদের নিষ্ফি্ক্রয়তা। আজ পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী-এমপি শাবি নিয়ে একটি কথাও বলেননি। সরকারি কিংবা বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীরা মুখে কুলুপ এঁটে আছেন। তারা একবারও এই সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা নিজেদের মূল্যবান কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন না! অথচ এদেরও ভোট আছে! আছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ছোট-বড় একটা পরিবার। যারা নিশ্চয়ই ব্যালটে সিল দিতে এ কথা মনে রাখবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যথেষ্ঠ যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে থাকে এক একজন শিক্ষার্থী। এসব মেধাবী ছাত্রছাত্রী শিক্ষাজীবনে বারবার বাধাগ্রস্ত হলে সঙ্গত কারণেই হতাশ হয়ে পড়ে। আমাদের মতো দেশে শিক্ষাজীবন শেষে এক একজন শিক্ষার্থীর যে ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে, তা মোটেও সুখকর নয়। তারপরও যদি মেধাবী মাথাগুলো ব্যর্থতার দায়ে এখনই নুয়ে পড়ে, তার দায় কে নেবে? উপাচার্য যে এলেন কে গেলেন_ এতে আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রছাত্রীর মাথাব্যথার তেমন কিছু নেই। আমরা শুধু চাই বিশ্ববিদ্যালয় চলুক তার আপন গতিতে। আর সেই গতিধারার সঙ্গে ভালো মিলিয়ে চলুন তারুন্যের স্বপম্নবুনন। এক একটি চোখ জ্বলজ্বল করে উঠুক সম্ভাবনার দু্যতি নিয়ে। শাবি ক্যাম্পাস থেকে শুরু হোক তারুন্যের জয়যাত্রা। আর সেই জয়যাত্রার পালে কখনো যেন না লাগে একটিও অনাকাঙ্খিত পালক।
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, শাবিপ্রবি, সিলেট

সমকাল
প্রকাশিত লেখার লিংক